pdf নারী ও পুরুষ ভুল করে কোথায় nari o purush vul kore kothay

pdf নারী ও পুরুষ ভুল করে কোথায় nari o purush vul kore kothay

nari o purush vul kore kothay
নারী ও পুরুষ ভুল করে কোথায় আল বাহি আল খাওলি
প্রকাশনীঃ পিস পাবলিকেশন
বইয়ের সাইজঃ ৫-এমবি
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ২৯১
বইয়ের ফরম্যাট পিডিএফ ই-বুক
বিভাগঃ পারিবারিক জীবন
কৃতজ্ঞতায়ঃ বাগী কুঞ্জালয় পাঠাগার

ইসলামে নারীর মানবাধিকার

আমরা ইতিমধ্যেই উল্লেখ করেছি যে, অতীতের অনেক সভ্য সমাজেও তা ধর্মভিত্তিক হোক বা ধর্মহীন নির্বিশেষে নারীকে মানুষ বলে স্বীকার করা হবে কি না তা তর্ক-বির্তকের বিষয় ছিল। তারা এ ধরনের প্রশ্ন উত্থাপন করত, নারীও কি পুরুষের মতো উপাসনা করতে সক্ষম? নারীও কি পুরুষের মতো পরকালীন জীবনে প্রবেশ করবে? একটি বিষয়ে তাদের মতৈক্য ছিল যে, নারী হচ্ছে এক অপবিত্র জীব। একে শুধু পুরুষের সেবা ও মনোরঞ্জনের জন্যই এ পৃথিবীতে সৃষ্টি করা হয়েছে। এ এরকম আরও বহু অর্থহীন ও নোংরা ধারণার শিকারে পরিণত ছিল প্রাচীন যুগের পুরুষ সম্প্রদায়। এমন অমানবিক চিন্তাধারা ও কার্যকলাপ যখন চরম সীমায় উপনীত হয় তখনই নারী তথা সমগ্র নির্যাতিত মানবতার চিরমুক্তির পয়গাম নিয়ে পৃথিবীর বুকে ইসলামের আবির্ভাব ঘটে।

ইসলাম প্রথমেই নারী জাতির অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করে। তার দায়িত্ব ও কর্মক্ষেত্র নির্ধারণ করে, তার পূর্ণ মানবিক অধিকার বহাল করে এবং নারীর এত বেশি মর্যাদা দেয়া হয় যে, সাহাবারা পর্যন্ত অবাক হয়ে যান। নারী জাতিকে হাজার হাজার বছরের শোষণ-নির্যাতন, অবিচার-বঞ্চনা ও অত্যাচার-অধীনতার নির্মম নাগপাশ থেকে পূর্ণ মুক্তি দেয়ার জন্যে ইসলামের এসব ঘোষণা ও ত্বরিৎ পদক্ষেপ গ্রহণ একান্ত অপরিহার্য ছিল।

ইসলাম নারীর পূর্ণ অর্থনৈতিক স্বাধিকার দিয়ে তাকে পুরুষের সমান অধিকার ও ক্ষমতা অর্পণ করে। এভাবে নারীকে শতাব্দীর নিষ্ঠুর শোষণের অক্টোপাশ থেকে স্বাধীন করে তার ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনকে উজ্জ্বল করে তুলে। এর চেয়েও বড় কথা, ইসলাম নারীকে সমাজের উল্লেখযোগ্য অংশীদার গণ্য করে তার ওপর সমাজ সংস্কারের দায়িত্বও ন্যস্ত করে। তার কর্মক্ষেত্র ও তার ভূমিকা পালনে সীমা নির্ধারণও করে দেয় ইসলাম। নারী সমাজ যাতে তাদের উন্নত মর্যাদায় নির্দেশ যথার্থ পথে অগ্রগতি অর্জন করতে পারে এবং নিজেদের হীনমন্যতা, পুরনো বিভ্রান্তি ও কুসংস্কার থেকে মুক্তির পথ খুঁজে নিতে পারে সে জন্যে ইসলাম সঠিক ও বাস্তবানুগ কর্মপন্থা নির্ধারণ করে।

নারী ও পুরুষ ভুল করে কোথায়

নারীর ধর্মীয় মর্যাদা আমরা পূর্বেই ইঙ্গিত প্রদান করেছি যে, নারীর ধর্মীয় অধিকার ও মর্যাদার ব্যাপারটি খোদাভীরুতার উপদেশ দানের মধ্যেই নিহিত আছে। এর কারণ হলো তার মানবিক বৈশিষ্ট্যের স্বীকৃতি অর্থাৎ বুদ্ধিগত ও আধ্যাত্মিক দিক থেকে তার দায়িত্ব ঠিক পুরুষেরই সমান এবং এ ব্যাপারে তাকে পুরুষের মতোই যোগ্য বলে গণ্য করা হয়েছে। এ কারণেই আল্লাহ তা'আলা যখন আদি মানব আদমকে বেহেশতে থাকার জন্যে বলেন এবং নিষিদ্ধ গাছের ফল ভক্ষণ করতে নিষেধ করেন তখন সেই আদেশ ও নিষেধের বাধা অতিক্রম করে সম্বোধন আদি মাতা হাওয়ার প্রতিও ছিল, যেমনটি ছিল হযরত আদমের প্রতি। পবিত্র কুরআনে এ সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে:
"এবং হে আদম! তুমি এবং তোমার স্ত্রী উভয়ই এ জান্নাতে বসবাস করতে থাক, সেখানে যে জিনিস তোমাদের ইচ্ছে হয় খাও, কিন্তু ঐ বৃক্ষের নিকট যেও না, নয়তো অত্যাচারীদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। (সূরা আরাফ: আয়াত-১৯)
এরপর যখন আল্লাহ তা'আলা তাদের অবাধ্যতার জন্যে ভর্ৎসনা করেন তখনও উভয়কে একই সাথে সম্বোধন করে বলেন:
"আমরা কি তোমাদের উভয়কেই ঐ গাছের নিকটে যাওয়া থেকে বাধা দিইনি।"

তাছাড়া ইসলাম নারী-পুরুষের ক্ষমতার শুধু সংবাদই দেননি বরং তাকে হাতে কলমে বাস্তবায়ন ও তার স্থায়িত্ব এবং স্থিতিশীলতা দানের উদ্দেশ্যে তাদের প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন সম্পর্কে আল্লাহর দরবারে জবাবদিহির উপলব্ধিও সৃষ্টি করেন। এর সাথে সাথে নারীদের ইসলাম ধর্ম গ্রহণে একটি বিশেষ বাইয়াতের আয়োজনও করা হয় যেন তাদের এক পৃথক মর্যাদা স্বীকৃত হয় এবং তারা যেন শুধুমাত্র বাবা, ভাই বা অন্য কোনো মানুষের চাপে পড়ে ইসলাম কবুল না করে। ইসলাম গ্রহণ করা সম্পর্কেও নারীদের পরিপূর্ণ ব্যক্তি স্বাধীনতার অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়েছে।

নারীর সামাজিক অধিকার

ইসলাম নারীর সামাজিক অধিকারও দিয়েছে এবং এ উদ্দেশ্যে নিম্নবর্ণিত আইনবিধি প্রবর্তন করেছে-
ক. মেয়ে যখন বালেগ অর্থাৎ প্রাপ্তবয়স্কে পৌঁছে এবং তার জ্ঞান-বুদ্ধির বিকাশ ঘটে সব বিষয় ও সম্পর্কে ভালো করে অনুধাবন করতে শুরু করে তখন তার ব্যক্তিগত ধনসম্পদ ও নিজের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের যাবতীয় অধিকার অর্জিত হয়ে যায়। এখন সে চাইলে পৃথক কোনোরূপ বাসগৃহেও অবস্থান করতে পারে। এ ব্যাপারে তার আত্মীয়স্বজনের হস্তক্ষেপ করার কোনো অধিকার নেই, তাকে কেউ নিজেদের সাথে থাকার জন্যে বাধ্য করতে পারে না। অবশ্য শর্ত হলো সে যেন সচেতন ও সজ্ঞান হয় যাতে নিজেই তার জানমাল ও ইজ্জত আব্রুর নিরাপত্তা বিধান করতে পারে।

শাব্দিক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আহমদ ইব্রাহীম বলেন, "মেয়ে যখন যৌবনপ্রাপ্ত হয়, বা বিবাহিতা হোক বা অবিবাহিতা তার অবস্থা যদি অসন্তোষজনক হয় তাহলে তার পিতা অথবা অন্য কোনো দায়িত্বশীলের এ অধিকার বর্তায় যে, সে তাকে নিজের কাছেই থাকার জন্যে বাধ্য বাধকতা প্রয়োগ করবে। কিন্তু মেয়ে যদি জ্ঞানী বুদ্ধিমতী ও মর্যাদাবান হয় তাহলে তাকে কাছে রাখার জন্যে বাধ্য করার অধিকার কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তির থাকে না। অবশ্য বিয়ের পর মেয়ের এ অধিকার স্বভাবতঃই সমাপ্ত হয়ে যায় এবং তার পক্ষে স্বামীর সাথে অবস্থান করা অপরিহার্য হয়ে উঠে যেন সে তার দাম্পত্যের অধিকার ও দায়িত্ব যথাযথ পালন করতে পারে। এটা এমন এক স্বাভাবিক কথা যার ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের কোনো প্রয়োজন নেই।"

নারী ও পুরুষ পরস্পরের বন্ধু ও অভিভাবক nari o purush porosporer bondhu

নারী ও পুরুষ পরস্পরের বন্ধু ও অভিভাবক nari o purush porosporer bondhu

nari o purush porosporer bondhu
নারী ও পুরুষ পরস্পরের বন্ধু ও অভিভাবক মাসুদা সুলতানা রুমী
প্রকাশনীঃ আহসান পাবলিকেশন
বইয়ের সাইজঃ ১-এমবি
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৪২
বইয়ের ফরম্যাট পিডিএফ ই-বুক
বিভাগঃ পারিবারিক জীবন
কৃতজ্ঞতায়ঃ বাগী কুঞ্জালয় পাঠাগার

পুরুষের প্রতি নারীর আনুগত্য

হাদীসে উল্লেখিত হয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "সেই স্ত্রীই সর্বোত্তম, যাকে দেখলে তোমার মন আনন্দে ভরে যায়। তুমি তাকে কোনো আদেশ করলে সে তোমার আনুগত্য করে। আর তুমি ঘরে না থাকলে সে তোমার অনুপস্থিতিতে তোমার ধন সম্পদের ও তার নিজের হেফাজত করে।"

এ হাদীসটি এই আয়াতের চমৎকার ব্যাখ্যা পেশ করে। কিন্তু একথা ভালোভাবে বুঝে নিতে হবে যে, স্ত্রীর জন্য নিজের কাওয়ামের আনুগত্যের চাইতে বেশী গুরুত্বপূর্ণ এবং অগ্রগণ্য হচ্ছে আল্লাহর আনুগত্য। কাজেই কোনো পুরুষ যদি তার স্ত্রীকে আল্লাহর নাফরমানি করার হুকুম দেয় অথবা আল্লাহর অর্পিত কোনো ফরজ থেকে তাকে বিরত রাখার প্রচেষ্টা চালায় তাহলে এ ক্ষেত্রে তার আনুগত্য করতে অস্বীকার করা স্ত্রীর জন্য ফরজ হয়ে দাঁড়ায়। এ অবস্থায় যদি স্ত্রী তার 'যওজি'র (হাসব্যান্ডের) আনুগত্য করে তাহলে সে গোনাহগার হবে। বিপরীত পক্ষে পুরুষ যদি স্ত্রীকে নফল নামাজ বা নাফল রোজা রাখতে নিষেধ করে তাহলে হাসব্যান্ডের কথা মেনে চলা তার জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় নফল ইবাদত করলে তা আল্লাহর কাছে গৃহীত হবে না। অবশ্য সেই পুরুষকে খাঁটি মুমিন হতে হবে এবং ইবাদতের গুরুত্ব উপলব্ধি করার মতো বিবেক থাকতে হবে।

চতুর্থ পয়েন্টে অবাধ্য নারীর সাথে আচরণের সীমা কতদূর তার আলোচনা করা হয়েছে। তিনটি কাজ একই সংগে করার কথা এখানে বলা হয়েনি। বরং এখানে বক্তব্য হচ্ছে, অবাধ্যতা দেখা দিলে এই তিনটি ব্যবস্থা অবলম্বন করার অনুমতি রয়েছে। এখন এগুলোর বাস্তবায়নের প্রশ্ন। এ ক্ষেত্রে অবশ্যি দোষ ও শাস্তির মধ্যে আনুপাতিক সম্পর্ক থাকতে হবে। যেখানে হালকা ব্যবস্থায় কাজ হয়ে যায়, সেখালে কঠোর অবস্থা অবলম্বন না করা উচিৎ। নবী (সা.) যেখানেই স্ত্রীদের মারার অনুমতি দিয়েছেন। সেখানেই তা দিয়েছেন একান্ত অনিচ্ছাসহকারে এবং লাচার হয়েই। আবার তারপরও একে অপছন্দই করেছেন। তবু কোনো কোনো স্ত্রী এমন হয়ে থাকে যে তাদেরকে মারধর না করলে সোজা থাকে না। এ অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশ হচ্ছে, তাদের মুখে বা চেহারায় মেরো না-। নির্দয়ভাবে মেরো না এবং এমন জিনিস দিয়ে মেরো না যা শরীরে দাগ রেখে যায়।" নারী ও পুরুষ পরস্পরের বন্ধু ও অভিভাবক

(সাধারণভাবে স্ত্রীদের 'গায়ে হাত তোলা' স্বভাবকে রাসূল (সা.) ও করতেন। তিনি বলতেন "তোমাদের মধ্যে যারা স্ত্রী মারা স্বভাবের লোক ভালো মানুষ নও।" সত্যি আমাদের সমাজে কিছু মহিলা এমন আছে যাদের। শান্তি না দিলে পারিবারিক শাস্তিই তারা নষ্ট করে ফেলে। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে তারা এত দুর্ব্যবহার করে যে শাস্তি তাদের প্রাপ্য।

আরও বই ডাউনলোড করুন
কোরআন হাদীস সংকলনের ইতিহাস - একেএম এনামুল হক ডাউনলোড
মুসলমানের নিকট আল কুরআনের দাবী ডাউনলোড
আল কুরআনে অর্থনীতি pdf download ডাউনলোড

আখেরাতের সফলতাই আসল সফলতা
إِنَّ اللَّهَ اشْتَرَى مِنَ الْمُؤْمِنِينَ أَنْفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ بِأَنَّ لَهُمُ الْجَنَّةَ ، يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَيَقْتُلُونَ وَيُقْتَلُونَ لَن وَعْدًا عَلَيْهِ حَقًّا فِي التَّوْرَةِ وَالْإِنْجِيلِ وَالْقُرْآنِ ، وَمَنْ أَوْفَى بِعَهْدِهِ مِنَ اللَّهِ فَاسْتَبْشِرُوا بِبَيْعِكُمُ الَّذِي بَايَعْتُمْ بِهِ ، وَذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ.
"প্রকৃত ব্যাপার এই যে আল্লাহ মু'মিনের জান ও মাল জান্নাতের বিনিময়ে কিনে নিয়েছেন। তারা আল্লাহর পথে লড়াই করে মরে ও মারে। তাদের প্রতি তাওরাত ইনজিল ও কুরআনে আল্লাহর জিম্মায় একটি পাকাপোক্ত ওয়াদা বিশেষ। আর আল্লাহর চাইতে বেশী নিজের ওয়াদা পূরণকারী আর কে আছে? কাজেই তোমরা আল্লাহর সাথে যে কেনাবেচা করেছ সে জন্য আনন্দ করো। এটিই সবচেয়ে বড় সাফল্য।" (সূরা তাওবা: ১১১)
أَلَا إِنْ أَوْلِيَاءَ اللَّهِ لَأَخَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَاهُمْ يَحْزَنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا وكَانُوا يَتَّقُونَ لَهُمُ الْبُشْرَى فِي الْحَيَوةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ ، لَا تَبْدِيلَ لِكَلِمَتِ اللَّهِ ، ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ.
"শোনো যারা আল্লাহর বন্ধু, ঈমান এনেছে এবং তাকওয়ার নীতি অবলম্বন, তাদের কোনো ভয় ও মর্ম যাতনার অবকাশ নেই। দুনিয়া ও আখেরাতে উভয় জীবনে তাদের জন্য শুধু সুসংবাদই রয়েছে। আল্লাহর কথায় পরিবর্তন নেই। এটিই মহাসাফল্য।" (সূরা ইউনুস: ৬২-৬৪)

নারী ও পুরুষ পরস্পরের বন্ধু ও অভিভাবক

আল্লা আবার বলেছেন,
وَعَدَ اللَّهُ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَتِ جَنَّتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَرُ خُلِدِينَ فِيهَا وَمَسْكِنَ طَيِّبَةٌ فِي جَنَّتِ عَدْنٍ ، وَرِضْوَانٌ مِّنَ اللَّهِ أَكْبَرُ ، ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ.
"মু'মিন পুরুষ ও নারীকে আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তাদেরকে তিনি এমন বাগান দান করবেন যার নিম্নদেশে ঝর্ণাধারা প্রবাহমান হবে এবং তারা তার মধ্যে চিরকাল বাস করবে। এসব চির সবুজ বাগানে তাদের জন্য থাকবে বাসগৃহ এরং সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে তারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করবে। এটিই সবচেয়ে সাফল্য।" (সূরা তওবা: ৭২)

দাম্পত্য জীবনে সমস্যাবলির ৫০টি সমাধান dampotto jiboner somossa bolir

দাম্পত্য জীবনে সমস্যাবলির ৫০টি সমাধান dampotto jiboner somossa bolir

দাম্পত্য জীবনে সমস্যাবলির ৫০টি সমাধান
দাম্পত্য জীবনে সমস্যাবলির ৫০টি সমাধান আব্দুল হামীদ ফাইযী
প্রকাশনীঃ পিস পাবলিকেশন
বইয়ের সাইজঃ ২-এমবি
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১৬৩
বইয়ের ফরম্যাট পিডিএফ ই-বুক
বিভাগঃ পারিবারিক জীবন
কৃতজ্ঞতায়ঃ বাগী কুঞ্জালয় পাঠাগার

সদ্য বিবাহিত ছেলে-মেয়েদের জন্য অমূল্য উপদেশ

বিয়ের সময় পুত্রের উদ্দেশ্যে পিতার উপদেশ

হে আমার আত্মজ! প্রথমেই আমি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি এ জন্য যে, তিনি আমার জীবনটাকে এতটুকু প্রলম্বিত করেছেন যে আমি তোমার বিয়ের রাত দেখতে পাচ্ছি। তুমি তোমার পুরুষত্বের পূর্ণতায় পৌঁছেছ। আজ তুমি তোমার দীনের অর্ধেক পূর্ণ করতে যাচ্ছ। হ্যাঁ, এখন তুমি সেই জীবন থেকে বেরিয়ে যাচ্ছ যেখানে তুমি একটি মুক্ত বিহঙ্গের মতো ছিলে। কোনো বাধা-বিপত্তি ছাড়া যা-ইচ্ছে তা-ই করেছ এতদিন। কোনো চিন্তা ছাড়াই সমুদ্রে গিয়ে লাফিয়ে পড়েছ। সেখান থেকে তুমি যাচ্ছ এখন এক কর্তব্যপরায়ণতা ও পূর্ণতার জগতে।

একজন পিতা সেদিন নিজেকে সুখী মনে করেন, যেদিন তিনি নিজের সন্তানকে পুরুষ হয়ে উঠতে দেখেন। তুমি এক নব্য জগতে এবং এক নতুন জীবনে পা রাখতে যাচ্ছ। তাতে অনেক কল্যাণ ও সৌন্দর্য রয়েছে, সুন্দরভাবে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত করতে পারলে তুমি তা দেখতে পাবে। আবার তাতে অনেক অপ্রিয় ও তিক্ত দিক রয়েছে যা তোমার জীবন দুর্বিষহ করে তুলতে পারে। তাই তোমাকে যথাযথ পরিচালনা ও উত্তরোত্তর উন্নতি করতে শিখতে হবে। আর অবশ্যই তোমাকে জীবন সঙ্গীনি সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা থেকে বেঁচে থাকতে হবে। তুমি দশটি বিষয়ে লক্ষ্য না রাখলে নিজ ঘরে শাস্তি পাবে না। নিজের স্ত্রীর জন্য তুমি এ বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখবে। অতএব কথাগুলো মনে রেখ এবং এসব অর্জনে সচেষ্ট থেক:

প্রথম বিষয়: স্ত্রীগণ প্রেম ও ভালোবাসাপূর্ণ আচরণ পছন্দ করে। তারা চায় ভালোবাসার সুস্পষ্ট উচ্চারণ শুনতে চায়। অতএব তোমার স্ত্রীর সাথে এ ব্যাপারে কার্পণ্য দেখাবে না। এ ব্যাপারে যদি কার্পণ্য করো, তবে তুমি তার ও নিজের মধ্যে নির্দয়তার দেয়াল টেনে দিলে। স্বামী-স্ত্রীর নির্মল ভালোবাসার ব্যকরণে ভুল করলে।

ঘরকে আল্লাহর যিকিরের স্থানে পরিণত করা

এ বিষয়ে মহানবী ইরশাদ করেছেন: "যে ঘরে আল্লাহকে স্মরণ করা হয় এবং যে ঘরে আল্লাহকে স্মরণ করা হয় না, উভয়ের তুলনা জীবিত ও মৃত্যুর সাথে।” (আবু মুসা থেকে সহীহ মুসলিম-১/৫৩৯)

অতএব, জাহেলিয়াতের এ সয়লাবের মোকাবিলায় একজন মুসলিমের ঘরকে আল্লাহকে স্মরণের ঘরে পরিণত করা খুবই দরকারী, আল্লাহর স্মরণ মৃদুস্বরে অথবা নীরবে হতে পারে, সালাত, তিলাওয়াত ও ধর্মীয় জ্ঞান এবং এর বিভিন্ন বিভাগের উপর আলোচনা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে হতে পারে। বহু মুসলমানের ঘর রয়েছে যেখানে আল্লাহর যিকির বা ইবাদত ও স্মরণের ব্যবস্থা না থাকাতে বিদ্যমান হাদীসের আলোকে সেগুলোকে মৃত ঘর আখ্যা দেয়াই যুক্তিযুক্ত। বাস্তবিক পক্ষে ঐ সকল ঘরের অবস্থা আর কিবা হতে পারে?

আরও বই ডাউনলোড করুন
কাত (zakat book pdf book) - মাওলানা আবদুর রহীম (রহঃ) পিডিএফ ডাউনলোড ডাউনলোড
ইসলামী দর্শন pdf free download - শিবলী নুমানী ডাউনলোড
তাফসীরে তাবারী শরীফ সকল খন্ড পিডিএফ ডাউনলোড! ডাউনলোড

যেখানে শোনা যায় শুধুই মিউজিক, গল্প-গুজব এবং গীবত-শেকায়েত? যে ঘরগুলোতে নারী-পুরুষের অবাধ মেলা-মেশায় শুধুই ইসলাম বিরোধী আচরণ, নারীরা তাদের গায়রে মুহরিম আত্মীয়দের সাথে সাক্ষাতের ক্ষেত্রে পর্দার ধার ধারে না, প্রতিবেশীদের সাথেও নয়- যারা হর-হামেশা ঘরে প্রবেশ করছে। এ ধরনের ঘরগুলোতে রহমতের ফেরেপ্তাই বা কী করে প্রবেশ করবেন? অতএব খুব জোর দিয়েই এ সুপারিশ করছি যে, আপনার ঘরকে আল্লাহর যিকির তথা আল্লাহর ইবাদতের উপযুক্ত করে গড়ে তুলুন। তাকে শয়তানের আড্ডাখানায় রূপান্তরিত হওয়া থেকে আন্তরিকভাবে রক্ষা করুন।

ঘরে একটি ইসলামী পাঠাগার স্থাপন করা

খুব বড় পাঠাগার না হলেও একটি আদর্শ বুকশেলফ থাকা উচিত যাতে পরিবারের সকলের প্রবেশাধিকার থাকবে। বৈঠকখানা কক্ষে পরিবার প্রধানের কিছু পুস্তক থাকা উচিত যাতে মেহমানবৃন্দ উপকার পেতে পারেন। শোবার ঘরে তাঁর নিজের এবং স্ত্রীর জন্য এবং সন্তানদের ঘরে শিশুতোষ পুস্তক থাকবে, যাতে শিশু এবং বয়স্কদের বিষয়ভিত্তিক সাজানো থাকবে যাতে সহজে তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা যায়। একটি আদর্শ বুকশেলফে নিম্নলিখিত পুস্তকাদি থাকবে-
তাফসীর: তাফসীরে ইবনে কাসীর, তাফসীরে ইবনে সা'দী, তাফহীমুল কুরআন, জবদাতুত তাফসীর, ইবনুল কাইউম-এর বাদায়িউত তাফসীর, তাফসীর ফী জিলালিল কুরআন, উসুলুত তাফসীর, আলফাওসুল কাবীর, মায়ারেফুল কুরআন ইত্যাদি।

হাদীস (সুল্লাহ): সহীহ আল-কালিম আত্মাইযিল, আমালুল মুসলিম ফিল ইয়াওমি ওয়াল লাইলি (রাত-দিনের আমল), রিয়াদুস সালেহীন, (সহীহ বুখারী, সহীহ আল মুসলিম, মিশকাতুল মাসাবীহ, নুখবাতুল ফিকর, বাংলা ভাষায় প্রকাশিত রাহে আমল, ইস্তেখাবে হাদীস, লুলু আল মারজান (বুখারী ও মুসলিম হাদীস সংকলিত) ইত্যাদি।
আকিদা সংক্রান্ত: ফাতহুল মাজীদ শারহ কিতাবুত তাওহীদ, শারহ আকীদাতুত তাহাবীয়া, শারহ আকাইয়্যেদ নাসাফীয়‍্যা, আশশিরক, ইলমুল কালাম, আল-কালাম। ইত্যাদি।

পারিবারিক ঝগড়া শিশুদের সামনে হওয়া উচিত নয়

এটা একেবারেই দুষ্প্রাপ্য যে পরিবারে ঝগড়া-ঝাটি নেই; এমতাবস্থায় মিমাংসা করে নেয়াটা ভালো উদ্যোগ, সত্যের সাথে থাকে কল্যাণ। তবে শিশুদের সামনে পিতা-মাতার ঝগড়া চালিয়ে যাওয়া ক্ষতিকর। ফলে পরিবারের সদস্যগণ দুই বা ততোধিক ভাগে বিভক্ত হয়ে যেতে পারে। কেউ পিতা, অন্যরা মাতাকে সমর্থন করতে পারে। এমতাবস্থায় দেশের মতো পরিবারে রাজনৈতিক বিভাজন দেখা দিতে পারে এ অবস্থায় শিশুরা সাধারণতঃ মনস্তাত্ত্বিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমন অবস্থার কথা ভাবুন। যেখানে পিতা তার সন্তানকে বলে তোমার মায়ের সঙ্গে কথা বলবে না। আবার মা বলে, তোমার পিতার সঙ্গে কথা বলবে না। অবশ্যই এ অবস্থায় শিশুরা উভয় সংকটে পড়বে এবং বিভক্তির শিকার হবে। পরিবারে এ ধরনের ঝগড়া এড়িয়ে চলা উচিত, যদি ঘটেও তা হলে তা অবশ্যই শিশুদের চোখের আড়ালে ঘটাতে হবে।

শিশুদের সামনে ঝগড়া করলে তাদের মেধার উপর যে কী পরিমাণ চাপ পড়ে তা কল্পনাও করতে পারবেন না আপনি। তাদের মেধা নষ্ট করার প্রধান ক্ষতিকর দায়িত্বশীল হলেন তার পিতা-মাতা, আপনাকে যদি ঝগড়া করতেই হয় তাহলে ছেলে মেয়ে স্কুল বা মাদরাসায় পাঠিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে ঝগড়া করুন। তাহলে তাদের মেধার কোনো ক্ষতি হবে না। প্লিজ ঝগড়া করবেন না তাহলে রহমত আসবে।

pdf book download জাতি গঠনে আদর্শ মা jati gothone adorsho ma

pdf book download জাতি গঠনে আদর্শ মা jati gothone adorsho ma

jati gothone adorsho ma
জাতি গঠনে আদর্শ মা জাবেদ মুহাম্মাদ
প্রকাশনীঃ আহসান পাবলিকেশন
বইয়ের সাইজঃ ৩-এমবি
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ২০৬
বইয়ের ফরম্যাট পিডিএফ ই-বুক
বিভাগঃ পারিবারিক জীবন
কৃতজ্ঞতায়ঃ বাগী কুঞ্জালয় পাঠাগার

কিভাবে মনে সুন্দরের ভুবন বা অনুভূতি সৃষ্টি হবে? —আদর্শিক জ্ঞান, বিবেক-বিবেচনা, আদব-কায়দা, মন-মানসিকতা, মনন, মনীষা, মহত্ত্ব, মনোযোগ, মহব্বত, অনুভূতি, ঔদার্য, আশা, অভিলাষ, অভিপ্রায়, অভিরুচি, অমায়িকতা, অন্তরঙ্গতা, প্রসন্নতা, প্রাণাবেগ, প্রাণবন্ততা, সৌজন্য, সুরুচি, সুধারণা, সুবাসনা, শিষ্টতা, শালীনতা, সদিচ্ছা, সংযম, সহানুভূতি, শ্রদ্ধাবোধ, সহজতা, সজীবতা, সরলতা, সচেতনতা, সমঝোতা, সহমর্মিতা, সত্যবাদিতা, সংবেদনশীলতা, সহৃদয়তা, হৃদ্যতা, স্বতঃস্ফূর্ততা, সততা, স্বকীয়তা, উদারতা, বন্ধু সুলভতা, কৃতজ্ঞতা, সভ্যতা, শ্লীলতাবোধ, দয়া-মায়া, মানবিকতা, বদান্যতা, মহানুভবতা, সহনশীলতা, স্নেহপরায়ণতা ও কল্যাণকামিতা ইত্যাদি। এভাবে মনে যে যত বেশি ভুবন সৃষ্টি করতে পারবেন, যার দৃষ্টিভঙ্গী যতটা স্বচ্ছ ও আদর্শিক ধ্যান-ধারণায় গড়ে তুলতে পারবেন, আপনি উপহার দিতে পারবেন সুন্দর সুন্দর কল্যাণকামী কথা। যার সুফল, সুবাতাস ভোগ করবে গোটা সমাজের লোকজন। ফেলবে স্বস্তির নিশ্বাস। জ্ঞাপন করবে শুকরিয়া, মাথা নত করবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালার কাছে, তবেই গড়ে উঠবে সুখী কল্যাণকামী ও সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্র।

মা-আদর্শ মা। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। আপনার সম্মান-মর্যাদা যেমন অনেক বেশি তেমন আপনার দায়িত্ব ও কর্তব্যও অনেক বেশি। আপনার সন্তানদেরকে এমন কথা বলা শিক্ষা দিয়ে আপনাকেই গড়তে হবে। সমাধান খুঁজে নিতে হবে আপনাকেও কুরআনের বাণী থেকেই। কী নিয়ে এত অস্থিরতা! এত টেনশন! এত ঝামেলা পোহাচ্ছেন? অসুস্থ হয়ে পড়ছেন? বুকের ব্যথা বাড়ছে! শরীর সরু হয়ে যাচ্ছে! মাথা ঘুরছে। ব্যস্ততা বাড়ছে! কিসের মায়ায়? নামাজ পড়তে পারছেন না, কুরআন অধ্যয়ন করতে পারছেন না, সেদিনের কথা একটু ভাবুন! যেদিন আপনাকে আপনার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। কী দরকার অসুন্দর, অসত্য ও মন্দ কথা বলে নিজের মান-মর্যাদা, সম্মানকে প্রশ্নাতীত করার বরং আমরা আপনাকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা এবং রাসূল (সা.) যে আসনে আসীন করার কথা ঘোষণা দিয়েছেন সেখানেই দেখতে চাই। জগতের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক আপনি, শুধু নিজ পরিবার নয় জগত সংসারের জন্যও আপনাকে জিজ্ঞাসা করা হবে। আপনার মর্যাদা যেমন বেশি তেমনি দায়িত্বও বেশি। আর এ দায়িত্ব পালন শুরু করতে হয় সুন্দর কথা, সুন্দর নির্দেশনা, উপদেশ-আদেশ ইত্যাদির অকিদ প্রদানের মাধ্যমে।

আপনি, তুমি, তুই

বড়দের সাথে কথোপকথনে শ্রদ্ধার নির্দশন স্বরূপ আপনি শব্দটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এটি মার্জিত, ভদ্র, নম্র ও বিনয়ীভাব প্রকাশ করে থাকে। তুমি শব্দটি সমবয়সী থেকে শুরু করে ছোট শিশুদের সাথে কথোপকথনে ব্যবহার করা যায়, এতেও ভদ্র ভাব প্রকাশিত হতে পারে। কিন্তু তুই শব্দটি তুচ্ছ তাচ্ছিল্য অর্থে ব্যবহার করা হয়। অসম্মান অর্থে ব্যবহার করা হয়। এটি কেউ শুনতে চায় না। এমনকি আপনার ৩/৪/৫ বছর বয়সী ছেলে মেয়েদের সাথে কেউ যদি হঠাৎ করে তুই তুই বলে কথা বলে, আপনি গভীরভাবে ওদের মুখমণ্ডলের দিকে তাকালে দেখবেন কালো ছাপ পড়ে গেছে। সে আত্মসম্মানবোধ ঠিকভাবে না বুঝলেও এটি বুঝে যে তাদের সাথে সুন্দর করে কথা বলা হচ্ছে না, এমন অনেক শুনা যায়, স্যার শিক্ষার্থীদের সাথে তুই শব্দ যোগে কথা বলায় শিক্ষার্থীরা অভিযোগ প্রকাশ করে বলেছে এই স্যারের কাছে পড়ব না। কারণ, স্যার কথা বলে কেমন যেন বা গাইয়া..... গাইয়া ইত্যাদি। কী অসম্মানজনিত কথা! আপনি ২০/২১ বছর পড়ালেখা করে শিক্ষক হলেন আর ছোট স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা আপনার ভাষা প্রকাশের ভঙ্গী বা স্টাইল নিয়ে অভিযোগ করছে বা অপছন্দ করছে বা বলছে এই স্যার ভাল না, সুন্দর করে কথা বলে না, আদর করে কথা বলে না ইত্যাদি। বলুন! এ অবস্থায় আপনার মর্যাদা কোথায় গিয়ে থামল? জাতি গঠনে আদর্শ মা

আরও বই ডাউনলোড করুন
Pdf Book নেক আমল বিধ্বংসী বদ আমল সমূহ - মাসুদা সুলতানা রুমী ডাউনলোড
কুরআন হাদিসের আলোকে শহীদ কারা pdf ডাউনলোড
আল কুরআনের আলোকে শিরক ও তওহীদ ডাউনলোড

সুন্দর করে কথা বলা হতে পারে আপনার নিজেকে গ্রহণযোগ্য বা নিজের কথাকে গ্রহণযোগ্য করে তোলার একটি মাধ্যম। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মনীষীরা সবাই সুন্দর করে কথা বলতেন। তারা সুভাষী ছিলেন। আজ পর্যন্ত পৃথিবীতে যত আদর্শই প্রচারিত

সত্য ও সুন্দর কথা বলা

হয়েছে, তা হয়েছে সুন্দর কথা দিয়ে। কারণ প্রতিটি ভাল কাজই মানুষের মন জয় করে করতে হয়। আর মানুষের মন জয় করার একটি মাধ্যম বা উপায় হলো সত্য ও সুন্দর কথা বলা। সুন্দর কথা শ্রোতার মনে আনন্দের প্লাবন সৃষ্টি করে একদিকে যেমন তার ভেতরের দুঃখ-কষ্ট ও হতাশা গুলোকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়, অন্যদিকে তার মধ্যে জন্ম দেয় শক্তিশালী ইতিবাচক এক আবেগ। ফলে পারস্পরিক সুসম্পর্ক গঠনের পাশাপাশি তার প্রতিটি কাজ হয়ে উঠে আনন্দময় স্বতঃস্ফূর্ত স্বাভাবিক প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর। আর মন্দ কথা ইতি টেনে আনতে পারে অনেক অতীত ভালবাসা, আদর-সোহাগ ও ভাল লাগার। কাজেই সুভাষী হওয়ার প্রতি আমাদের বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে।

ঘুষ ও দুর্নীতি

অন্যায় ও অবৈধভাবে কারো অর্থ-সম্পদ ভক্ষণ করার অন্যতম পন্থা হল ঘুষ। নিয়মবহির্ভূত কোন কাজ করে দেয়ার জন্য বা কোন কার্য সিদ্ধির জন্য কাউকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে যে অর্থ দেয়া হয় তাই ঘুষ। এ সম্পর্কে আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন:
لَعَنَ اللهُ الرَّشِي وَالْمُرْتَشِى .
"ঘুষদাতা ও গ্রহীতা উভয়ের প্রতি আল্লাহ তায়ালার লা'নত।"

জাতির ভাগ্যাকাশে দুর্ভাগ্যের ঘনঘটা, চারিধারে হতাশা আর ঘৃণা, এদেশের মানুষের রন্ধ্রে-রন্ধ্রে বখশিশ বা খুশী করা (নতুন নামে) ঘুষ ও দুর্নীতি আজ সকল উন্নয়নের চাকাকে স্তিমিত করে দিচ্ছে। জন্ম, বিয়ে, মৃত্যু এ তিনটি কাজ বা অবস্থা আল্লাহর হুকুম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এদেশে একজন মানব শিশুর জন্ম নিবন্ধন করার সময় নিবন্ধনকারী 'শোকর আলহামদুলিল্লাহ বলে এমন খুশীর সংবাদে আমাদেরকে কিছু বখশিশ দেবেন না, মিষ্টি খাওয়াবেন না-একথা বলে থাকেন। ফলে সর্বস্তরের মানুষ জন্ম নিবন্ধন করতে যেতে চায় না। বিয়ে নিবন্ধন রাষ্ট্রের বাধ্যতামূলক আইন যা করতে গেলেও বিয়ের আসরে কাজীর যাওয়া-আসা, খাওয়া-দাওয়াসহ তাদের ভাষায় সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ফি দেওয়ার পরও বখশিশ খুঁজে নেওয়ার প্রবণতা সত্যিই লজ্জাকর বিষয়। আর লজ্জা বিষয়টি ঢেকে রাখা ঈমানের অঙ্গ।

এর সাথে মুসলমানিত্বের সম্পর্ক; এভাবে চেয়ে নেওয়াটা ঘুষের সাথেই তুল্য। প্রত্যেক জীবকেই মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে। আমাদের দেশে মৃত্যু নিবন্ধন এবং বিশেষ প্রয়োজনে সার্টিফিকেট গ্রহণের ক্ষেত্রেও টাকা লওয়া অর্থাৎ আল্লাহ নিয়ন্ত্রিত এ তিনটি ক্ষেত্রে রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত টাকার অতিরিক্ত টাকা গ্রহণ প্রকারান্তরে ঘুষ ও দুর্নীতিরই নামান্তর। (কেহ কেহ হয়তোবা এগুলোতে অতিরিক্ত টাকা নেন না তাদের কথা ভিন্ন) ঘুষ ছাড়া এদেশে কোন কাজই চলে না। অথচ এমন ঘুষ সম্পর্কে হুঁশিয়ার করে দিয়ে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কুরআনে ইরশাদ করেন:
وَلَا تَأْكُلُوا مُوَالَكُمُ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ وَتَدُلُّوبِهَا إِلَى الْحَكَامِ لِتَا كُلُوا فَرِيقًا مِنْ أَمْوَالَ النَّاسِ بِالْإِثْمِ وَانْتُمْ تَعْلَمُونَ -
"তোমরা অন্যায়ভাবে একে অপরের সম্পদ গ্রাস করো না এবং জনগণের সম্পদের কিয়দাংশ জেনে-শুনে পাপ পন্থায় আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে শাসন কর্তৃপক্ষের হাতেও তুলে দিও না।" (সূরা বাকারা: ১৮৮)

pdf ইসলামের দৃষ্টিতে জন্মনিয়ন্ত্রণ islamer dristite jonmo niyontron - মওদূদী

pdf ইসলামের দৃষ্টিতে জন্মনিয়ন্ত্রণ islamer dristite jonmo niyontron - মওদূদী

islamer dristite jonmo niyontron
ইসলামের দৃষ্টিতে জন্মনিয়ন্ত্রণ সাইয়েদ আবুল আলা মওদূদী
প্রকাশনীঃ আধুনিক প্রকাশনী
বইয়ের সাইজঃ ২-এমবি
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১৪৩
বইয়ের ফরম্যাট পিডিএফ ই-বুক
বিভাগঃ পারিবারিক জীবন
কৃতজ্ঞতায়ঃ বাগী কুঞ্জালয় পাঠাগার

জন্মনিরোধের আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে বংশ বৃদ্ধির প্রতিরোধ। প্রাচীনকালে এতদুদ্দেশ্যে আজল, গর্ভপাত, শিশুহত্যা ও ব্রহ্মচর্য (অবিবাহিত থাকা অথবা স্বামী-স্ত্রীর যৌন মিলন পরিহার করা) অবলম্বন করা হতো। আজকাল শেষের দুটি ব্যবস্থা পরিত্যাগ করা হয়েছে এবং এদের পরিবর্তে এমন নয়া পদ্ধতি আবিষ্কার করা হয়েছে, যাতে করে যৌন মিলন বহাল রেখে ঔষধ অথবা উপকরণাদির দ্বারা গর্ভসঞ্চারের পথ বন্ধ করে দেয়া যায়। ইউরোপ ও আমেরিকায় গর্ভপাতের ব্যবস্থা এখনও প্রচলিত আছে। কিন্তু জন্মনিরোধ আন্দোলন শুধু গর্ভ সঞ্চার বন্ধ কারার প্রতিই গুরুত্ব আরোপ করে। এ আন্দোলনের উদ্দেশ্য হচ্ছে, এ বিষয়-সম্পর্কিত তথ্যাবলী ও উপায়-উপাদান ব্যাপক হারে সমাজে ছড়ানো, যেন প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও নারী এর সুবিধা ভোগ করতে পারে।

আন্দোলনের সূচনা

ইউরোপে ঈসায়ী আঠারো শতকের শেষাংশে এ আন্দোলনের সূচনা হয়। সম্ভবত ইংলন্ডের বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ ম্যালথ্যাস-ই (Malthus) এর ভিত্তি রচনা করেন। সে সময় ইংরেজদের প্রাচুর্যময় জীবন যাপনের ফলে জনসংখ্যা দ্রুতগতিতে বেড়ে চলে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির উচ্চ হার দেখে মিঃ ম্যালথ্যাস হিসাব করতে শুরু করেন যে, পৃথিবীর আবাদযোগ্য জমি ও অর্থনৈতিক উপায়-উপাদান সীমিত। কিন্তু বংশ বৃদ্ধির সম্ভাবনা সীমাহীন। যদি স্বাভাবিক হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায় তাহলে পৃথিবীর বর্ধিত জনসংখ্যার তুলনায় সংকীর্ণ হয়ে যাবে-অর্থনৈতিক উপকরণাদি, তখন মানুষের ভরণপোষণের তার বইতে পারবে না এবং মানুষের সংখ্যা বেশী হয়ে যাবার ফলে জীবন যাত্রার মান নিম্নগামী হয়ে যাবে।

সূতরাং মানব জাতির স্বাচ্ছন্দ্য, আরাম, কল্যাণ ও শান্তির জন্যে মানব বংশ বৃদ্ধির হারকে অর্থনৈতিক উপাদান বৃদ্ধির সংগে সংগতি রক্ষা করে চলতে হবে। জনসংখ্যা যেন কখনও অর্থনৈতিক উপাদানের উর্ধ্বে যেতে না পারে। মোটামুটি এ-ই হচ্ছে ম্যাসখ্যাসের প্রস্তাব। এতদুদ্দেশ্যে তিনি ব্রহ্মচর্যের প্রাচীন প্রথাকে পূনর্জীবিত করার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থাৎ তাঁর মতে অধিক বয়সে বিয়ে করতে হবে এবং স্বামী-স্ত্রীর যৌন মিলনে যথেষ্ট সংযম অবলম্বন করতে হবে। ১৭৯৮ সালে মিঃ ম্যালথ্যাস জনসংখ্যা ও সমাজের ভবিষ্যত উন্নয়নে এর প্রভাব (An Essay on Population and as it effects, the future Improvement of the Society) নামক পুস্তকে সর্বপ্রথম এ মতবাদ প্রচার করেন। এরপর ফ্রান্সিস প্ল্যাস (Francis Place) ফরাসী দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধি রোধ করার প্রতি জোর দেন।p কিন্তু তিনি নৈতিক উপায় বাদ দিয়ে ঔষধ ও যন্ত্রাদির সাহায্যে গর্ভ নিরো প্রস্তাব দেন। ইসলামের দৃষ্টিতে জন্মনিয়ন্ত্রণ

নারীদের অর্থনৈতিক স্বয়ংসম্পূর্ণতা

উপরোল্লিখিত অবস্থাগুলোর দরুন নারীদেরও নিজ নিজ ব্যয়ভার বহন করতে বাধ্য হতে হয় এবং পরিবারের উপার্জনশীলদের মধ্যে তাদেরও শামিল হতে হয়। সমাজের প্রাচীন প্রথা মুতাবিক পুরুষের উপার্জন করা এবং নারীর গৃহকর্মে নিযুক্ত থাকার কর্মবন্টন ব্যবস্থা বাতিল হয়ে যায়। নারীগণ অফিস ও কারখানায় চাকরী করার। জন্যে হাজির হয়। আর জীবিকা উপার্জনের দায়িত্ব গ্রহণের পর সন্তান জন্মানো ও তার প্রতিপালনের স্বাভাবিক দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে আর সম্ভব হয় না। যে নারী নিজের প্রয়োজন পূরণ ও ঘরের বাজেটে নিজের অংশ দান করতে বাধ্য হয় তার পক্ষে সন্তান জন্মানো কি করে সম্ভব? অনেক নারীই গর্ভাবস্থায় ঘরের বাইরে দৈহিক বা মানসিক শ্রম করার অযোগ্য হয়ে যায়, বিশেষত গর্ভকালের শেষাংশে তো ছুটি গ্রহণ তার জন্যে অপরিহার্য। পুনঃসন্তান প্রসবকালে ও তার পরবর্তী কিছুদিন সে কাজ-কর্ম করার যোগ্য থাকে না। তারপর শিশুকে দুধ পান করানো এবং অন্তত তিন বছর পর্যন্ত তার প্রতিপালন, দেখাশোনা, শিক্ষা দানের কাজ চাকরীর অবস্থায়

জন্ম নিয়ন্ত্রণের কুফল

বিগত ১০০ বছরের অভিজ্ঞতায় জন্মনিয়ন্ত্রণের যেসব ফলাফল দেখা দিয়েছে তাও আলোচনা করা দরকার। যে আন্দোলন বিভিন্ন দেশ ও জাতির মধ্যে দ্রুতগতিতে প্রসার লাভ করেছে এবং যার ফলাফল বরাবর অভিজ্ঞতায় ধরা পড়েছে তার ভাল-মন্দ সম্পর্কে মতামত গঠন করার জন্যে একশত বছরের অভিজ্ঞতাই যথেষ্ট। জন্মনিয়ন্ত্রণকারী দেশগুলোর মধ্যে ইংলণ্ড ও আমেরিকাকে আদর্শ দেশ হিসেবে গ্রহণ করা যায়। কেননা, আমাদের নিকট অন্যান্য দেশের তুলনায় এ দু'দেশে সমৃদ্ধি ও তথ্য অনেক বেশী পরিমাণে আছে। আর অন্যান্য দেশের সঙ্গে এ দু'দেশের পার্থক্যও খুব বেশী নয়।

বিভিন্ন শ্রেণীর মধ্যস্থিত ভারসাম্য নষ্ট

ইংলণ্ডের রেজিষ্টার জেনারেলের রিপোর্ট, ন্যাশনাল বার্থ কন্ট্রোল কমিশনের অনুসন্ধান এবং জনসংখ্যা সম্পর্কিত রয়েল কমিশনের রিপোর্ট দেখে জানা যায় যে, উচ্চ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মধ্যেই জন্মনিয়ন্ত্রণ সব চাইতে বেশী প্রচলিত। বেশীর ভাগই উচ্চ বেতন ভোগী কর্মচারী, উচ্চ শিক্ষিত ব্যবসায়ী, মধ্যবিত্ত সচ্ছল লোক এবং ধনী, শাসক, ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিগণই জন্মনিরোধ অভ্যাস করে থাকে। আর নিম্ন শ্রেণীর মজুর ও শ্রম পেশা লোকদের মধ্যে জন্মনিরোধ প্রথা না থাকারই শামিল। এদের জীবন যাত্রার মান উন্নত হয়নি, এদের মনে উচ্চাশাও নেই এবং ধনীদের মত জাঁক-জমকপূর্ণ সামাজিকতার প্রতিও এদের কোন লোভ নেই। এদের সমাজে এখনও পুরুষ উপার্জনকারী এবং নারী গৃহকত্রী।

আরও বই ডাউনলোড করুন
তাফসীরে জালাালাইনের সকল খন্ড একত্রে ডাউনলোড! ডাউনলোড
ইসলামে সামাজিক সুবিচার - islame shamajik subicher pdf ডাউনলোড
চার ইমামের জীবনকথা (char imamer jibonkotha pdf) ডাউনলোড

এ প্রাচীন প্রথাই এখনো এখানে প্রচলিত আছে। আর এ কারণেই এরা আর্থিক অসচ্ছলতা, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির অগ্নি মূল্য এবং গৃহসমস্যা সত্ত্বেও জন্মনিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন বোধ করে না। এদের মধ্যে জন্মহার হচ্ছে প্রতি হাজারে ৪০ জন। অপর দিকে উচ্চ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মধ্যে জন্মহার এত কমে গিয়েছে যে, ইংল্যান্ডের মোট জন্মহার ১৯৫৪ সালে হাজার প্রতি ১৫৫.৩ জন ছিল। কায়িক পরিশ্রমকারীদের পরিবারগুলো বৃহদাকৃতির। সাম্প্রতিক সংখ্যাতত্ত্ব থেকে জানা যায় যে, ১৯০০ থেকে ১৯৩০ সালের মধ্যে যেসব বিয়ে হয়েছে তার মধ্যে, শ্রমিক পরিবারগুলোর শতকরা ৪০টিই হচ্ছে বড় পরিবার।

pdf islami ইসলামের জীবন পদ্ধতি islamer jibon poddhoti

pdf islami ইসলামের জীবন পদ্ধতি islamer jibon poddhoti

book cover ইসলামের জীবন পদ্ধতি
ইসলামের জীবন পদ্ধতি সাইয়েদ আবুল আলা মওদূদী
প্রকাশনীঃ আধুনিক প্রকাশনী
বইয়ের সাইজঃ ১-এমবি
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৪৮
বইয়ের ফরম্যাট পিডিএফ ই-বুক
বিভাগঃ ইসলামী জীবন ব্যবস্থা
কৃতজ্ঞতায়ঃ বাগী কুঞ্জালয় পাঠাগার

মানুষের প্রকৃতিতে চরিত্রের অনুভূতি একটা স্বাভাবিক অনুভূতি। এটা এক প্রকারের গুণ ও কাজকে পসন্দ করে এবং আর এক প্রকারের গুণ ও কাজকে করে অপসন্দ। এ অনুভূতি ব্যক্তিগতভাবে মানুষের মধ্যে কমও হতে পারে, বেশীও হতে পারে। কিন্তু সামগ্রিকভাবে মানবতার তীব্র চেতনা চরিত্রের কোনো কোনো গুণকে ভাল এবং কোনো কোনো গুণকে মন্দ বলে চিরদিন একইরূপে অভিহিত করেছে। সততা, সুবিচার, ওয়াদাপূর্ণ করা এবং বিশ্বাসপরায়ণতাকে চিরদিন মানব চরিত্রের প্রশংসনীয় গুণ বলে মনে করা হয়েছে। মিথ্যা, যুলুম, প্রতিশ্রুতি ভংগ করা ও বিশ্বাসঘাতকতাকে মানবেতিহাসের কোনো যুগেই পসন্দ করা হয়নি। সহানুভূতি, দয়া, দানশীলতা এবং উদারতাকে চিরদিনই সম্মান করা হয়েছে।

পক্ষান্তরে স্বার্থপরতা, নিষ্ঠুরতা, কৃপণতা ও সংকীর্ণ দৃষ্টিকে কোনো দিনই মর্যাদা দান করা হয়নি। ধৈর্য, সহিষ্ণুতা, দৃঢ়তা ও আদর্শ পরায়ণতা এবং বীরত্ব ও উচ্চ আশা চিরদিনই শ্রদ্ধা পাবার উপযুক্ত গুণ হিসেবে গণ্য হয়েছে। পক্ষান্তরে অস্থিরতা, নীচতা, খোশামোদী, হীন মনোবৃত্তি ও কাপুরুষতাকে কোনো দিনই অভিনন্দিত ক করা হয়নি। আত্মসংযম, আত্মসম্মান, জ্ঞান, নিয়মানুবর্তিতা ও অকপট মেলামেশাকে চিরদিনই মানুষের বৈশিষ্ট্য হিসেবে গণ্য করা হয়েছে এবং প্রবৃত্তির গোলামী, অশালীন আচরণ, সংকীর্ণতা, বে-আদবী ও কুটিল মনোবৃত্তি মানব চরিত্রের বৈশিষ্ট্যের তালিকায় কোনো দিনই স্থান পায়নি। কর্তব্যপরায়ণতা, প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করা, কর্মপটুতা এবং দায়িত্ববোধ চিরদিনই সম্মান পেয়ে এসেছে। কিন্তু কর্তব্য সম্পর্কে উদাসীন, দায়িত্বজ্ঞানহীন, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী ও কর্মবিমুখ মানুষকে কোনোদিনই সুনজরে দেখা হয়নি। এভাবে সমাজ জীবনের ভাল ও মন্দ গুণাবলী সম্পর্কেও মানবতার সিদ্ধান্ত চিরকাল প্রায় একই প্রকারের রয়েছে।

সৎকাজের প্রেরণা

বিশ্ব প্রকৃতি ও মানব সম্পর্কে ইসলামের এ ধারণা মানব হৃদয়ে এমন এক দুর্নিবার আবেগ সৃষ্টি করে যা চারিত্রিক আইন-কানুন পালন করার জন্য মানুষকে নিরন্তর অনুপ্রাণিত করতে থাকে। মানুষ যখন নিজ ইচ্ছাতেই আল্লাহকে আল্লাহ বলে এবং তাঁর দাসত্ব করাকে জীবনের একমাত্র পথ বলে স্বীকার করে আর আল্লাহ তায়ালার সন্তোষ লাভ করাকেই জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য হিসেবে গ্রহণ করে তখনই সে নিজে অন্তরের আবেদনেই আল্লাহ তায়ালার হুকুম-আহকাম ও বিধি-নিষেধগুলো পালন করবে। এই সাথে পরকাল বিশ্বাসও একটা উদ্বোধক শক্তি। কারণ সে নিসন্দেহে বিশ্বাস করে যে, যে ব্যক্তিই আল্লাহ তায়ালার হুকুম-আহকাম অনুসরণ করবে, দুনিয়ার এ অস্থায়ী জীবনে তাকে যতই দুঃখ-কষ্ট ভোগ করতে এবং অভাব-অভিযোগ ও নির্যাতন-নিপীড়নের সম্মুখীন হতে হোক না কেন। পরকালে তার চিরস্থায়ী জীবনে এক উজ্জ্বল ভবিষ্যত লাভ সম্পর্কে কোনো সন্দেহ নেই।

পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি এ দুনিয়ায় আল্লাহ তায়ালার অবাধ্য হবে, দুনিয়ায় এ সংক্ষিপ্ত জীবনে সে যতই আনন্দ স্ফূর্তি ও আয়েশ-আরাম লাভ করুক না কেন পরকালে তাকে চিরস্থায়ী শাস্তি ভোগ করতে হবে, তাতে সন্দেহ নেই। বস্তুত এ আশা, এ ভয় এবং বিশ্বাস কোনো মানুষের মনে যদি বদ্ধমূল হতে পারে, তবে তার অন্তর্নিহিত এ বিরাট উদ্বোধক শক্তি তাকে এমন সব স্থানে পুণ্যের কাজে উদ্বুদ্ধ করতে পারে যেখানে পুণ্যের পার্থিব ফল মারাত্মক ক্ষতির কারণ হবে এবং এমন সময়ও তাকে পাপ ও অন্যায় কাজ হতে বিরত রাখতে পারে, যখন এ পাপের কাজ খুবই লাভজনক ও লোভনীয় হয়ে দাঁড়াবে।

ভাল-মন্দের পরিচয়

এর দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য এই যে, এটা শুধু অবাস্তব কল্পনার সাহয্যে কতগুলো আশ্চর্য ধরনের চরিত্রনীতি ঠিক করেনি এবং মানুষের সর্ববাদী সমর্থিত চরিত্রনীতির এক অংশের মূল্য কম এবং অপর অংশের মূল্য বেশী দেখাবার চেষ্টাও এটা করেনি। ইসলাম এমন সব জিনিসকে চরিত্রের অন্তর্ভুক্ত করেছে, যা দুনিয়ার সকল মানুষের দ্বারাই সমর্থিত এবং এর কিছুটা অংশ নিয়েই যথেষ্ট মনে করা হয়নি বরং এর সবটুকুকেই সে নিজের নীতি বলে গ্রহণ করেছে। তারপর একটা পরিপূর্ণ সামঞ্জস্য ও পারস্পরিক সম্পর্ক ও সহযোগিতার সাথে মানুষের জীবনে তার একটা স্থান, একটা মর্যাদা এবং একটা সুস্পষ্ট ব্যবহার ক্ষেত্র নির্দিষ্ট করেছে। ইসলাম এর ব্যাপক চরিত্রনীতিকে মানব জীবনে এমন সামঞ্জস্যের সাথে প্রযুক্ত করেছে যে, ব্যক্তিগত কাজ-কারবার, পারিবারিক সম্পর্ক, নাগরিক জীবন, আভ্যন্তরীণ রাজনীতি, অর্থনৈতিক আদান-প্রদান, ইসলামের জীবন পদ্ধতি

আরও বই ডাউনলোড করুন
আধুনিক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ ও ইসলাম - মুহাম্মাদ কামারুজ্জামান pdf ডাউনলোড
কুরআন হাদীসের আলোকে মরণ ব্যাধি দূর্নীতি pdf ডাউনলোড
আপনাদের প্রশ্নের জবাব ১-৩ খন্ড পিডিএফ বই ডাউনলোড ডাউনলোড

বাজার-বন্দর-শিক্ষাগার, আদালত ফৌজদারী, পুলিশ লাইন, সেনানিবাস, যুদ্ধের ময়দান, স্বস্তি পরিষদ- মোটকথা মানব জীবনের প্রত্যেকটি দিক ও বিভাগের উপর ইসলামের ব্যাপক চরিত্রনীতির সুস্পষ্ট প্রভাব বর্তমান। মানব জীবনের প্রত্যেকটি দিক ও বিভাগের উপর ইসলাম স্বীয় চরিত্রনীতিকেই একমাত্র 'শাসক' নিযুক্ত করেছে এবং জীবনের যাবতীয় কাজ-কারবারের চাবিকাঠি প্রবৃত্তি, স্বার্থবাদ এবং সুবিধাবাদের পরিবর্তে, চরিত্রের হাতে ন্যস্ত করাই ইসলামের ঐকান্তিক চেষ্টা।

ইসলামের সমাজব্যবস্থা

দুনিয়ার সমস্ত মানুষ একই বংশোদ্ভূত"-এ মতের উপরই ইসলামী সমাজব্যবস্থার বুনিয়াদ স্থাপিত হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা সর্বপ্রথম একজোড়া মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, তারপরে সেই জোড়া হতে দুনিয়ার সকল মানুষের জন্ম হয়েছে। প্রথম দিক দিয়ে একজোড়া মানুষের সন্তানগণ দীর্ঘকাল পর্যন্ত একই দল ও একই সমাজের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাদের জীবনযাপনের পদ্ধতি একই প্রকারের ছিল; তাদের ভাষাও ছিল এক। কোনো প্রকার বিরোধ-বৈষম্য তাদের মধ্যে ছিল না। কিন্তু তাদের সংখ্যা যতই বৃদ্ধি পেতে লাগল ততই তারা পৃথিবীর নানাদিকে ছড়িয়ে পড়তে লাগল এবং এ বিস্তৃতির ফলে তারা অতি স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন বংশ, জাতি ও গোত্রে বিভক্ত হয়ে পড়ল। তাদের ভাষা বিভিন্ন হয়ে গেল, পোশাক-পরিচ্ছেদের দিক দিয়ে অনেক বৈষম্য ও বৈচিত্র দেখা দিল।

দৈনন্দিন জীবনযাপনের রীতিনীতিও আলাদা হয়ে গেল এবং বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন আবহাওয়ায় তাদের রং, রূপ ও আকার-আকৃতি পর্যন্ত বদলিয়ে গেল। এসব পার্থক্য একেবারেই স্বাভাবিক, বাস্তব দুনিয়ায়ই এটা বর্তমান। কাজেই ইসলামও এসবকে ঠিক একটা বাস্তব ঘটনা হিসেবেই গ্রহণ করেছে। ইসলাম এসবকে একেবারে নিশ্চিহ্ন করে দেবার পক্ষপাতি নয়, বরং এসবের দ্বারা মানব সমাজে পারস্পরিক পরিচয় লাভ করা যায় বলে ইসলাম এগুলোকে স্বীকার করে নিয়েছে। কিন্তু পার্থক্য-বৈষম্যের উপর ভিত্তি করে মানব সমাজে বর্ণ, বংশ, ভাষা, জাতীয়তা এবং স্বাদেশীকতার যে হিংসা-দ্বেষ উদ্বেলিত হয়ে উঠেছে, ইসলাম তা কিছুতেই সমর্থন করতে পারে না, এর দৃষ্টিতে এটা সম্পূর্ণরূপেই ভুল। মানুষ এবং মানুষের মধ্যে শুধু জন্মের ভিত্তিতে উচ্চ-নীচ, আশরাফ-আতরাফ এবং আপন-পরের যে পার্থক্য করা হয়েছে, ইসলামের দৃষ্টিতে তা একেবারেই জাহেলিয়াত, একেবারেই মূর্খতাব্যঞ্জক। ইসলাম সমস্ত দুনিয়ার মানুষকে সম্বোধন করে বলে যে, তোমরা সকলেই এক মাতা ও এক পিতার সন্তান, তোমরা পরস্পর ভাই ভাই এবং মানুষ হওয়ার দিক দিয়ে তোমরা সকলেই সমান।

 pdf book ইসলামের জীবন চিত্র islamer jibon chitro

pdf book ইসলামের জীবন চিত্র islamer jibon chitro

ইসলামের জীবন চিত্র
ইসলামের জীবন চিত্র নসরুল্লাহ খান আযীয
প্রকাশনীঃ প্রবাল প্রকাশন লিঃ
বইয়ের সাইজঃ ২-এমবি
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১০৬
বইয়ের ফরম্যাট পিডিএফ ই-বুক
বিভাগঃ ইসলামী জীবন ব্যবস্থা
কৃতজ্ঞতায়ঃ বাগী কুঞ্জালয় পাঠাগার

মুমিন ব্যক্তি প্রতিটি কাজই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে করে থাকে। সাফল্য অর্জ'ন করলে সে জন্যে গর্ব করা এবং এ সফলতাকে নিজ চেষ্টা সাধনার ফল মনে করার পরিবর্তে আল্লাহ বারী তায়ালার দরবারে নত হয়ে শুকরিয়। জ্ঞাপন করে।

ইয়ারমুকের যুদ্ধ ইসলামী জেহাদের ইতিহাসে উজ্জল স্থান অধিকার করে আছে। রোমান বাহিনী বিরাট জৌলুস ও শান-শওকতের সাথে ময়দানে হাযির হয়। অপর পক্ষে ত্রিশ হাজার জানবাজ মুজাহিদ বিজয় অথবা শাহাদাতের শপথ নিয়ে পায়ে বেড়ী পরে ময়দানে জংএ হাযির হন, যাতে ময়দান থেকে ভেগে যাবার চিন্তাও মনে না আসে।

হাজার হাজার পাদ্রী আর বিশপ ক্রুশচিহ্ন হাতে নিয়ে ময়দানে হাযির হয়ে যায়। তার। হযরত ঈসা (আঃ) এর নাম নিয়ে সৈন্যদের উৎসাহ দিতে থাকে। শেষ পর্যন্ত তুমুল যুদ্ধের পর সুসজ্জিত বিরাট রোমান বাহিনী মুজাহিদদের ঈমানী শক্তির মুকাবিলায় ময়দানে টিকে থাকতে পারেনি। সবই বেকার প্রমাণিত হলো। মুজাহিদদের খোদার প্রতি অবিচল আস্থা, ধৈর্য ও দৃঢ়তা রোমান বাহিনীর পায়ের নীচের মাটি সরিয়ে দেয়। যুদ্ধে প্রায় এক লাখ রোমান সৈন্য নিহত হয়। এ বিরাট বিজয়ের সংবাদ আমীরুল মুমিনীন হযরত ওমর ফারুকের কানে পৌঁছলে তিনি সিজদায় পড়ে আল্লার শুকরিয়। আদায় করেন।

খতমে নবুওয়াত

হযরত উমার ইবনে আবদুল আযীয (রাঃ) খেলাফত লাভের পর সর্বপ্রথম যে কাজ করলেন, তা হচ্ছে তিনি জনগণকে একত্রিত করে এক ভাষণ দিলেন। ভাষণে তিনি বললেন-"আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে আমাকে খেলাফতের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আমার হাতে বায়াত করার বাধ্যবাধকতা আমি তোমাদের উপর থেকে প্রত্যাহার করলাম। আমি তোমাদের এ অধিকার দিচ্ছি যে, তোমর। যাকে ইচ্ছা খলীফা নির্বাচিত করে নাও।" কিন্তু উপস্থিত জনত। সমস্বরে বলে উঠলো: আমরা আপনাকেই খলীফা নির্বাচিত করলাম। আপনি আল্লার নাম নিয়ে খেলাফতের কাজ আঞ্জাম দিতে শুরু করুন।" ইসলামের জীবন চিত্র

আরও বই ডাউনলোড করুন
কুরআন হাদিসের আলোকে শহীদ কারা pdf ডাউনলোড
ইসলাম মানবতার ধর্ম bangla book pdf ডাউনলোড
মন্তব্য সম্বলিত বাইবেল ও কুরআনের আলোকে ডাউনলোড

জনগণ সর্বসম্মতভাবে তাঁকে খলীফা নির্বাচিত করার পর তিনি এক দীর্ঘ' ভাষণ দিলেন। ভাষণে তিনি আমীরের আনুগত্য এবং আনুগত্যের দায়িত্ব ও কর্তব্যের উপর আলোকপাত করেন। হামদ ও না'আতের পর তিনি বলেনঃ তোমাদের নবীর পরে আর কোনে। নবী নেই। তাঁর প্রতি যে কিতাব নাষিল হয়েছে, তার পরে আর কোনো কিতাব নাযিল হবেনা। আল্লাহ য। কিছ, হালাল করে দিয়েছেন, তা কিয়ামত পর্যন্ত হালাল থাকবে আর যা কিছ, হারাম করে দিয়েছেন, তাও কিয়ামত পর্যন্ত হারাম থাকবে। আমি নিজের পক্ষ থেকে কোনো ফায়সালা দানের অধিকারী নই। আমি একজন অনুসরণকারী মাত্র। এ অধিকার কারে। নেই যে, সে খোদার নাফরমানী করবে আর তার অনুগত্য করা হবে। আমি তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি নই। সকলের মতই একজন সাধারণ মানুষ। পার্থক্য এতটুকু যে, তোমাদের সকলের তুলনায় ভারী বোঝা আমার ঘাড়ে চাপানো হয়েছে।

নৈতিক চরিত্র ও পারস্পরিক সম্পর্ক

মুসলমান ব্যক্তি যখন কোনো নেক কাজ করে, তা করে শুধ, আল্লার সন্তোষ অর্জনের জন্যে। আমের ইবনে আবদুল্লাহ গাবারী একযুদ্ধে শরীক হন। আল্লাহ তায়ালা সে যুদ্ধে মুসলমানদের বিজয় দান করেন। যুদ্ধে একজন মশহর দুশমনের কন্য। মুসলমানদের হস্তগত হয়। লোকের। মেয়েটির রূপ-সৌন্দর্য ও গুণাগুণ বর্ণনা করলো। প্রশংসা শুনে আমের বললেনঃ "আমিও তো একজন পুরুষ, মেয়েটি আমাকে দিয়ে দাও।" তাঁর দুনিয়া-বিমুখতা ও খোদাভীতির কারণে লোকের। তাঁর এ অস্বাভাবিক আগ্রহের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে মেয়েটি তাঁকেই দিয়ে দিলেন। মেয়েটি হস্তগত হবার পর তিনি তাকে উদ্দেশ্য করে বললেন: "আল্লার ওয়াস্তে আমি তোমাকে আযাদ করে দিলাম।" ব্যাপারটি জানতে পেরে লোকেরা বললো: এমন একটি সুন্দরী রূপসীকে আপনি আযাদ করে দিলেন! এর পরিবর্তে অন্য কোনে। দাসীও তো আযাদ করতে পারতেন।"

আল্লার উপর তাওয়াক্কুল

মৃত্যুর পূর্বক্ষণে হযরত উমার ইবনে আবদুল আযীযকে মুসলিমা আরয করলেন:
"আমীরুল মুমিনীন! আপনি আপনার সন্তানদের ধনসম্পদ থেকে বঞ্চিত রেখেছেন আর এমন অবস্থায় এখন তাদের ফেলে যাচ্ছেন যে, তাদের নিকট কিছুই নেই। কতইনা ভালো হতো, আপনার সন্তানদের প্রতি লক্ষ্য রাখার জন্যে যদি আমাকে বা অন্য কাউকেও অসীয়ত করে যেতেন।"
"আমাকে হেলান দিয়ে বসাও।" অত্যন্ত দুর্বল আওয়াযে হযরত উমার ইবনে আবদুল আযীয বললেন।

হেলান দিয়ে বসান হলে পরে তিনি বললেন:
"মুসলিমা! তুমি বলছে। আমি আমার সন্তানদের ধনসম্পদ থেকে বঞ্চিত রেখেছি। খোদার শপথ! আমি তাদের কোনো হক বা অধিকার নষ্ট করিনি। অবশ্য যে সম্পদে তাদের কোন অধিকার ছিলন। তা আমি তাদের দেইনি। অতঃপর তুমি বলেছো, আমি তোমাকে বা খান্দানের অন্য কাউকেও অসীয়ত করে যেতে। তবে শোনো! এ ব্যাপারে আমার অসী ও অভিভাবক এবং কর্মকর্তা একমাত্র আল্লাহ তায়ালা, যিনি নেক্কারদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু। আমার সন্তানরা যদি খোদাকে ভয় করে, তবে খোদ। অবশ্যই তাদের জন্যে কোনো পথ তৈরী করে দেবেন। আর তারা যদি গুণাহে নিমজ্জিত হয়, তবে আমি তাদেরকে গুণাহের কাজে আরো শক্তিশালী করে যাবো না।

pdf ইসলামী সংস্কৃতির মর্মকথা  islami songskritir mormokotha - আবুল আলা মওদূদী

pdf ইসলামী সংস্কৃতির মর্মকথা islami songskritir mormokotha - আবুল আলা মওদূদী

book cover islami dhorshon
ইসলামী সংস্কৃতির মর্মকথা সাইয়েদ আবুল আলা মওদূদী
প্রকাশনীঃ আধুনিক প্রকাশনী
বইয়ের সাইজঃ ৪-এমবি
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ২৬৮
বইয়ের ফরম্যাট পিডিএফ ই-বুক
বিভাগঃ ইসলামী জীবন ব্যবস্থা
কৃতজ্ঞতায়ঃ বাগী কুঞ্জালয় পাঠাগার

এখন অতি সুন্দরভাবে উপলব্ধি করা যেতে পারে যে, প্রকৃতপক্ষে সমস্ত মতবাদের মধ্যে ইসলামী মতবাদই হচ্ছে প্রকৃতি ও বাস্তব সত্যের সাথে সামঞ্জস্যশীল। একমাত্র এই মতবাদেই দুনিয়া এবং মানুষের মধ্যে এক নির্ভুল সম্পর্ক স্থাপন করা হয়েছে। এর ভেতরেই আমরা দেখতে পাই: দুনিয়া কোন ঘৃণ্য বা বর্জনীয় জিনিস নয়, অথবা মানুষ এর প্রতি আসক্ত হবে এবং এর আনন্দ উপকরণের মধ্যে বিলীন হয়ে যাবে, এ এমন কোন জিনিসও নয়। এখানে না পুরোপুরি গঠন ক্রিয়া চলছে, আর না চলছে এক তরফা বিপর্যয়। একে পরিহার করা যেমন সংগত নয়, তেমনি এর ভেতরে পুরোপুরি ডুবে থাকাও সমীচীন নয়। না সে পুরোপুরি পংকিল ও অপবিত্র, আর না তার সবটাই পবিত্র ও পংকিলতা মুক্ত। এই দুনিয়ার সাথে মানুষের সম্পর্ক আপন রাজত্বের সাথে কোন বাদশাহর সম্পর্কের মতোও নয়। কিংবা জেলখানার সাথে কয়েদীর যে সম্পর্ক সেরূপ সম্পর্কও নয়।

ইসলামী সংস্কৃতির মর্মকথা

দুনিয়ার যে কোন শক্তিই তার সেজদার উপযোগী হবে অথবা সে এতখানি শক্তিধর ও ক্ষমতাবানও নয় যে দুনিয়ার প্রতিটি জিনিসের কাছ থেকেই সে সেজদা লাভ করবে। না সে এতটা অক্ষম ও অসহায় যে, তার ব্যক্তিগত ইচ্ছা-অভিপ্রায়ের কোন মূল্যই নেই, আর না সে এতখানি শক্তিমান যে, তার ইচ্ছা প্রবৃত্তিই সবকিছুর উর্ধে। সে যেমন বিশ্বপ্রকৃতির একচ্ছত্র সম্রাট নয়, তেমনি কোটি কোটি মনিবের অসহায় গোলামও নয়। এই চরম প্রান্তগুলোরই মধ্যবর্তী এক অবস্থায় তার প্রকৃত স্থান।

ইসলামী জীবন ব্যবস্থার আকর্ষিক শক্তি-পূর্বে যেমন বলা হয়েছে যে, দ্বীন ইসলামের গোটা ব্যবস্থাপনার কেন্দ্র ও ভিত্তি হচ্ছে আল্লাহর সত্তা। এর গোটা ব্যবস্থাপনাই ঐ কেন্দ্রের চারদিকে আবর্তন করছে। এই ব্যবস্থাপনায় যাকিছু রয়েছে-তা মনন ও প্রত্যয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট হোক আর পূজা-উপাসনা ও ইবাদাত-বন্দেগীর সাথে সম্পৃক্ত হোক অথবা তা দুনিয়াবী জীবনের কোন কারবারই হোক- তার প্রতিটি জিনিসেরই গতি ঐ কেন্দ্রীয় সত্তার দিকেই নিবদ্ধ এবং প্রতিটি জিনিসই তার আকর্ষণ শক্তির প্রচণ্ড তারের সাথে সংযুক্ত হয়ে আছে। খোদ দ্বীন (আনুগত্য) ও ইসলাম (আত্মসমর্পণ) শব্দ দু'টি-যার থেকে এই ধর্মীয় ব্যবস্থাপনাটি উদ্ভাবিত হয়েছে-তার এই প্রকৃতি ও নিগূঢ় তত্ত্বকে অত্যন্ত চমৎকারভাবে প্রতিপন্ন করে। দ্বীন ও ইসলাম শব্দের মানেই হচ্ছে এই যে, বান্দাহ তার আল্লাহর সন্তুষ্টির সামনে মাথা নত করে দিবে এবং তাঁরই ইচ্ছার অনুগত হবে।
وَمَنْ أَحْسَنُ دِينًا مِّمَّنْ أَسْلَمَ وَجْهَهُ لِلَّهِ وَهُوَ مُحْسِنٌ (النساء : ١٢٥)
"যে ব্যক্তি আল্লাহর সামনে মাথা নত করে দিয়েছে এবং সে সৎকর্মশীলও তার চেয়ে উত্তম দ্বীন আর কার হবে।" (সূরা আন নিসা: ১২৫)
وَمَنْ يُسْلِمُ وَجْهَةٌ إِلَى اللَّهِ وَهُوَ مُحْسِنٌ فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَى
"যে ব্যক্তি আপন মুখমণ্ডল আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে দেয় এবং সেই সঙ্গে সে সৎকর্মশীলও হয়, সে তো অত্যন্ত মযবুত রজ্জু আকড়ে ধরলো।"
-(সূরা লোকমান: ২২)

আরও বই ডাউনলোড করুন
দুই সুলতান - জামান সাদী পিডিএফ ই-বুক ডাউনলোড ডাউনলোড
কুরআন মহাবিশ্ব মহাধ্বংস - মুহাম্মদ আনওয়ার হুসাইন পিডিএফ ডাউনলোড ডাউনলোড
কুরআন কোয়াসার শিঙ্গায় ফুৎকার ডাউনলোড

মৌলিক আকীদা ও চিন্তাধারা

ঈমানের বাৎপর্য ও গুরুত্ব

জীবন দর্শন ও জীবন লক্ষ্যের পর এবার আমাদের সামনে তৃতীয় প্রশ্নটি উত্থাপিত হয়। তা হচ্ছে এই যে, ইসলাম কোন্ ভিত্তির ওপর মানব চরিত্রের পুনর্গঠন করে?
মানুষের সকল কাজ-কর্ম ও ক্রিয়া-কাণ্ডের উৎস হচ্ছে তার মন। কর্ম-কাণ্ডের উৎস হিসেবে মনের দু'টি অবস্থা রয়েছে। একটি অবস্থা হচ্ছে এই যে, তাতে কোন বিশেষ ধরনের চিন্তাধারা বদ্ধমূল হবে না, নানারূপ বিচ্ছিন্ন ও বিক্ষিপ্ত চিন্তাধারা প্রবিষ্ট হতে থাকবে এবং তার মধ্যে যে চিন্তাটি বেশী শক্তিশালী, সেটিই হবে কাজের প্রেরণাদানকারী। আর দ্বিতীয় অবস্থাটি হচ্ছে এই যে, তা বিক্ষিপ্ত চিন্তাধারার বিচরণক্ষেত্র থাকবে না, বরং তার ভেতরে কতিপয় বিশিষ্ট চিন্তাধারা এমনভাবে দৃঢ়মূল হবে যে, তার গোটা বাস্তব জীবন স্থায়ীভাবে তারই প্রভাবাধীন হবে এবং তার দ্বারা বিক্ষিপ্ত ক্রিয়া-কাণ্ড অনুষ্ঠিত হবার পরিবর্তে সুবিন্যস্ত ও সুসংহত কর্ম-কাণ্ড সম্পাদিত হতে থাকবে।

প্রথম অবস্থাটিকে একটি রাজপথের সাথে তুলনা করা যেতে পারে; প্রত্যেক যাতায়াতকারীর জন্যেই সে পথটি অবাধ, উন্মুক্ত। তাতে কারো কোন বিশিষ্টতা নেই। দ্বিতীয় অবস্থাটি হচ্ছে একটি ছাঁচের মতো; এর ভেতর থেকে হামেশাই একটি নির্দিষ্ট রূপ ও আকৃতির জিনিস ঢালাই হয়ে বেরোয়। মানুষের মন যখন প্রথম অবস্থায় থাকে, তখন আমরা বলি যে, তার কোন চরিত্র নেই। সে শয়তানও হতে পারে, আবার ফেরেশতাও হতে পারে। তার প্রকৃতিতে রয়েছে বহুরূপী স্বভাব। তার দ্বারা কখন কী ধরনের কর্ম-কাণ্ড অনুষ্ঠিত হয়, কোন নিশ্চয়তা নেই। পক্ষান্তরে সে যদি দ্বিতীয় অবস্থায় আসে তো আমরা বলে থাকি যে, তার একটি নিজস্ব চরিত্র আছে। তার বাস্তব জীবনে একটি নিয়ম-শৃংখলা, একটি ধারাবাহিকতা আছে। পরন্তু সে কোন্ অবস্থায় কি কাজ করবে তা নিশ্চিতভাবে বলা যেতে পারে।

মজবুত ঈমানের বিষয়

কুরআন মজিদে ঈমানের বিষয় সম্বন্ধে এতো বিস্তৃতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে যে, তার ভেতর কোন মতভেদের অবকাশ নেই। কিন্তু যারা কুরআনের বাকরীতি অনুধাবন করতে পারেনি, অথবা তার বক্তব্য বিষয় অনুসরণ করতে সক্ষম হয়নি, তাদের মধ্যে কিছুটা ভ্রান্ত ধারণার সৃষ্টি হয়েছে। কুরআনের বাকরীতি হচ্ছে এই যে, কোথাও সে গোটা প্রত্যয়কে একই সঙ্গে বিবৃত করেছে, আবার কোথাও সময় ও সুযোগ অনুযায়ী তার কোন কোন অংশ বিবৃত করে তারই ওপর গুরুত্ব প্রদান করেছে। এর থেকে কোন কোন লোক এ ধারণা করে বসেছে যে, ইসলামের প্রত্যয়কে বিশিষ্ট ও বিভক্ত করা যেতে পারে। অর্থাৎ তার ভেতর থেকে কোন একটি কিংবা কোন কোনটির প্রতি ঈমান পোষণই যথেষ্ট আর কোন কোনটি অস্বীকার করেও মানুষ কল্যাণ লাভ করতে পারে। অথচ কুরআনের চূড়ান্ত ফায়সালা এই যে, প্রত্যয় হিসেবে যতগুলো বিষয়কে সে পেশ করেছে, তার সবকিছুই স্বীকার করা আবশ্যক। তার একটি থেকে অপরটিকে কিছুতেই পৃথক করা চলে না। তার সবগুলো মিলে একটি অখণ্ড ও অবিভক্ত সত্তায় পরিণত হয় এবং তাকে সামগ্রিকভাবে মেনে নেয়াই কর্তব্য। তার কোন একটিকেও যদি অস্বীকার করা হয় তাহলে সে অস্বীকৃতি বাকী সবগুলোর স্বীকৃতিকে নাকচ করে দেবে।

pdf ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা islami rastro babostha totto o proyog

pdf ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা islami rastro babostha totto o proyog

ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা তত্ত্ব ও প্রয়োগ
ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা তত্ত্ব ও প্রয়োগ ইউসুফ আল কারযাভী
প্রকাশনীঃ ইসলামিক থ্যাট
বইয়ের সাইজঃ ৫-এমবি
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৩০০
বইয়ের ফরম্যাট পিডিএফ ই-বুক
বিভাগঃ ইসলামী জীবন ব্যবস্থা
কৃতজ্ঞতায়ঃ বাগী কুঞ্জালয় পাঠাগার

অসহায় ও দুর্বলের আশ্রয়স্থল ইসলামি রাষ্ট্র

সবলের স্বার্থ নয়; বরং দুর্বলের অধিকার সংরক্ষণই ইসলামি রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। তাই ইসলামি রাষ্ট্র সম্পদশালীদের থেকে যাকাত সংগ্রহ করে গরিব দুস্থদের মাঝে তা বিতরণ করে থাকে। এমনিভাবে রাষ্ট্রের অন্যান্য রাজস্ব থেকেও এতিম, অনাথ ও সম্বলহারা মুসাফিরের জন্য ইসলামি রাষ্ট্রে সহযোগিতার অংশ নির্ধারিত থাকে, 'যাতে ধন-সম্পদ মুষ্টিমেয় কয়েকটি হাতে সীমাবদ্ধ না হয়ে পড়ে'
(সূরা হাশর, ৫৯: ৭)।

ইসলামের প্রথম খলিফা তার ভাষণে বলেন: 'জেনে রেখো! তোমাদের মধ্যে সবল ব্যক্তি আমার কাছে দুর্বল যতক্ষণ না তার থেকে অপরের অধিকার আদায় করতে পারি, এবং তোমাদের মধ্যে দুর্বল ব্যক্তি আমার কাছে সবল যতক্ষণ না তার প্রাপ্ত অধিকার ফিরিয়ে দিতে পারি'। ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থা: তত্ত্ব ও প্রয়োগ

ইসলামি রাষ্ট্র অসহায় মজলুমদের রাষ্ট্র। শক্তিশালী ও বলবানদের বিষাক্ত থাবায় যারা আক্রান্ত ও জালেমদের পায়ের তলায় যারা পিষ্ঠ এবং তাদের ধন-সম্পদ ও ক্ষমতার দাপটের সামনে যারা অসহায়ভাবে জীবনাপাত করছে, এ সকল মজলুমকে জুলুম-অত্যাচার থেকে পরিত্রাণ দেয়ার জন্যই ইসলামি রাষ্ট্র এদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে লিপ্ত।

'তোমাদের কি হয়েছে' কেন তোমরা আল্লাহর রাস্তায় সংগ্রাম করছ না; অথচ মজলুম অসহায় নারী পুরুষেরা চিৎকার দিয়ে বলছে: হে প্রভু! আমাদেরকে এ অত্যাচারী জনপদ থেকে বের করে নাও, আমাদের জন্য তোমাদের পক্ষ থেকে একজন বন্ধু ও একজন সাহায্যকারী তৈরি করে দাও” (সুরা নিসা, ৪: ৭৫)।

চারিত্রিক ও আদর্শিক রাষ্ট্র

ইসলামি রাষ্ট্র হচ্ছে নৈতিক ও আদর্শিক রাষ্ট্র যা সঠিক নিয়ম-নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। রাষ্ট্রীয় নিয়ম-নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে এটি আপোষহীন। অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক, শত্রু ও মিত্র এবং যুদ্ধাবস্থা ও স্বাভাবিক অবস্থা ইত্যাদি যে কোনো পরিস্থিতিতে এই রাষ্ট্র তার মূলনীতি হারিয়ে ফেলে না। ইসলামি রাষ্ট্র কখনো দু'মুখো নীতি পোষণ করে না এবং দু'ধরনের ভাষায় কথা বলে না। ইসলামি রাষ্ট্রে অন্যায়ের পথ ধরে ন্যায় খুঁজে বেড়ানো এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশ সৃষ্টি করে কাঙ্ক্ষিত স্বার্থ হাসিল করা গ্রহণযোগ্য নয়। এও রাষ্ট্র ন্যায় ও মহৎ লক্ষ্য অর্জনের বিশ্বাসী, পাশাপাশি সৎ ও সঠিক উপায় অবলম্বনেও আপোষহীন।

ইসলামের মহান নবি সা. তাঁর উম্মতকে শিক্ষা দিয়েছেন: "নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা মহান ও পবিত্র। তিনি অপবিত্র বস্তু গ্রহণ করেন না"। এখানে অপবিত্র বলতে বুঝানো হয়েছে: সুদ-ঘুষ ইত্যাদি হারাম ও অবৈধ উপায়ে আহরিত সম্পদ যা ভালো ও কল্যাণকর কাজে ব্যয় করা হয়। ইসলামি রাষ্ট্র হচ্ছে সৎ ও উত্তম চরিত্রের সাক্ষাত প্রতিবিম্ব যা ঘোলকলায় পূর্ণ করার মিশন নিয়ে মহানবি সা. প্রেরিত হয়েছিলেন। এটি পুরো মানবতার জন্য উপহার স্বরূপ। আল্লাহর এ জমিনে তাঁর আদল-ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে যার একমাত্র মিশন যা সাদা-কালো, আত্মীয়-অনাত্মীয় সবার জন্য সমান।

ইসলামি রাষ্ট্রের প্রকৃতি

ইতঃপূর্বে আমরা 'ইসলামি রাষ্ট্রের অবকাঠামো' শিরোনামে উল্লেখ করেছি যে ইসলামি রাষ্ট্র হচ্ছে ইসলামি মূলনীতিতে প্রতিষ্ঠিত একটি বেসামরিক (সিভিল) রাষ্ট্র। এটি পাশ্চাত্য ইতিহাসের অতি পরিচালিত সেই ধর্মীয় পুরোহিত রাষ্ট্রতুল্য নয়, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্র ও গীর্জার মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘর্ষ চলে আসছিল, অবশেষে বিপ্লবের মাধ্যমে তার পরিসমাপ্তি ঘটে এবং চতুর্দিক থেকে আওয়াজ উঠতে থাকে: সর্বশেষ পাদ্রির নাড়িভূড়ির সাথে তাদের সর্বশেষ রাজত্বকেও দাফন করে দাও"।

কিন্তু সেক্যুলারিজমের তল্পিবাহক আরব ও মুসলিম রাষ্ট্রগুলোতে ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থার বিরুদ্ধে রীতিমতো অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে যে, ইসলামি রাষ্ট্র হচ্ছে ঐ ধর্মীয় পুরোহিত রাষ্ট্র যেখানে খোদায়ী শাসনের নামে এক বিরাট জগদ্দল পাথর জনগণের ওপর চেপে বসবে। সেক্যুলারিজমের জয়গান গেয়ে ড. ফারাজ ফাউদাহ "ধ্বংস পূর্ব পরিস্থিতি )قبل السقوط(" নামে একটি বই প্রকাশ করেছেন, যেখানে ইসলামি জীবন ব্যবস্থা এবং ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে রীতিমতো আক্রমণ চালানো হয়েছে। এর প্রতিউত্তর হিসেবে সাহিত্যিক বন্ধুবর অধ্যাপক আবদুর মজীদ সুবহ্ (আল্লাহ তার হেফাজত করুন) যা লিখেছেন তাই যথেষ্ট মনে করি। কিন্তু আমি এখানে সেক্যুলারিজমের সমর্থনে লিখিত লেখকের কিছু কথা উল্লেখ করার প্রয়াস পাচ্ছি

ইসলামী অনুষ্ঠানের তাৎপর্য  islami onusthan er tatporjo - মওদূদী  pdf

ইসলামী অনুষ্ঠানের তাৎপর্য islami onusthan er tatporjo - মওদূদী pdf

ইসলামী অনুষ্ঠানের তাৎপর্য
ইসলামী অনুষ্ঠানের তাৎপর্য সাইয়েদ আবুল আলা মওদূদী
প্রকাশনীঃ আধুনিক প্রকাশনী
বইয়ের সাইজঃ ২-এমবি
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৯৬
বইয়ের ফরম্যাট পিডিএফ ই-বুক
বিভাগঃ ইসলামী জীবন ব্যবস্থা
কৃতজ্ঞতায়ঃ বাগী কুঞ্জালয় পাঠাগার

আমরা মুসলমানগণ হযরত মুহাম্মাদ (স)-কে 'সরওয়ারে আলম' বলে থাকি, সাদামাটা কথায় এর অর্থ হলো 'বিশ্বনেতা'। হিন্দি ভাষায় এর তরজমা হলো 'জগত গুরু'। ইংরেজীতে বলে (Leader of the world)। দৃশ্যত এটা একটা বড় খেতাব। কিন্তু যে মহাসম্মানিত ব্যক্তিকে এ খেতাব দেয়া হয়েছে তাঁর জীবনের কার্যাবলী বাস্তবিকই এমন যে, তাঁকে বিশ্বনেতা বলা অতিশয় উক্তি নয় বরং এটাই তাঁর ন্যায্য পাওনা।

দেখুন, কোনো ব্যক্তিকে বিশ্বনেতা বলার জন্য প্রথম শর্ত হওয়া উচিত, তিনি কোনো বিশেষ জাতি কিংবা বংশ অথবা শ্রেণীর কল্যাণের জন্য নয় বরং বিশ্বমানবতার কল্যাণের জন্য কাজ করবেন। আপনি একজন দেশপ্রেমিক অথবা জাতীয়তাবাদী নেতার এ কারণে যত ইচ্ছা প্রশংসা করুন যে, তিনি তাঁর জনগণের যথেষ্ট সেবা করেছেন। কিন্তু আপনি যদি তাঁর স্বদেশবাসী বা স্বজাতির লোক না হন, তাহলে তিনি কোনো অবস্থাতেই আপনার নেতা হতে পারেন না। যে ব্যক্তির শুভেচ্ছা, ভালবাসা ও কল্যাণকামিতা এবং যাবতীয় কর্মকাণ্ড চীন বা স্পেনের জন্য সীমাবদ্ধ, একজন ভারতবাসী কি কারণে তাঁকে তাদের নেতা বলে মানবে? বরং তিনি যদি নিজের জাতিকে অপর জাতি হতে শ্রেষ্ঠ মনে করেন এবং সে জাতিকে পদানত করে নিজের জাতিকে উপরে উঠাতে চান, তাহলে তো অন্য জাতি তাকে নেতা মানা দূরের কথা, উল্টো তাকে ঘৃণা করতে বাধ্য হবে। বিশ্বের সকল জাতির মানুষ কোনো এক ব্যক্তিকে তাদের নেতা শুধু তখনই স্বীকার করে নিতে পারে, যখন সে নেতার দৃষ্টিতে সকল জাতি ও সকল মানুষ হবে সমান। তিনি সমভাবে সকলের শুভাকাঙ্ক্ষী কল্যাণ কামনার দিক থেকে কোনো অবস্থাতেই একজনকে আরেকজনের উপর অগ্রাধিকার দিবেন না। ইসলামী অনুষ্ঠানের তাৎপর্য

বিশ্বনেতার প্রকৃত অবদান

বিশ্ববাসী জানেন, বিশ্বনবী মুহাম্মাদ (স) মানবতার সেই মহান ব্যক্তিগণের অন্তর্ভুক্ত, যারা প্রাচীনকাল হতে মানবজাতিকে আল্লাহর ইবাদাত ও নৈতিক চরিত্রের শিক্ষা দেবার জন্য দুনিয়ায় আবির্ভূত হয়েছেন। এক আল্লাহর বন্দেগী এবং পবিত্র নৈতিক জীবনের শিক্ষা, যা সবসময় দুনিয়ার নবী-রাসূল কৃষি ও মুনিগণ দিচ্ছিলেন, সেই শিক্ষা নবী মুহাম্মাদ (স) দিয়েছেন। তিনি কোনো নতুন রবের ধারণা পেশ করেননি এবং অন্য কোনো দুর্লভ চরিত্রেরও সবক দেননি, যা তাঁর পূর্বেকার মানবতার পথ প্রদর্শকদের শিক্ষা হতে ভিন্ন ছিলো, যার কারণে আমরা তাঁকে মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিত্ব বলে থাকি।

এ প্রশ্নের উত্তর হলো, নিশ্চয় মহানবী (স)-এর আগের লোকেরা আল্লাহর সত্তা ও তাঁর একত্ব সম্পর্কে অবহিত ছিলো। কিন্তু একথা পরিপূর্ণভাবে অবহিত ছিলো না যে, এ দার্শনিক সত্যের মানুষের নৈতিকতার সাথে কি সম্পর্ক রয়েছে। নিসন্দেহে মানুষ নৈতিকতার উত্তম নীতিমালা সম্পর্কে অবহিত ছিলো। কিন্তু সুস্পষ্টভাবে তাদের জানা ছিলো না যে, জীবনের বিভিন্ন দিক ও বিভাগে এই নৈতিক নীতিমালার বাস্তব অনুশীলন কিভাবে হওয়া উচিত। আল্লাহর উপর ঈমান, নৈতিক নীতিমালা ও কর্মময় জীবন এ তিনটি ছিলো পৃথক পৃথক জিনিস যেগুলোর মধ্যে যৌক্তিক সম্পর্ক এবং কোনো গভীর ও গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র বিদ্যমান ছিলো না। কেবল মুহাম্মাদ (স) সর্বপ্রথম এ তিনটিকে একত্রে যুক্ত করে একটি ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং এগুলোর এই মিশ্রণের মাধ্যমে একটি পরিপূর্ণ সভ্যতা ও সংস্কৃতির রূপ শুধু কল্পনার জগতে নয়, বরং কর্মের জগতেও কায়েম করে দেখিয়ে দেন।

মে'রাজের পয়গাম

ইসলামের ইতিহাসে দুটি রাত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমটি হলো, যে রাতে বিশ্বনবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (স)-এর উপর কুরআন মজীদ নাযিল করা শুরু হয়েছিলো। আর দ্বিতীয়টি হলো, যে রাতে মহানবী (স)-এর মে'রাজের সৌভাগ্য হয়েছিলো। প্রথম রাতের গুরুত্বতো সকলেরই জানা যে, মানবজাতির পথপ্রদর্শনের জন্য ঐ রাতে হেদায়াতের সেই আলোকরশ্মি পাঠানো হয়েছিলো, যা বাতিলের অন্ধকারের মধ্যে শত শত বছর পর্যন্ত সত্যের আলো ছড়িয়ে আসছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত ছড়াতে থাকবে। কিন্তু দ্বিতীয় রাতের গুরুত্ব কিছু ধর্মীয় আলোচনার মধ্যে হারিয়ে গেছে। খুব অল্পসংখ্যক লোকই জানেন যে, ঐ রাতে মানব সমাজ গঠনের কত বড় কাজ আঞ্জাম দেয়া হয়েছে। আজ এ পবিত্র রাতটির স্মৃতি তাজা করতে গিয়ে আমাদের দেখতে হবে, এ রাত আমাদের জন্য কি পয়গাম বহন করে এনেছে।

শবে বরাত

সাধারণত শবে বরাতকে মুসলমানদের একটি পর্ব বা খুশির দিন বলে মনে করা হয়। এর জন্য কিছু রসম রেওয়াজও গড়ে তোলা হয়েছে। এগুলো বেশ কড়াকড়ির সাথে পালন করা হয়। ধুমধাম ও জাকজমকের বিচারেতো যেন মোহররমের পরপরই এর স্থান। কিন্তু সত্য কথা হলো, এটা অযথা একটি মনগড়া পর্ব। না কুরআন মজীদে এর কোনো ভিত্তি আছে না হাদীস শরীফে। না সাহাবায়ে কেরামের যুগের ইতিহাসে এর কোনো নাম নিশানা পাওয়া যায়। আর না প্রাথমিক কালের বুযর্গানে দ্বীনের কেউ এটাকে ইসলামের পর্ব বলেছেন।

* প্রকৃতপক্ষে ইসলাম রসম রেওয়াজ ও পালা পার্বণের দীন নয়। ইসলামতো একটি সাদাসিদা ও যুক্তিসঙ্গত দীন। এ দীন মানুষকে রসম রেওয়াজের বেড়াজাল থেকে, খেল তামাশার অর্থহীন কাজকর্মে মশগুল হওয়া থেকে বাজে কাজে সময়, শ্রম ও সম্পদ অপচয় থেকে রক্ষা করে জীবনকে বাস্তব সত্যের দিকে আকৃষ্ট করে এবং দুনিয়া ও আখেরাতের সফলতা ও কল্যাণের কাজে মানুষকে ব্যস্ত রাখে। এমন একটা দীনে প্রকৃতির সাথে এরূপ কাজের কোনো সামঞ্জস্য নেই যে, সে বছরে একদিন হালুয়া রুটি পাকানো ও আঁতশবাজী করার জন্য নির্দিষ্ট করে দেবে আর মানুষকে বলবে যে, তুমি বিশেষভাবে প্রতি বছর নিজের জীবনের কিছু মূল্যবান সময় ও নিজের কষ্টার্জিত ধনের বেশকিছু অংশ বরবাদ করতে থাকো। এর চেয়েও দূরতম কথা হলো এই যে, ইসলাম এমন কোনো রসম রেওয়াজ পালন করতে অভ্যস্ত করবে, যা শুধু সময় ও টাকা পয়সাই বরবাদ করে না, বরং কোনো কোনো সময় জীবননাশের ঘটনাও ঘটে এবং ঘরবাড়ী পর্যন্ত এই শিখা গিয়ে পৌঁছে। এ ধরনের বাজে কাজের নির্দেশ দেয়াতো দূরের কথা, যদি এমন ধরনের কোনো রেওয়াজ নবী করীম (স)-এর যামানায় বিদ্যমান থাকতো, তাহলে নিশ্চয়ই আইন প্রয়োগ করে তা বন্ধ করে দেয়া হতো। আর এ ধরনের যেসব রেওয়াজ সে সময় প্রচলিত ছিলো তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

আরও বই ডাউনলোড করুন
ইসলামে সামাজিক সুবিচার - islame shamajik subicher pdf ডাউনলোড
মুক্তির পয়গাম Islami Book Free Download ডাউনলোড
আল কুরআনের অভিধান - মুহাম্মদ খলিলুর রহমান মুমিন : al quraner ovidhan পিডিএফ ডাউনলোড ডাউনলোড

ইসলামে সামাজিক সুবিচার - islame shamajik subicher pdf

ইসলামে সামাজিক সুবিচার - islame shamajik subicher pdf

ইসলামে সামাজিক সুবিচার - সাইয়্যেদ কুতুব শহীদ pdf book
book cover islame shamajilk subiicher pdf
ইসলামে সামাজিক সুবিচার সাইয়্যেদ কুতুব শহীদ
প্রকাশনীঃ এএইচপি প্রকাশনী
বইয়ের সাইজঃ ৮-এমবি
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৫১৬
বইয়ের ফরম্যাট পিডিএফ ই-বুক
বিভাগঃ ইসলামী আদর্শ
কৃতজ্ঞতায়ঃ বাগী কুঞ্জালয় পাঠাগার

ইসলামে সামাজিক সুবিচারের গতি প্রকৃতি ইসলামের সামাজিক সুবিচার সম্পর্কে আমরা সঠিক জ্ঞান ও পরিচয় তখনই লাভ করেেত পারবো যখন তাওহীদ সৃষ্টি জগত, জীবন ও মানুষ সম্পর্কে ইসলামী ধ্যান-ধারণা ও চিন্তাধারার মোটামুটি জ্ঞান ও বুঝ আমাদের লাভ হবে। কারণ সামাজিক সুবিচারের ইসলামী দর্শন সেই মৌলিক নীতি ও বুনিয়াদী চিন্তাধারারই একটি শাখা মাত্র; যা হলো ইসলামের সমুদয় শিক্ষা ও তালিমের মূল কেন্দ্রস্থল।

যেহেতু পূর্ণমানব জীবনটাকে একটি নবরূপে নবছাঁচে ঢালাই করে সংগঠন করার কাজই হলো ইসলামের মূল কর্মসূচী। এ জন্যই তার সমুদয় সংস্কার মূলক কর্মসূচী যেমন আলমারীর তাকের উপর রেখে দেয়া হয়নি, তেমনি সে প্রত্যেকটি উদ্ভাবিত সমস্যার জন্য স্বতন্ত্র রূপে আলাদা কোন নীতিমালা ও সমাধানও দেয়নি। তার নিকট রয়েছে তাওহীদ সৃষ্টি জগত জীবন ও মানুষ সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ দর্শন ও ধ্যান-ধারণা। তার সমগ্র শাখা-প্রশাখা ও আনুষঙ্গিক নীতিমালা তার দর্শন ও ধ্যান-ধারণা থেকেই জন্ম লাভ করেছে। তার দর্শন আইন-কানুন বিধান, তার নির্ধারিত সীমারেখা এবং ইবাদাত-উপসনা এবং পারস্পরিক লেন-দেন আদান-প্রদান সম্পর্কীয় নীতিমালার সবই এ মূলনীতির সাথে গভীর সম্পর্কে বিজড়িত। আর এহেন পূর্ণাঙ্গ চিন্তাধারার আলোকেই তার বাস্তব কর্মসূচী প্রণীত হয়। প্রত্যেকটি উদ্ভাবিত নতুন অবস্থার জন্য এমন একটি নতুন ও স্বাধীন কর্মসূচী প্রণয়ন করা হয় যা অন্যান্য ব্যাপারে গৃহীত কর্মসূচীর সাথে কোন সম্পর্ক রাখে না। অথবা প্রত্যেক সমস্যার জন্য স্বতন্ত্র সমাধান অনুসন্ধান করার ও নীতি ইসলামী গতি প্রকৃতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

ইসলামে সামাজিক সুবিচারের মূলভিত্তি

ইসলামের সামাজিক ইন্সাফের প্রকৃতি ও স্বরূপ সম্পর্কে বিগত অধ্যায় ইতিপূর্বে আলোকপাত করা হয়েছে। তা একটি লৌহ কঠিন সুদৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করে। তাকে সংক্ষিপ্ত দাওয়াত ও অস্পৃষ্ট বস্তু রূপে না রেখে তার পরিবর্তে সে তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যাবলী অর্জনের নিমিত্ত নির্দিষ্টতম উপাদান ও উপকরণের সংস্থান করে দেয়। ইস্লাম হলো একটি বাস্তবধর্মী জীবন বিধান। তা এমন ধর্ম নয় যে, ধ্যানের জগতে ওয়াজ নছীহত ও তালীম তালকীনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।

আমরা মোটামুটিভাবে এ কথাগুলো পাঠকবর্গের সামনে উপস্থি করেছি যে, সৃষ্টি জগত জীবন ও মানুষ সম্পর্কে ইস্লামের একটি মৌলিক চিন্তাধারা ও বুনিয়াদী দর্শন বিদ্যমান আছে। আর সামাজিক ইন্সাফের ধ্যান-ধারণা ও রূপরেখা হলো সেই মৌলিক চিন্তাধারা ও বুনিয়াদী দর্শনেরই একটি বাস্তব আলোকরশ্মি ও প্রতিবিম্ব। এ দর্শন ইস্লামী ইন্সাফকে এমন একটি উদারময় ও সার্বজনীন মানবিক ইন্সাফের রূপ দিয়ে পেশ করে, যা বস্তুজগতের বিষয়াবলী ও অর্থনৈতিক সমস্যা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ নয়। তার কাছে জীবনের মৌলিক মূল্যবোধ একই সময় বস্তুজগত আধ্যাত্মিক জগত উভয়ের ভিতর নিহিত। এর ভিতর পার্থক্যের রেখা অঙ্কিত করা ঠিক নয়। মানবতা এমন একটি পূর্ণাঙ্গ একাত্ব রূপ, যার বিভিন্ন উপাদান পরস্পর বিজড়িত ও সম্বন্ধযুক্ত এবং দায়িত্বশীলতার পরিচয় দানে একে অপরের অংশীদার। এটা পরস্পর সম্প্রদায়ের প্রতি ঘৃণা বিদ্বেষ ও শত্রুতা পোষণকারী বিভিন্ন দল ও সম্প্রদায়ের সমষ্টি নয়। মাঝে মাঝে অবস্থা দৃষ্টে মনে হয় যে, আসল ব্যাপারটি ইস্লামের এ মৌলিক চিন্তাধারার পরিপন্থী।

আত্মার মুক্তি

সামাজিক ধ্যান-ধারণার কোনরূপ ব্যাখ্যা এবং তার প্রতিষ্ঠা ও স্থায়ীত্বের চিন্তা করা ঐ সময় পর্যন্ত সম্ভব নয়, যতক্ষণ না তার পিছনে এ ইন্সাফের সামাজিক প্রয়োজন প্রকটভাবে অনুভূত এবং ব্যক্তির অধিকারের গভীর জ্ঞান অনুভূতি বর্তমান না থাকবে। অতঃপর এমনি রূপেই যে একটি মানবিক উচ্চ আশা-আকাঙ্খার ও মহান উদ্দেশ্যের দ্বারদেশে উপনীতি হওয়া সম্ভব হতে পারে, সে বিশ্বাস ও প্রত্যয় থাকাও একান্ত অপরিহার্য। সাথে সাথে জাগতিক পরিবেশ ও অবস্থা এমনতর হতে হবে যেন, ব্যক্তি এ ইনসাফের ব্যবস্থাপনার সাথে সম্পর্ক যুক্ত হতে এবং তার রক্ষণাবেক্ষণ ও তার জন্য সর্বপ্রকার দুঃখ-কষ্ট বরণ করে নেয়ার জন্য সামনে এগিয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ হয়ে উঠে। ব্যক্তির মধ্যে যদি তার প্রয়োজনের বাস্তব অনুভূতি না থাকে এবং যদি সে এ অনুভূতিকে সতেজ সাবলীল রাখার জন্য বাস্তব কর্মপন্থা গ্রহণ না করে, তবে শুধু কেবল আইনের আবেষ্টনী দ্বারা এহেন ইন্‌স্সাফ ও সুবিচার কায়েম করা খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার। এ আইন-কানুন যদি বাস্তবে রূপায়িতও হয়, তবে সমাজ তাকে প্রচলিত ও প্রতিষ্ঠিত রাখতে সক্ষম হয় না। ব্যক্তির মনোজগতে এমন বিশ্বাস ও প্রত্যয় বর্তমান থাকা প্রয়োজন, যা সামাজিক ইন্সাফ প্রতিষ্ঠায় সাহায্যকারীর ভূমিকা নিতে পারে। অনুরূপ তার বর্হিজগতের পারিপার্শ্বিক অবস্থা এমনতর হতে হবে, যেন তাকে বাস্তব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভবপর হয়।

আরও বই ডাউনলোড করুন
আধুনিক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ ও ইসলাম - মুহাম্মাদ কামারুজ্জামান pdf ডাউনলোড
মুক্তির পয়গাম Islami Book Free Download ডাউনলোড
আল কুরআনে অর্থনীতি pdf download ডাউনলোড

ইসলামে মানবিক সাম্য

ইতিপূর্বের আলোচনা দ্বারা আমরা সত্যিকারের সাম্যের মৌলিক উপাদানাবলী এক এক করে গুণে একত্র করেছি। এখন মানুষের আত্ম চেতনাবোধ ও দাসত্ব মনোবৃত্তির মিশ্র দ্রব্যের কবল থেকে মুক্ত হয়ে পূর্ণ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। মানুষ দারিদ্রতার অভিশাপ দুঃখ-কষ্ট অপমান এবং মৃত্যুর সংশয় থেকে এ ধারণা-জ্ঞান নিয়ে নিশ্চিত হয়েছে যে কোন কাজই আল্লাহর নির্দেশ ছাড়া হয় না। সে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রের শক্তি সমূহের নির্যাতনের যাতাকলের নিষ্পেষণ থেকে যেমন বেড়িয়ে এসেছে, তেমনি মানুষের দুয়ারে ভিক্ষার হাত সম্প্রসারিত করার অপমানজনক কাজ থেকে ও নিষ্কৃতি লাভকরেছে। সে স্বীয় মানবিক বৃত্তিনিচয়ের বেড়াজাল ছিন্ন করে সেই মহান একত্ববাদের দাবিদার এক মাত্র স্রষ্টার পানে মনোনিবেশ করেছে- যার পানে দাস মনিব সবই মাথাবনত করে। এ সব বিষয়ের ক্রমানুমিক পর্যায় প্রতিটি দিকের এবং জীবনের আবশ্যকীয় উপকরণ প্রত্যেক ব্যক্তির আয়ত্তাধীনে এসেছে এবং সত্যিকার সাম্যবাদের মৌলিক উপাদানাবলী সংগ্রহ হয়ে সাম্যবাদ যখন মানুষের দেহের প্রতিটি শিরা উপশিরার ও ধমনির সাথে মিশ্রিত হয়ে গিয়েছে, তখন আর মানব আত্মার সাম্যবাদের আওয়াজ বুলন্দ করার প্রয়োজন করে না ৷

ইসলামে সমাজবিজ্ঞান - ডাঃ এমএ মোসলেহ উদ্দিন free -pdf

ইসলামে সমাজবিজ্ঞান - ডাঃ এমএ মোসলেহ উদ্দিন free -pdf

ইসলামে সমাজবিজ্ঞান
book cover islame somajbiggan pdf download
ইসলামে সমাজবিজ্ঞান ডাঃ এমএ মোসলেহ উদ্দিন
প্রকাশনীঃ ইসলামিক থ্যাট
বইয়ের সাইজঃ ৪-এমবি
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ২১২
বইয়ের ফরম্যাট পিডিএফ ই-বুক
বিভাগঃ ইসলামী আদর্শ
কৃতজ্ঞতায়ঃ বাগী কুঞ্জালয় পাঠাগার

ইতিবাচকবাদ (Positivism) ইতিবাচকবাদ হচ্ছে Comte এর প্রবর্তিত একটি দার্শনিক ধারা। এখানে শুধুমাত্র ইতিবাচক বাস্তবতা ও পর্যালোচনাযোগ্য প্রপঞ্চসমূহের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ফলে উদ্দেশ্য হচ্ছে এগুলোর সূত্র ও সম্পর্কগুলো বিশ্লেষণ করা। এই ক্ষেত্রে আদি উৎস ও কারণসমূহ কোনো বিবেচ্য বিষয় নয়'। ইতিবাচকবাদ দ্বারা Comte মূলত সামাজিক যথার্থতাকে বুঝাতে চেয়েছেন। তিনি চেয়েছিলেন বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতির আলোকেই সমাজের সংস্কার হবে। ইতিবাচকবাদী আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল নিরীক্ষার ভিত্তিতে শুধুমাত্র বাহ্যিক বিশ্বের বিশ্লেষণ করা।

Parsons এর মতে একটি মতবাদ হিসেবে ইতিবাচকবাদের বিশ্বাস হচ্ছে এটাই যে সকল মানবিক কর্মকাণ্ডের দিকনির্দেশনা ও বিশ্লেষণের জন্য বিজ্ঞানই যথেষ্ট ও চূড়ান্ত'। ইতিবাচকবাদের প্রয়োগের মাধ্যমে Comte চেয়েছিলেন সমাজবিজ্ঞান তার প্রয়োগ করে বিজ্ঞানের উপর ভিত্তি করে একে পুনর্গঠিত করতে। এই উদ্দেশ্যে তিনি পুরাতন ধারার সংগঠনবাদকে তাঁর নিজের ইতিবাচকবাদের সাথে সংযুক্ত করতে চেয়েছিলেন। তাই Readon এর মতে Comte এর এই প্রকল্প ছিল আভিধানিক। তাছাড়া তার ইতিবাচকবাদও ছিল অনেকটা ত্রুটিপূর্ণ। Comte মূলত দর্শনের সাথে বিজ্ঞানের অযৌক্তিক সংশ্লেষণের অপচেষ্টায় অভিযুক্ত। তার মহান উদ্দেশ্য ছিল প্রকৃতি, মানবজাতি ও সমাজের একটি সমন্বিত ও সার্বজনীন বিজ্ঞানের প্রবর্তন। তবে মানব মানসিকতার বিষয়ে সম্পৃক্ত না হওয়ার কারণে তাঁর ইতিবাচকবাদ অনেকটাই ভিত্তিহীন ও আভিধানিক হয়ে ওঠে। তাছাড়া প্রকৃতিবাদের মোড়কে যে মতবাদের প্রচলন ঘটান তার সাথেও সাংঘর্ষিক।

সমাজবিজ্ঞানের অন্যান্য ধারা

আগেই বলা হয়েছে ইতিবাচক অঙ্গবাদ ছিল প্রাচীন গ্রিক দর্শনের রক্ষণশীলতার সাথে ঊনবিংশ শতাব্দীর উদারতাবাদের সমন্বয় সাধনের প্রচেষ্টা। কিন্তু চিন্তাধারায় উভয় মতবাদ ছিল বিপরীতমুখী। সমাজ সম্পর্কিত ধারণার ক্ষেত্রে অঙ্গবাদের মূল ভিত্তি ছিল কৃষ্টি ও প্রথা; আর এগুলোকে ইতিবাচকবাদ মনে করত অন্ধ অনুকরণ ও অযৌক্তিক খোলশ ও প্রাচীন ভ্রান্তির প্রতিফলন। তাই সাংঘর্ষিক এই দুই মতবাদের মধ্যে কখনো সমন্বয় সাধন করা সম্ভব নয়।

তাছাড়া আন্ত-মানবিক সংঘর্ষ পর্যালোচনার ক্ষেত্রে ইতিবাচক অঙ্গবাদ ছিল বেজায় দুর্বল। Comte সামাজিক সংঘর্ষকে বেশি ভয় করতেন। তিনি এমন একটি কর্তৃত্ববাদী সমাজের স্বপ্ন দেখতেন যেখানে বিরাজ করবে বর্ণ ব্যবস্থা।
প্রতিটি সমাজই মূলত সংঘাতপূর্ণ। Heraclitus সূফীবাদের (Sophists) মত প্রাচীন গ্রিক দার্শনিকগণ মনে করতেন সামাজিক সংঘর্ষই হচ্ছে সামাজিক বাস্তবাদের প্রাথমিক অবস্থা। মধ্য যুগের আরব বিশ্বে ইবনে খালদুন এর মত দার্শনিকও সামাজিক সংঘর্ষের উপর একটি মতবাদ দিয়ে যান। তাঁর মতে সভ্যতার বিবর্তনে বিদুঈন ও শহরবাসীদের মধ্যে সংঘর্ষ অনিবার্য। একই সংঘর্ষ ও সংগ্রামের ভিত্তিতে Marchiavelli রাষ্ট্রের উৎপত্তির ব্যাপারে তাঁর মতামত ব্যক্ত করেন। পরবর্তী যুগে সেগুলোর উৎকর্ষ সাধন করেন Jean Bodin, Hobbes ও অন্যান্যরা।

ইতিবাচক অঙ্গবাদ যখন সংঘর্ষজনিত সামাজিক বাস্তবতার ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়। তখন সামাজিক চিন্তার জগতে নতুন এক মোড় দেখা দেয়। আর এই বিদ্যার পুনর্গঠনে প্রচেষ্টার নতুন একটি উদ্যোগ দেখা দেয় সংঘর্ষ কেন্দ্রিক মতবাদের চর্চাকে কেন্দ্র করে।

সামাজিক আচরণবাদ

আকৃতিবাদী সংজ্ঞার আলোকে যখন বিষয়বস্তুও সমাজ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা অপূর্ণতার শিকার হয় তখন আবির্ভাব হয় সামাজিক আচরণবাদের সমাজ বৈজ্ঞানিক অধ্যয়নের জন্য নতুন প্রায়োগিক পদ্ধতি প্রবর্তন করতে চায়। এজন্য প্রাচীন ধারাগুলোর পদ্ধতিগত দুর্বলতা ও আকৃতিবাদের প্রয়োগ বিরোধটির প্রবণতা পরিহার করার উদ্যোগ নেয়। খোঁজ শুরু হয় নতুন ইতিবাচকবাদী পদ্ধতির।

নব্য আদর্শবাদ ও তার শাখা প্রশাখাসমূহের সুবাদে ইউরোপে এই নতুন ধারার বিস্তার দেখা যায়। যেমন, বহুত্ববাদী আচরণবাদ, প্রতীকী মিথস্ক্রিয়াবাদ ও সামাজিক কর্ম ইত্যাদি। মনোবিজ্ঞানের জগতে ঢুকে সমাজ বৈজ্ঞানিক বিষয়বস্তুসমূহের সূক্ষতর সংজ্ঞা খুঁজতে থাকে।
যেহেতু বিভিন্ন প্রপঞ্চের সাথে জড়িত সেহেতু Giddings এর নাম দেয় বহুত্ববাদী আচরণবাদ। এই মতবাদ অনুযায়ী স্বতন্ত্র ব্যক্তি ও স্বাধীন দলের বৈচিত্রের সমাহার হিসেবে দেখলেই সামাজিক ব্যবস্থার বিশ্লেষণ করা সম্ভব।

Gabriel Trade (১৮৪৩-১৯০৪) তাঁর প্রবন্ধসমূহের মাধ্যমে এই ধারার উৎপত্তি ঘটান। তাঁর মতে সমাজের মৌলিক একক হচ্ছে বিশ্বাস ও চাহিদা। আর মৌলিক গতি হচ্ছে পুনরাবৃত্তি, বিরোধিতা ও খাপ খাওয়ানোর প্রক্রিয়া যা অনেকটা Hegel-এর সংশ্লেষণ ও বিভাজনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। ইসলামে সমাজবিজ্ঞান

Trade এর মতে পুনরাবৃত্তি হচ্ছে এক ধরনের সীমাবদ্ধতা যা প্রচারের সহায়ক এবং খাপ খাওয়ানোর প্রক্রিয়া হচ্ছে আবিষ্কার যা কিনা সকল প্রকৃতির উৎস। অনুকরণ হচ্ছে আবিষ্কার অথবা নতুন ব্যক্তিগত মতবাদের সামাজিক প্রচার ও গ্রহণযোগ্যতার প্রক্রিয়া। বিরোধিতা প্রতিভাত হয় যুদ্ধ, প্রতিযোগিতা ও আলোচনার মাঝে, যার শেষ হচ্ছে খাপ খাওয়ানো কিংবা নতুন আদর্শের উৎপত্তি। অনুকরণের মধ্যে দেখা গেছে অনেক সমস্যাই লুকিয়ে রয়েছে। অনুকরণ যখন অস্তিত্ব লাভ করে তখন তা এক জটিল কর্মকাণ্ডে পরিণত হয়। তখন আর তাকে মৌলিক সামাজিক বাস্তবতা মনে হয় না। এটা কল্পনা করা সহজ যে বানর অনেক কিছুই দেখে দেখে করে। কিন্তু তাকে দিয়ে কোনো কিছু করানো দুরূহ ব্যাপার। তাই প্রকৃত অনুকরণ হচ্ছে শিক্ষা ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা থেকে উৎসারিত'। এই মতবাদের যে ঘাটতিটি লক্ষ্য করা গেছে তা হচ্ছে ভাষা সম্পর্কিত আন্ত-মানবিক মিথস্ক্রিয়াকে এখানে পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে।

সমাজ বৈজ্ঞানিক মতবাদের বিভিন্ন পরিবর্তন

জীবনধারার বিবেচনায় সমাজবিজ্ঞান অবিরত বিভিন্ন পরিবর্তনের শিকার। এর কারণ যদি কেউ বিশ্লেষণ করে তাহলে সহজেই বোঝে আসবে তা হয়েছে এই জন্য যে খোদ সমাজকে কখনো কোনো নির্দিষ্ট সংজ্ঞার আওতায় আনা সম্ভব নয়। অতএব আমরা কিভাবে আশা করতে পারি এর উৎপত্তি, ইতিহাস ও সংবিধান সহজে অধ্যয়ন করা যায় যা কিনা আবার সমাজবিজ্ঞানের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য?

আরও বই ডাউনলোড করুন
ফরীদ উদ্দীন মাসউদ এর বই - ইসলামে শ্রমিকের অধিকার pdf ডাউনলোড
ইসলামী দর্শন pdf free download - শিবলী নুমানী ডাউনলোড
তাফহীমুল কুরআন ১-১৯ খন্ড পিডিএফ ডাউনলোড! ডাউনলোড

পৃথিবীতে অনেক বিচিত্র ধরনের সমাজ রয়েছে। এগুলোও আবার সময়ের আবর্তে পরিবর্তনশীল। তদুপরি প্রতিটি সমাজবিজ্ঞানীর রয়েছে নিজস্ব স্বাদ ও রুচি যার প্রভাবে সে সমাজের ব্যাখ্যা তৈরি করে। তাছাড়া সমাজবিজ্ঞানের সাথে অন্যান্য বিজ্ঞানের সাথে নিবিড় সম্পর্ক। তাই একজন সমাজবিজ্ঞানী যখন আন্ত-মানবিক সম্পর্কের জটিল সমস্যার সমাধান করতে চায়। তখন সমাজবিজ্ঞানের পাশাপাশি ইতিহাস ও দর্শনেরও দ্বারস্থ হয়।

ফরীদ উদ্দীন মাসউদ এর  বই -  ইসলামে শ্রমিকের অধিকার pdf

ফরীদ উদ্দীন মাসউদ এর বই - ইসলামে শ্রমিকের অধিকার pdf

ইসলামে শ্রমিকের অধিকার - ফরীদ উদ্দীন মাসউদ
book cover islame sromiker odhikar pdf
ইসলামে শ্রমিকের অধিকার ফরীদ উদ্দীন মাসউদ
প্রকাশনীঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
বইয়ের সাইজঃ ২-এমবি
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১৪৮
বইয়ের ফরম্যাট পিডিএফ ই-বুক
বিভাগঃ ইসলামী আদর্শ
কৃতজ্ঞতায়ঃ বাগী কুঞ্জালয় পাঠাগার

পুঁজিবাদ ও আধুনিক শ্রমিক শ্রেণীর উদ্ভব

ত্রয়োদশ ও চতুর্দশ শতাব্দীতে ইউরোপে যে চেতনা জাগে, ক্রুসেড যুদ্ধের মাধ্যমে উন্নততর সভ্যতার অধিকারী মুসলমানদের সঙ্গে মেলা-মেশার কারণে যে আত্মসম্প্রমবোধ জাগে তা সেখানকার সমস্ত পুরনো মূল্যবোধকে লন্ডভণ্ড করে দেয়। তারা অকস্মাৎ যেন এক নূতন দিগন্তের সন্ধান পায়। ধর্মীয় পোপকদের যাঁতাকলে এতদিন তাদের যে অভ্যন্তরীণ সম্ভাবনা সমূহ গুমরে মরছিল তা' সহসাই যেন বিকশিত হয়ে ওঠে। সমস্ত বাঁধ তাদের ভেঙ্গে যায়-নব নব আবিষ্কারে তারা মেতে ওঠে।

এরই ফলশ্রুতিতে অষ্টাদশ শতকের শিল্প বিপ্লবের মাধ্যমে সেখানে এক অভূতপূর্ব সামাজিক রূপান্তর সংঘটিত হয়। নূতন নূতন শিল্প ও কলকারখানা আবিষ্কারের ফলে শিল্প উৎপাদনের উপকরণগুলির মধ্যে দ্রুত পরিবর্তন হতে থাকে। গোষ্ঠী ও সংঘভিত্তিক সব রকমের শিল্পা-শ্রমগুলি রুমে ভেঙ্গে পড়তে থাকে। গৃহ ও কুটীরশিল্পগুলি মিল ও কারখানার উৎপাদন ক্ষমতার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে না পেরে বিলীন হয়ে যেতে থাকে। আর বড় বড় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলি এসবের জায়গা দখল করে নিতে শুরু করে। দরিদ্র কুটীর শিল্পীদের হাতে বড় ধরনের ব্যবসা করার প্রয়োজনীয় পাঁজি না থাকায় তারা অসহায় হয়ে পড়ে। আর অন্যদিকে বড় বড় ব্যাসায়ীদের সমন্বয়ে বুর্জোয়া পাঁজিপতি গোষ্ঠীর জন্ম হয়।

শ্রমিকদের দুর্দশা লাঘবে মনীষিগণের প্রচেষ্টা

শ্রমিকদের প্রতি শিল্পপতিদের অন্যায়-আচরণ অতি সুস্পষ্ট। ইউরোপীয় শিল্প জীবনে এই অন্যায় পাঁজিবাদী ব্যবস্থা এক দুষ্ট বিষ-ক্ষতের মত বিরাজ করতে থাকে এবং তা একটি প্রধানতম সামাজিক সমস্যারূপে দেখা দেয়।
শ্রমিকদিগকে এহেন দুরবস্থা থেকে মুক্তি দানের জন্য, তাদের অবস্থা উন্নয়নের ব্রত নিয়ে এই সময় নানা মনীষী স্ব স্ব ধ্যান-ধারণা অনুযায়ী প্রচেষ্টায় তৎপর হয়ে উঠলেন।

আরও বই ডাউনলোড করুন
ধারাবাহিক পূর্ণাঙ্গ নামাজ শিক্ষা (প্রয়োজনীয় মাসাইল সহ) pdf islamic book ডাউনলোড
আমার বিয়ের বয়স পার হয়ে গেল বিয়ের জন্য কেউ কখনো চেষ্টা করেনি পড়ুন
আজাদী আন্দোলনে আলেম সমাজের সংগ্রামী ভুমিকা - পিডিএফ ডাউনলোড ডাউনলোড

সোশ্যালিজম বা সমাজতন্ত্র কথাটির যিনি প্রথম প্রয়োগ করেন তিনি হলেন ম্যানচেষ্টারের সুতা কলের মালিক রবটি ওয়েন (১৭৭১-১৮৫৮)। তিনি নিজে যথেষ্ট মুনাফা অর্জ'ন করতেন, কিন্তু কারখানার অভ্যন্তরে শ্রমিকদের অবস্থা দর্শনে তিনি অত্যন্ত হতাশ হয়ে পড়েন। নিউলানাক' নামক স্থানে এক আদর্শ কারখানা স্থাপন করেন এবং সেখানে সমবায় বিপণী কায়েম করে, অসুস্থ ও বৃদ্ধ হয়ে পড়লে ভাতা দেওয়ার রীতি প্রবর্তন করে তাঁর নিজের কারখানার শ্রমিকদের অবস্থা কিছুটা উন্নত করতে সক্ষম হলেন। কিন্তু যেহেতু এ এক বেসরকারী একক প্রচেষ্ট। ছিল, তাই সমাজে তা কোন সার্বিক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করতে পারে নি।

সেন্ট সাইমন (১৭৬০-১৮২৪) ও চালর্স' ফুরিয়ে' (১৭৭২-১৮৩৭) সমস্ত পণ্য সরকারী নিয়ন্ত্রণে এনে উৎপাদিত সামগ্রী সকল মানুষকে ন্যায়-নীতির ভিত্তিতে ভাগ করে দেওয়ার প্রস্তাব করে মেহনতি জনদের অবস্থা উন্নয়নের চেষ্টা করলেন।
এরপর প্রচেষ্টা চালালেন লুইব্রাঙ্ক, নৈরাজ্যবাদী জোসেফ প্রধো। (১৮০৯-১৮৬৫) মিখাইল বাকুনীন (১৮১৪-১৮৭৬) প্রমুখ মনীষী। এত করার পরও শ্রমিকদের তেমন উন্নতি পরিলক্ষিত হল না। পূর্বের মত পাঁজিপতিদের পকেট অতিরিক্ত সম্পদ দ্বারা ফুলে ফেপে উঠছিল, আর শ্রমিকদের দিন দিন অন্ধকারের দুর্গম অতলে তলিয়ে যাচ্ছিল।

সমাজতন্ত্র ও শ্রমিক

হাজারো লহর বন্যা বহায়ে, অনেক আশার পিদিম জালিয়ে, শ্রমিক শ্রেণীর রাজত্ব কায়েম করার আবেগময় বাণী শুনিয়ে, লাখো মানুষের কবরের উপর শ্রমিকদের তথাকথিত যে স্বপ্ন রাজ্যগুলি প্রতিষ্ঠিত হয়; তা সত্যই কি মেহনতিদের তথ্য সর্বহারাদের সকল সমস্যার সুষ্ঠ, সমাধান করতে পেরেছে? অন্যকথায়-সমাজতন্ত্র, দাবির বেড়াজালে নয়; বাস্তবিক ভাবেই কি পুজিবাদী স্বৈরাচারের ফলে যে আধুনিক শ্রমিক শ্রেণীর উদ্ভব হয়, এদের সমস্যার কোন ন্যায়ানুগ ও কার্যোপযোগী সমাধান বের করতে পেরেছে?

গভীর দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করি যে, আজ পর্যন্ত বক্তৃতান্ত্রিক যত আন্দোলন হয়েছে; যতগুলি বিপ্লব সংঘটিত হয়েছে, সবগুলিতেই কতিপয় মুষ্টিমেয় লোক নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির নিমিত্ত সাধারণ সর্বহারাদেরকে স্বাচ্ছন্দের আশা দিয়ে, তাদেরকে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করেছে। পাঁজিবাদীরা রাজতান্ত্রিক ও সামন্ততান্ত্রিক অবস্থায় নিজেদের স্বার্থ সংরক্ষিত করতে না পেরে গণতন্ত্রের নামে; আর গণতন্ত্র এলে বঞ্চিতদের সার্বিক সুবিধা হবে-এর প্রলোভন দিয়ে সাধারণ মানুষকে সামন্তদের বিরদ্ধে লেলিয়ে দেয়। পরিণামে গণতন্ত্র এলে এর সমস্ত সুবিধার সিংহভাগটাই তারা হাতড়িয়ে নেয়; জনসাধারণ কেবল তাদের উচ্ছিষ্টই চাটবার সুযোগ পায়। ফলে মানুষের অবস্থ! কেমন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল, তা আমরা পূর্বের আলোচনা দ্বারা উপলব্ধি করতে পারি।

ইসলামের দৃষ্টিতে শ্রম

শ্রমিকের আলোচনা করতে যেয়ে শ্রমিকের কথা আপনা-আপনি এসে পড়ে। শ্রমিকদের হাতে পাঁজি বিনিয়োগের কোন উপায় না থাকায় এবং নিজেদেরকে গতর খেটে পেট চালাতে হয় ভেবে তাদের মানসিক কাঠামো স্বভাবতই দুর্বল থাকে। এক লজ্জাজনক অনুভূতির শিকার হয়ে পড়ে তারা।

ইসলাম শ্রমিকদেরকে এই হীনমন্যতা থেকে মুক্তি দিয়েছে। সোচ্চার হয়ে ঘোষণা করেছে-ওরে! তুই ছোট নস্। কাছে শ্রমের যোগ্যতা নামক সর্বশ্রেষ্ঠ পংজি তাতে নেই কোন অসমতা। গতর খেটে পূজি না থাকলেও তোর মওজুদ রয়েছে। আর উপার্জন করা ইসলামের দৃষ্টিতে কোন লজ্জাজনক কাজ নয়। হালাল রঙ্গী তালাশ করা তাষে ভাবেই হোক অত্যন্ত প্রশংসনীয় কাজ-দ্বিতীয় স্তরের ফরয।

নবী-এ-করীম ইরশাদ ফরমান-শ্রমজীবীর উপার্জনই উৎকৃষ্টতর যদি সে সৎ উপার্জনশীল হয়। একবার রসুল করীম সাল্লাল্লাহ আলায়হি ওয়া সাল্লামের কাছে জিজ্ঞেস করা হল-ইয়া রসুল! কোন ধরনের উপার্জন শ্রেষ্ঠতর? তিনি উত্তর করলেন-নিজের শ্রমলব্ধ উপার্জ'ন। রসূলে পাক আরো ফরমান যে ব্যক্তি নিজের শ্রমের উপর জীবিকা নির্বাহ করে তার চেয়ে উত্তম আহার আর কেউ করে না। জেনে রাখ, আল্লাহ'র নবী দাউদ (আঃ) নিজের শ্রমলব্ধ উপার্জনে জীবিকা চালাতেন।

ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ Bangla Islamic Book free

ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ Bangla Islamic Book free

ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ - ডাঃ মারওয়ান ইবরাহীম আল কায়সি
book cover islame noitikota o achoron
ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ ডাঃ মারওয়ান ইবরাহীম আল কায়সি
প্রকাশনীঃ ইসলামিক থ্যাট
বইয়ের সাইজঃ ৩-এমবি
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১৭৯
বইয়ের ফরম্যাট পিডিএফ ই-বুক
বিভাগঃ ইসলামী আদর্শ
কৃতজ্ঞতায়ঃ বাগী কুঞ্জালয় পাঠাগার

সামাজিক সম্পর্ক রক্ষায় ইসলামি আদবের ভূমিকা

ইসলামি আদবের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে: সুস্থ সামাজিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা ও বজায় রাখা। আদর্শ মুসলিম ব্যক্তিত্বের অন্যতম প্রয়োজনীয় গুণাবলী হচ্ছে সততা, অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা, ওয়াদা রক্ষা করা, ক্রোধ সংবরণ করা, ধৈর্য, ভদ্রতা, মমত্ববোধ ইত্যাদি। এসব গুণ মানুষের মধ্যে অনাস্থার ভাব দূর করে আস্থা সৃষ্টি করে- যা সুষ্ঠু সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় ভিত্তি যুগিয়ে থাকে।

ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গিতে অন্যের ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকা উচিত অথবা নিজের জন্য যতখানি ভাবা হয় অন্যের জন্যেও তা ভাবা আবশ্যক। মুসলমানদেরকে পারস্পরিক দায়িত্বশীল হতে হবে এবং একজনকে অপরের বাস্তব সাহায্যে এগিয়ে আসতে হবে।

ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ

ইসলামি আদব লেহাজে আনুষ্ঠানিকতার স্থান সামান্যই। এর ফলে অবাধ সামাজিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়, সমাজ প্রশাসন আরো গতিশীল হয়, বৈঠকাদি ও যাতায়াতের পথ সুগম হয়। কারণ ইসলামে বিচ্ছিন্নতা নেই। মুসলমানদের পারস্পরিক দেখা সাক্ষাতের জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে এজন্যে যে, এর ফলে সামাজিক সম্পর্ক জোরদার হয় এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতার মনস্তাত্ত্বিক কুফল থেকে ব্যক্তি রক্ষা পায়। তদুপরি মুসলমানদেরকে অবাধে দেখা সাক্ষাতের জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে। মেহমানদারির ব্যাপারে কর্তব্য হচ্ছে মেহমানের প্রতি অতিথিপরায়ণ ও উদার হওয়া। খাবারের দাওয়াত গ্রহণ করাকে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে এবং বিয়ের ওয়ালিমায় যাওয়াকে অবশ্য কর্তব্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসলামে যৌনাচরণ বিধি

আল্লাহর সৃষ্ট প্রকৃতির অংশ হিসেবে ইসলাম যৌনতার স্বীকৃতি দেয়। তার সৃষ্ট সব কিছুই তার বিধান মোতাবেক আচরণ করলে খারাপ বা ভুল হতে পারে না। সন্দেহ নেই, ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের বিকাশ এবং সার্বিকভাবে সমাজের এক অপরিহার্য বিষয় যৌনজীবন। ব্যক্তিগত স্বার্থ-চেতনা এবং ভালবাসার আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে যৌনতার বিকাশ নিবিড়ভাবে গড়ে উঠে। যৌনজীবনে বঞ্চনার ফলে অপরিচ্ছন্ন থাকলে মানসিক স্বাস্থ্য বিপন্ন হয়, সুসম্পর্ক ব্যাহত হয় এবং সমাজে দক্ষতার অভাব ঘটে। বিবাহের মাধ্যমে যৌন জীবনকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত না করলে যৌনপ্রবৃত্তি ধ্বংসাত্মক হতে পারে। এটা তখন ব্যক্তি, বিয়ে ও পারিবারিক প্রথা এবং সার্বিকভাবে সমাজের বিরুদ্ধ শক্তি হিসেবে কাজ করবে। মূলতঃ যৌনতা ব্যক্তিকে তার বেপরোয়া পরিণতি থেকে রক্ষা করতে পারে; অপরদিকে এর বেপরোয়া গতি সমাজ জীবন যে সহযোগিতামূলক সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল তা বিপন্ন করতে পারে।"

সুতরাং যৌনাচারকে অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এটা অবশ্য কঠিন বলে প্রতীয়মান হয়; সমাজে যে সব উপায়-উপকরণের সাহায্যে ব্যক্তির যৌন আকাঙ্ক্ষাকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব তাদের সহযোগিতা ছাড়া এটা অসম্ভব মনে হতে পারে। নিম্নোক্ত আচরণবিধি অনুসরণের মাধ্যমে ইসলাম এই সমস্যার সমাধান পেশ করেছেঃ

মুসলমানদের ঐক্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয় সংরক্ষণে ইসলামি আদব

ইসলামি আদবের অন্যতম সাফল্য হচ্ছে: বিভিন্ন জাতির অন্তর্ভুক্ত, ভিন্ন ভাষাভাষী এবং বিশ্বের বিভিন্নাঞ্চলে বসবাসকারী মুসলিম জনগণের ঐক্য প্রতিষ্ঠা। পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহ থেকে গৃহীত ইসলামি আদব লেহাজের ধর্মীয় প্রকৃতি এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এজন্য পাকিস্তান সফরকারী একজন মরোক্কোবাসী সেখানকার জনগণের আচরণ বুঝতে অসুবিধায় পড়েনা, অথবা বিদেশ বিভূই বলেও মনে হয়না। মিশরের মুসলিম মহিলারা ইসলামি পোশাক পরিহিতা তুর্কি মহিলাদের দেখে বিস্মিত হয় না। ইসলামি সমাজের সদস্যরা প্রতিদিন বিভিন্ন উপলক্ষে তাদের সংহতি প্রকাশ করে জানিয়ে দেয় যে, তারা যেসব পন্থায় কাজ করে, তা তাদের ঐতিহ্যের অংশ। ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ

আরও বই ডাউনলোড করুন
Pdf Book নেক আমল বিধ্বংসী বদ আমল সমূহ - মাসুদা সুলতানা রুমী ডাউনলোড
দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী - মহিলা সমাবেশে প্রশ্নের জবাবে - সকল খন্ড পিডিএফ ডাউনলোড
রিয়াদুস সালেহীন সকল খন্ড PDF Download ডাউনলোড

ইসলামি আদব মুসলমানদের মধ্যে অভিন্ন সমঝোতা গড়ে তোলে; গঠন করে একটি সার্বজনীন সংস্কৃতি। স্থানীয় সংস্কৃতি এক ইসলামি সম্প্রদায় থেকে অপর সম্প্রদায়ে ভিন্ন হতে পারে। নামাজ পড়া ও শুভেচ্ছা জানানো, প্রধান প্রধান উৎসব, পানাহারে বিধি নিষেধ (যেমন মদ্য পান), হালাল ও হারাম মেনে চলা- প্রভৃতি সার্বজনীন ইসলামি ঐক্যের উপকরণ। প্রতিটি অঞ্চলে মুসলিম শালীন পোশাক পরিধান করে এবং বেশির ভাগ মুসলিম দেশে যথাযথ ইসলামি পোশাক পরে। স্থানীয় বৈচিত্র্যধর্মী সংস্কৃতি (যেমন খাবারের ক্ষেত্রে পাক-ভারত উপমহাদেশে জনপ্রিয় বিরিয়ানী অথবা পোশাকের ক্ষেত্রে ভারতে মুসলিম নারীদের মধ্যে চালু শাড়ী) গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কারণ: এর ফলে এক অঞ্চলের মুসলমানদের সঙ্গে অন্য অঞ্চলের মুসলমানদের পার্থক্য বুঝা যায়। কুরআনের ভাষায় আমাদের বিভিন্ন জাতিকে সৃষ্টি করা হয়েছে, যাতে আমরা একে অপরকে চিনতে পারি। এসব বিষয় বিশেষ কোন এলাকার মুসলমানদের চরিত্র ও পরিচয় মুছে দেয়না। ইসলামি আদবের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান হচ্ছে: অমুসলমানদের আচার আচরণের অনুকরণে নিষেধাজ্ঞা পালন। এর সাথে অবশ্য হস্তশিল্প, প্রযুক্তি ৷

বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে জ্ঞানান্বেষণ নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা যাবে না। ইসলাম জ্ঞানান্বেষণকে সবসময় উৎসাহিত করে এসেছে। সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখার ব্যাপারে আচার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটা সুস্পষ্ট যে, মুসলিম জীবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আচার আচরণ তাদের নিজস্ব ইসলামি দ্বারাই পার্থক্য করা যেতে পারে।

 অধ্যাপক মুজিবুর রহমান - ইসলামী আচরণ Bangla Pdf

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান - ইসলামী আচরণ Bangla Pdf

ইসলামী আচরণ - অধ্যাপক মুজিবুর রহমান pdf free download
book cover islami achoron
ইসলামী আচরণ অধ্যাপক মুজিবুর রহমান
প্রকাশনীঃ আহসান পাবলিকেশন
বইয়ের সাইজঃ ১-এমবি
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৮৪
বইয়ের ফরম্যাট পিডিএফ ই-বুক
বিভাগঃ ইসলামী আদর্শ
কৃতজ্ঞতায়ঃ বাগী কুঞ্জালয় পাঠাগার

আজ থেকে চৌদ্দশত বছর আগে প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আল্লাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, আমি তোমাদের মাঝে দু'টি জিনিস রেখে গেলাম, যতদিন পর্যন্ত তোমরা এ দু'টি জিনিষের হুকুম মত চলবে ততদিন তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না। আর তা হল আল্লাহর কিতাব আল কুরআন ও আমার সুন্নাত- আল হাদীস।"

সমাজ জীবনে আমাদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত নিচের হাদীসটি তা স্পষ্টভাবে বলে দেয়-
হযরত আবু হুরায়রা (রা:) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, এক ব্যক্তি বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! অমুক মহিলা বেশী নামায পড়ে, রোজা রাখে এবং দান খয়রাত করার ব্যাপারে খ্যাতি লাভ করেছে। কিন্তু সে তার প্রতিবেশীকে নিজের মুখের দ্বারা কষ্ট দেয়। তিনি বললেন, সে জাহান্নামী। লোকটি বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! অমুক (অপর এক) মহিলা, যে কম করে রোজা রাখে, দান করে এবং নামায পড়ে বলে জনশ্রুতি আছে। তার দানের পরিমাণ হলো পনীরের টুকরা বিশেষ, কিন্তু সে নিজের মুখের দ্বারা তার প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয় না। তিনি বললেন: সে জান্নাতী। (আহমদ ও বায়হাকী)

আমরা আমাদের প্রিয় নবী (স:)-এর কথা ভুলে গেছি বলে পথ হারা হয়েছি। ফলে কোথায় কোন আইন মেনে চলতে হবে, কোথায় কেমন আচরণ করতে হবে, কোথায় কি কথা বলতে হবে-ইত্যাদি ব্যাপারে আমরা সঠিক ভূমিকা পালন করতে পারছি না। আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ অন্ধকারে।

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধর্মনিরপেক্ষতা ও জড়বাদের অন্ধকারে অন্ধকারাচ্ছন্ন। ইসলামের প্রজ্জ্বলিত আলো এর মধ্যে প্রবেশ করার সুযোগ পাচ্ছে না। ফলে দিন দিন আমাদের সোনার ছেলেমেয়েরা জাহেলিয়াতের হিংস্র কালো থাবায় ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে। অন্ধকারে পথ হাতড়াতে গিয়ে কখনও আহত কখনও রক্তাক্ত হচ্ছে তাদের হাতগুলো। অন্য দিকে প্রচার জগতের ইলেকট্রনিক মিডিয়া কচি ও নিষ্পাপ অন্তরগুলোকে জাহেলিয়াতের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে জ্বালিয়ে পুডি ছারখার করে দিচ্ছে। জীবনকে করে তুলছে অভিশপ্ত।

মাতাপিতার প্রতি সন্তানের আচরণ

আল্লাহ তায়ালা কুরআন মাজিদে স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন-
وَقَضَى رَبُّكَ الأَتَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِنْدَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلَاهُمَا فَلَا تَقُلْ لَّهُمَا أُفٍّ وَلَا تَنْهَرْهُمَا وَقُلْ لَّهُمَا قَوْلاً كَرِيمًا - بني اسرائيل : (۲۳)
"তোমার রব ফয়সালা করেছেন যে তোমরা কারো ইবাদত (গোলামী) করবে না কেবল তাঁরই ইবাদত করবে এবং পিতামাতার সাথে ভাল ব্যবহার করবে। তোমাদের নিকট যদি তাদের কোন একজন অথবা উভয়ই বৃদ্ধাবস্থায় পৌঁছে তবে তাদেরকে 'উহ' পর্যন্ত বলবে না, তাদেরকে ভর্ৎসনা করবে না এবং তাদের সাথে মর্যাদা সহকারে কথা বলবে।" (বানী ইসরাইল- ২৩)

আরও বই ডাউনলোড করুন
দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী - মহিলা সমাবেশে প্রশ্নের জবাবে - সকল খন্ড পিডিএফ ডাউনলোড
আপনাদের প্রশ্নের জবাব ১-৩ খন্ড পিডিএফ বই ডাউনলোড ডাউনলোড
শরহে মিশকাতুল মাসাবীহ ১-৭ খন্ড পিডিএফ ডাউনলোড ডাউনলোড

এখানে আল্লাহ তায়ালা মাতাপিতার প্রতি আদব ও সদ্ব্যবহার করাকে নিজের এবাদতের সাথে একত্রিত করে ফরজ করে দিয়েছেন। আবার সূরা লোকমানে আল্লাহর শোকর আদায় এর সাথে পিতামাতার হক আদায় করাকে একত্রিত করে অপরিহার্য করে দিয়েছেন। বুখারী শরীফে নামাজকে সময়মত পড়ার পরই পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহারকে আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় কাজ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। রাসূল (সঃ) বলেছেন পিতামাতার সন্তুষ্টিতে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পিতামাতার অসন্তুষ্টিতে আল্লাহর অসন্তুষ্টি। ইবনে মাজার হাদীসে বলা হয়েছে- তোমার পিতামাতা তোমার জান্নাত অথবা জাহান্নাম। বায়হাকীর এক হাদীসে বলা হয়েছে পিতামাতা সন্তানের প্রতি যদি জুলুমও করে তবু পিতামাতার প্রতি অবাধ্যতার কারণে সন্তান জাহান্নামে যাবে। এর অর্থ হল পিতামাতার কাছ থেকে প্রতিশোধ গ্রহণের অধিকার সন্তানের নেই। তারা জুলুম করলেও সন্তান সেবাযত্ন ও আনুগত্যের হাত গুটিয়ে নিতে পারে না।

স্ত্রীর সাথ স্বামীর আচার-ব্যবহার

সূরা রা'দ এর ২২ ও ২৩ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন-
وَالَّذِينَ صَبَرُوا ابْتِغَاءَ وَجْهِ رَبِّهِمْ وَأَقَامُوا الصَّلوةَ وَأَنْفَقُوا مِمَّا رَزَقْنَاهُمْ سِرًّا وَعَلَانِيَةً وَيَدْرَءُونَ بِالْحَسَنَةِ السَّيِّئَةَ أُولَئِكَ لَهُمْ عُقْبَى الدَّارِ - جَنَّتُ عَدْنٍ يَدْخُلُونَهَا وَمَنْ صَلَحَ مِنْ آبَائِهِمْ وَأَزْوَاجِهِمْ وَذُرِّيَّاتِهِمْ وَالْمَلَائِكَةُ يَدْخُلُونَ عَلَيْهِمْ مِنْ كُلِّ بَابٍ - (الرعد : ۲۲-۲۳)
"যারা তাদের রবের সন্তুষ্টির জন্য সবর করে, নামাজ কায়েম করে, আর আমি যা দিয়েছি তা থেকে তারা গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে এবং খারাপের মোকাবিলা ভাল দিয়ে করে তাদের জন্য রয়েছে পরকালের বাড়ী। তা হচ্ছে বসবাস করার বাগান, তাতে তারা প্রবেশ করবে এবং তাদের সৎকর্মশীল বাপ-দাদা, স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানেরা প্রবেশ করবে আর ফেরেশতারা প্রত্যেক দরজা দিয়ে সালাম করতে আসবে।"