
| আল কুরআনে অর্থনীতি | ইফাবা গবেষণা বিভাগ |
|---|---|
| প্রকাশনীঃ | ইসলামিক ফাউন্ডেশন |
| বইয়ের সাইজঃ | ৮-এমবি |
| পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ | ৫৮৬ |
| বইয়ের ফরম্যাট | PDF E-BOOK |
| বিভাগঃ | ইসলামী অর্থনীতি |
| কৃতজ্ঞতায়ঃ | বাগী কুঞ্জালয় পাঠাগার |
উপরোক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্টই বোঝা যায় যে, ইসলামী জীবন বিধান ও সমাজ বিধান একটি একাঙ্গীভূত সমন্বিত ও বাস্তবায়ন-পরীক্ষিত সার্বিক আদর্শবাদ এবং সেজন্যই তার সংশ্লিষ্ট আল-কুরআন ও সুন্নাহ্ প্রসূত জ্ঞান-বিজ্ঞান সার্বিক নৈতিকতা কাঠামো থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। বিচ্ছিন্ন করা হলেই সত্য থেকে বিচ্যুতির আশংকা থাকে। আর সত্য থেকে বিত্যুতিই আনে মানসিক, চারিত্রিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়। আপাতদৃষ্টিতে (জড়) সমৃদ্ধির সাফল্য ও বিজ্ঞান প্রযুক্তির অপূর্ব
কৃতিত্বের নিদর্শন সত্ত্বেও বিপর্যয়। সমন্বিত সর্বাঙ্গীণ মানসিক কল্যাণের দিক থেকে বিপর্যয়। এ সর্বাঙ্গীণ কল্যাণমুখী জ্ঞান-বিজ্ঞান প্রযুক্তি এবং সে সকল ক্ষেত্রের গবেষণা ও ব্যবহারিক প্রয়োগ বিশ্ব মানবতারই লক্ষ্য। এ লক্ষ্য সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহরই নির্ধারিত। সমন্বয় কাজে মানুষ ব্যর্থ হয়, যদি তার ব্যক্তিত্ব ও চরিত্র গঠনে, পরিবার সংগঠন প্রক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণে এবং সমাজ, অর্থনীতি ও রাজনীতি সংগঠনে যদি উক্ত সর্বাঙ্গীন কাঠামোর যুক্তিবাদকে সংরক্ষণ ও ব্যবহার করতে ব্যর্থ হয়। এ ব্যর্থতাই আনে অসমন্বিত চিন্তার প্রয়াস, আনে ভারসাম্যহীন দৃষ্টিকোণের প্রাধান্য। আর সেখান থেকেই ক্রমে ক্রমে আসে নৈতিকতাহীন অনুশীলন, অনুসন্ধান এবং তারই ফলশ্রুতিতে আসে ধর্মনিরপেক্ষতার যুক্তিহীন প্রীতি। অর্থাৎ সর্বাঙ্গীণ অকল্যাণের দৃষ্টিহারা স্বার্থসিদ্ধির সঙ্কীর্ণ পথ সন্ধান। ইসলামী সমন্বিত সর্বাঙ্গীণ দৃষ্টিকোণ তা হতে দেয় না। কারণ, এ দৃষ্টিকোণে ঈমান প্রতিষ্ঠিত আকারে ভিত্তি ধরে আল্লাহর সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দিয়ে ব্যক্তি
সামগ্রিক ব্যবস্থার অন্তর্গত অর্থনীতি ব্যবস্থা
প্রথম দিক-নির্দেশনাটি হলো ইসলামী জীবন ব্যবস্থা ও সমাজ ব্যবস্থার মধ্যে মৌল সম্পর্ক নিয়ে। ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকেই প্রথমে মানুষের ব্যক্তি জীবন ও সমাজ জীবনের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে আল-কুরআন ও সুন্নাহ্র আদর্শকে ভিত্তি করে। এ আদর্শ মানুষকে মু'মিন হিসেবে সুসমন্বিতভাবে সংগঠিত ও বিবর্তিত ব্যক্তিত্বে রূপান্তরিত করে। তার ব্যক্তি জীবন পাশ্চাত্য অর্থনীতিবিদের দৃষ্টিকোণের অর্থনৈতিক মানুষ (Economic man) থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির। ইসলামী জীবনের অধীনে ব্যক্তি-মানুষ আদর্শবাদের নৈতিকতা ও বিধি-বিধানের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পূর্ণ মানুষ, আংশিক সংকীর্ণ মানুষ নয়। এ সকল পূর্ণ মানুষই আবার সংগঠন করে সুসমন্বিত সমাজ সত্তা ও সামাজিক আচরণ। সামাজিক ইসলামী নৈতিকতা ও বিধি থেকেই আসে প্রশিক্ষণ। সংগঠিত হয় শিক্ষা-প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা। সংগঠিত হয় উম্মাহ্র রাষ্ট্ররূপ ও সরকার। প্রতিষ্ঠিত সরকার প্রতিনিধিত্ব করে ব্যক্তি চরিত্রের গুণমর্যাদা। যাঁরা রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ও দায়িত্বে আসীন হবেন পারস্পরিক আলোচনা, পরামর্শ নীতি ('শুরা বাইনাহুম') অনুসরণে তাঁরা প্রতিনিধিত্ব করবেন সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালনের সংকল্পকে-যার নির্দেশ আল-কুরআন ও সুন্নাহ্ থেকে উদ্ভূত। (যেমন-সূরা আন্-নিসাঃ
৫৯-এ* উল্লেখ আছে)। সে সংকল্প প্রশিক্ষণ ও পূর্ণ জ্ঞান থেকেই উদ্বুদ্ধ হবে। রাজনীতিবিদ ও সরকারী কর্মকর্তাগণ দায়িত্বে নিযুক্ত হবেন দায়িত্ব পালনের জন্য। ক্ষমতা ভোগ বা ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য নয়। দায়িত্বে আসীন অবস্থায় যে ক্ষমতা তাঁরা ব্যবহার করবেন, তা হলো আল-কুরআন ও সুন্নাহ্ থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা-প্রশিক্ষণ-প্রসূত বিধি প্রয়োগের যোগ্যতার ক্ষমতা। অর্থনীতি ব্যবস্থার বিধি প্রয়োগের যোগ্যতার ক্ষমতাও তার অন্তর্গত।
| কুরআন হাদিসের আলোকে শহীদ কারা pdf | ডাউনলোড |
|---|---|
| পবিত্র বাইবেল পরিচিতি ও পর্যালোচনা আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর | ডাউনলোড |
| ইসলামের দৃষ্টিতে কাঙ্খিত পরিবার Bangla PDF | ডাউনলোড |
অর্থনীতি ব্যবস্থার পরিচালনা শক্তি
উপরোক্ত প্রধান দিক নির্দেশনার সামগ্রিক ইসলামী জীবন ও সমাজ ব্যবস্থার পরিকল্পনা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, তার অন্তর্গত অর্থনীতিকে ইসলামী জীবন ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্নভাবে পর্যবেক্ষণ করা অথবা অনুশীলন, বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয়। কখনো আধুনিক অর্থনৈতিক পদ্ধতিতে অনুশীলন বিশ্লেষণ ও গবেষণা পরিচালনা করা হলেও সামগ্রিক ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কের যুক্তিবাদের কাঠামোর শাসন অনুশাসন স্বীকার করেই তা করতে হয়। সে জন্যই ইসলামী অর্থনীতি পাশ্চাত্য ধরনের অর্থনীতি নয়।
এ কাঠামোর শাসন-অনুশাসনকে স্বীকৃতিদানে প্রথম পদক্ষেপ হলো মানুষের ভিন্নধর্মী ভূমিকাকে বাস্তব বলে গ্রহণ করা। ইসলামী অর্থনীতিতে মানুষের ভূমিকা পূর্ণ-মানুষ হিসেবে। মানুষ শুধু শ্রম নয়। শ্রমের পরিমাণ বা শ্রমশক্তিই মূল্য বা মর্যাদার উৎস নয়। মানুষের ভূমিকা কেন্দ্রীয় শক্তি-যে শক্তি মানুষকেও গড়ে, সমাজকেও গড়ে, আবার অর্থনীতিকেও গড়ে।
মনোবল, বুদ্ধিবল, জ্ঞানবল, উদ্যোগবল এবং শ্রমবল মিলিয়ে মানুষ এসব গড়ে। আর তার ফলেই গড়া হয়ে যায় সভ্যতা আর অ ইতিহাস আর তারই উপযোগী হয় মানুষের কাজকর্ম ও আচরণ। সে কা আচরণ কাঠামোভুক্ত থেকেই হয় সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং কাজকর্ম ও আচরণ। তারই মধ্যে প্রতিফলিত হয় এবং প্রবাহিত হয় প্রক্রি প্রগতির স্রোতধারা। মানুষ ও স্রোতধারার নির্মাণকর্তা আবার নির্মিত প্রতিনিধি; বিশ্ব স্রষ্টা আল্লাহর প্রতিনিধি। বিশ্ব স্রষ্টার প্রতিনিধিত্ব করতে হয় বিশ্ব স্রষ্টার বিধানের প্রয়োগ সাহায্যে আর প্রকৃতির শক্তি, প্রাকৃতিক সম্পদ ও মানব সম্পদকে বিশ্ব স্রষ্টার
আর্থ-সামাজিক তাৎপর্য
বর্তমান পরিস্থিতিতে মুসলিম উম্মাহ্র জন্য আয়াতটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান বিশ্বের অমুসলিম বৃহৎ শক্তিগুলো বাহ্যতঃ আলাদা আলাদা শক্তি। কিন্তু মুসলমানদের বিরুদ্ধে "তারা নিজেরা একে অপরের বন্ধু।” অপরদিকে মুসলিম উম্মাহর অবস্থা অত্যন্ত করুন। কোন মুসলিম দেশ খৃষ্টানদেরকে বন্ধু বানিয়েছে, কেউ ইহুদীদেরকে বন্ধু করে নিয়েছে। আবার কেউ খোদা-দ্রোহী নাস্তিক বিশ্বের বন্ধুত্বের আশ্রয় নিয়েছে। শুধু তাই নয়, বরং এক মুসলিম দেশ অন্য মুসলিম দেশের স্বার্থের হানি করে অমুসলিমদের প্রতি বন্ধুত্বের হাত প্রসারিত করে আছে। এ ভাবে এক একটি মুসলিম দেশ কোন না কোন অমুসলিম শক্তির সংগে তথাকথিত বন্ধুত্বের চুক্তিতে আবদ্ধ হয়ে তাদের লেজুড় হয়ে ঝুলছে।
এরূপ বন্ধুত্বের অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক পরিণতি ভয়াবহ। আমরা শুধু অর্থনৈতিক ব্যাপারেই এখানে আলোচনা করব।
কোন কোন মুসলিম রাষ্ট্রের সরকার নিজ ক্ষমতা ও ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য অমুসলিম শক্তির সংগে অসম ক্ষতিকর অর্থনৈতিক চুক্তি ও বন্ধুত্বে আবদ্ধ হতে দেখা যায়। এতে করে সংশ্লিষ্ট সরকারের ক্ষমতা হয়তো কিছুটা দীর্ঘায়িত হয়, কিন্তু দেশের মুসলিম জনতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ভাবে অমুসলিম দেশের সংগে গোপন আঁতাত ও বন্ধুত্ব করার জন্য দেশের মুসলিম জনতা অর্থনৈতিক শোষণের শিকার হয়। অর্থনৈতিক দিক দিয়ে যে সব দেশের সংগে সীমান্ত-বাণিজ্য চুক্তি ও মুসলিম দেশে উৎপন্ন রপ্তানী-যোগ্য দ্রব্যের রপ্তানীর চাবিকাঠি অন্যের হাতে তুলে দেয়া, মুসলিম উম্মাহ্র স্বার্থের হানি করে অমুসলিম শক্তির সংগে অর্থনৈতিক চুক্তি করা ইত্যাদির বেলায় আলোচ্য আয়াতের নির্দেশ প্রযোজ্য।