মাসুদা সুলতানা রুমী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
মাসুদা সুলতানা রুমী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
নারী ও পুরুষ পরস্পরের বন্ধু ও অভিভাবক nari o purush porosporer bondhu

নারী ও পুরুষ পরস্পরের বন্ধু ও অভিভাবক nari o purush porosporer bondhu

nari o purush porosporer bondhu
নারী ও পুরুষ পরস্পরের বন্ধু ও অভিভাবক মাসুদা সুলতানা রুমী
প্রকাশনীঃ আহসান পাবলিকেশন
বইয়ের সাইজঃ ১-এমবি
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৪২
বইয়ের ফরম্যাট পিডিএফ ই-বুক
বিভাগঃ পারিবারিক জীবন
কৃতজ্ঞতায়ঃ বাগী কুঞ্জালয় পাঠাগার

পুরুষের প্রতি নারীর আনুগত্য

হাদীসে উল্লেখিত হয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "সেই স্ত্রীই সর্বোত্তম, যাকে দেখলে তোমার মন আনন্দে ভরে যায়। তুমি তাকে কোনো আদেশ করলে সে তোমার আনুগত্য করে। আর তুমি ঘরে না থাকলে সে তোমার অনুপস্থিতিতে তোমার ধন সম্পদের ও তার নিজের হেফাজত করে।"

এ হাদীসটি এই আয়াতের চমৎকার ব্যাখ্যা পেশ করে। কিন্তু একথা ভালোভাবে বুঝে নিতে হবে যে, স্ত্রীর জন্য নিজের কাওয়ামের আনুগত্যের চাইতে বেশী গুরুত্বপূর্ণ এবং অগ্রগণ্য হচ্ছে আল্লাহর আনুগত্য। কাজেই কোনো পুরুষ যদি তার স্ত্রীকে আল্লাহর নাফরমানি করার হুকুম দেয় অথবা আল্লাহর অর্পিত কোনো ফরজ থেকে তাকে বিরত রাখার প্রচেষ্টা চালায় তাহলে এ ক্ষেত্রে তার আনুগত্য করতে অস্বীকার করা স্ত্রীর জন্য ফরজ হয়ে দাঁড়ায়। এ অবস্থায় যদি স্ত্রী তার 'যওজি'র (হাসব্যান্ডের) আনুগত্য করে তাহলে সে গোনাহগার হবে। বিপরীত পক্ষে পুরুষ যদি স্ত্রীকে নফল নামাজ বা নাফল রোজা রাখতে নিষেধ করে তাহলে হাসব্যান্ডের কথা মেনে চলা তার জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় নফল ইবাদত করলে তা আল্লাহর কাছে গৃহীত হবে না। অবশ্য সেই পুরুষকে খাঁটি মুমিন হতে হবে এবং ইবাদতের গুরুত্ব উপলব্ধি করার মতো বিবেক থাকতে হবে।

চতুর্থ পয়েন্টে অবাধ্য নারীর সাথে আচরণের সীমা কতদূর তার আলোচনা করা হয়েছে। তিনটি কাজ একই সংগে করার কথা এখানে বলা হয়েনি। বরং এখানে বক্তব্য হচ্ছে, অবাধ্যতা দেখা দিলে এই তিনটি ব্যবস্থা অবলম্বন করার অনুমতি রয়েছে। এখন এগুলোর বাস্তবায়নের প্রশ্ন। এ ক্ষেত্রে অবশ্যি দোষ ও শাস্তির মধ্যে আনুপাতিক সম্পর্ক থাকতে হবে। যেখানে হালকা ব্যবস্থায় কাজ হয়ে যায়, সেখালে কঠোর অবস্থা অবলম্বন না করা উচিৎ। নবী (সা.) যেখানেই স্ত্রীদের মারার অনুমতি দিয়েছেন। সেখানেই তা দিয়েছেন একান্ত অনিচ্ছাসহকারে এবং লাচার হয়েই। আবার তারপরও একে অপছন্দই করেছেন। তবু কোনো কোনো স্ত্রী এমন হয়ে থাকে যে তাদেরকে মারধর না করলে সোজা থাকে না। এ অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশ হচ্ছে, তাদের মুখে বা চেহারায় মেরো না-। নির্দয়ভাবে মেরো না এবং এমন জিনিস দিয়ে মেরো না যা শরীরে দাগ রেখে যায়।" নারী ও পুরুষ পরস্পরের বন্ধু ও অভিভাবক

(সাধারণভাবে স্ত্রীদের 'গায়ে হাত তোলা' স্বভাবকে রাসূল (সা.) ও করতেন। তিনি বলতেন "তোমাদের মধ্যে যারা স্ত্রী মারা স্বভাবের লোক ভালো মানুষ নও।" সত্যি আমাদের সমাজে কিছু মহিলা এমন আছে যাদের। শান্তি না দিলে পারিবারিক শাস্তিই তারা নষ্ট করে ফেলে। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে তারা এত দুর্ব্যবহার করে যে শাস্তি তাদের প্রাপ্য।

আরও বই ডাউনলোড করুন
কোরআন হাদীস সংকলনের ইতিহাস - একেএম এনামুল হক ডাউনলোড
মুসলমানের নিকট আল কুরআনের দাবী ডাউনলোড
আল কুরআনে অর্থনীতি pdf download ডাউনলোড

আখেরাতের সফলতাই আসল সফলতা
إِنَّ اللَّهَ اشْتَرَى مِنَ الْمُؤْمِنِينَ أَنْفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ بِأَنَّ لَهُمُ الْجَنَّةَ ، يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَيَقْتُلُونَ وَيُقْتَلُونَ لَن وَعْدًا عَلَيْهِ حَقًّا فِي التَّوْرَةِ وَالْإِنْجِيلِ وَالْقُرْآنِ ، وَمَنْ أَوْفَى بِعَهْدِهِ مِنَ اللَّهِ فَاسْتَبْشِرُوا بِبَيْعِكُمُ الَّذِي بَايَعْتُمْ بِهِ ، وَذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ.
"প্রকৃত ব্যাপার এই যে আল্লাহ মু'মিনের জান ও মাল জান্নাতের বিনিময়ে কিনে নিয়েছেন। তারা আল্লাহর পথে লড়াই করে মরে ও মারে। তাদের প্রতি তাওরাত ইনজিল ও কুরআনে আল্লাহর জিম্মায় একটি পাকাপোক্ত ওয়াদা বিশেষ। আর আল্লাহর চাইতে বেশী নিজের ওয়াদা পূরণকারী আর কে আছে? কাজেই তোমরা আল্লাহর সাথে যে কেনাবেচা করেছ সে জন্য আনন্দ করো। এটিই সবচেয়ে বড় সাফল্য।" (সূরা তাওবা: ১১১)
أَلَا إِنْ أَوْلِيَاءَ اللَّهِ لَأَخَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَاهُمْ يَحْزَنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا وكَانُوا يَتَّقُونَ لَهُمُ الْبُشْرَى فِي الْحَيَوةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ ، لَا تَبْدِيلَ لِكَلِمَتِ اللَّهِ ، ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ.
"শোনো যারা আল্লাহর বন্ধু, ঈমান এনেছে এবং তাকওয়ার নীতি অবলম্বন, তাদের কোনো ভয় ও মর্ম যাতনার অবকাশ নেই। দুনিয়া ও আখেরাতে উভয় জীবনে তাদের জন্য শুধু সুসংবাদই রয়েছে। আল্লাহর কথায় পরিবর্তন নেই। এটিই মহাসাফল্য।" (সূরা ইউনুস: ৬২-৬৪)

নারী ও পুরুষ পরস্পরের বন্ধু ও অভিভাবক

আল্লা আবার বলেছেন,
وَعَدَ اللَّهُ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَتِ جَنَّتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَرُ خُلِدِينَ فِيهَا وَمَسْكِنَ طَيِّبَةٌ فِي جَنَّتِ عَدْنٍ ، وَرِضْوَانٌ مِّنَ اللَّهِ أَكْبَرُ ، ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ.
"মু'মিন পুরুষ ও নারীকে আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তাদেরকে তিনি এমন বাগান দান করবেন যার নিম্নদেশে ঝর্ণাধারা প্রবাহমান হবে এবং তারা তার মধ্যে চিরকাল বাস করবে। এসব চির সবুজ বাগানে তাদের জন্য থাকবে বাসগৃহ এরং সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে তারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করবে। এটিই সবচেয়ে সাফল্য।" (সূরা তওবা: ৭২)

Pdf Book নেক আমল বিধ্বংসী বদ আমল সমূহ - মাসুদা সুলতানা রুমী

Pdf Book নেক আমল বিধ্বংসী বদ আমল সমূহ - মাসুদা সুলতানা রুমী

নেক আমল বিধ্বংসী বদ আমল সমূহ - মাসুদা সুলতানা রুমী PDF version download
nek amol bdhonshi bod amol shomuho
নেক আমল বিধ্বংসী বদ আমল সমূহ মাসুদা সুলতানা রুমী
প্রকাশনীঃ মমমা প্রকাশনী
বইয়ের সাইজঃ ১-এমবি
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৪৪
বইয়ের ফরম্যাট পিডিএফ ই-বুক
বিভাগঃ ইসলাম শিক্ষা
কৃতজ্ঞতায়ঃ বাগী কুঞ্জালয় পাঠাগার

বড় কবিরা গুনাহ কি?

আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা আল কুরআনের পাতায় পাতায় বড় বড় গুনাহ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। সেই গুনাহসমূহ আমাদের সমাজের মুসলিমেরা করে করে এমন অভ্যস্ত হয়ে গেছে যে এসব কাজকে বড় গুনাহ তো দূরের কথা যেন গুনাহই মনে করে না। যেমন-

  • ১. নামাযে অবহেলা করা
  • ২. যাকাত না দেয়া
  • ৩. বিনা ওজরে রমজানের রোজা ভংগ করা
  • ৪. সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হজ্ব না করা
  • ৫. পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া
  • ৬. ইয়াতিমের মাল আত্মসাৎ করা
  • ৭. গর্ব বা অহংকার করা
  • ৮. মিথ্যা কথা, মিথ্যা সাক্ষ্য ও মিথ্যা শপথ করা
  • ৯. মদ্যপান করা
  • ১০. তাহলিল বা হিলা বিবাহ করা বা দেওয়া
  • ১১. দুর্বল শ্রেণী বা কর্মচারীর সাথে খারাপ ব্যবহার করা
  • ১২. সৎ ও আল্লাভীরু বান্দাদের কষ্ট দেয়া
  • ১৩. মাপে বা ওজনে কম দেয়া
  • ১৪. ওয়ারিশকে ঠকানো
  • ১৫. ভবিষ্যত বক্তা বা জ্যোতিষীর কথা বিশ্বাস করা
  • ১৬. পুরুষের স্বর্ণ ও রেশম ব্যবহার করা
  • ১৭. জুয়া খেলা।

উপরোক্ত কাজগুলো সবই বড় গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। যাকে বলে কবীরা গুনাহ। আমি চুরি, ডাকাতি, সুদ-ঘুষের কথা আমার এই তালিকায় লিখি নাই। কারণ এই কাজ চারটিকে সবাই খারাপ কাজ বলেই জানে এবং বিরত থাকার চেষ্টা করে। কিন্তু যে বদ কাজগুলোর আমি তালিকা পেশ করেছি সে কাজগুলো আমাদের চরিত্রে যেন মিশে গেছে। এইসব কাজে অভ্যস্ত থেকেও মানুষ নিজেদেরকে মুসলিম বলে পরিচয় দেয়। মৃত্যুর পরে "আলা মিল্লাতি রাসূলুল্লাহ বলে কবরে শায়িত করে।

নামাযে অবহেলা করা

আমাদের দেশ ৯৮% মুসলমানের দেশ। এই ৯৮% এর মধ্যে হয় ৯০% মানুষই নামায পড়ে না। আর যারা পড়ে তাদের মধ্যে অনেকেই ঠিকমতো পড়ে না- সময় মতো পড়ে না নিয়ম মতো পড়ে না। যারা নামাজ পড়েনা তাদের মধ্যে কোনো অনুতাপ-অনুশোচনাও নেই। বরং কেউ কেউ তো বেশ দেমাগের সাথেই বলে 'নামাজ না পড়লে কি হবে ঈমান ঠিক আছে। অথচ রাসূল (সা.) বলেছেন, "মুমিন ও কাফেরের মধ্যে পার্থক্য নামাজ ত্যাগ করা।” (মুসলিম, আবু দাউদ, নাসায়ী, তিরমিযী)

রাসূল (সা.) বলেন, 'যে ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ ছেড়ে দিল আল্লাহর যিম্মাদারী থেকে বের হয়ে গেল। তিনি আরো বলেন, "যে ব্যক্তির আসরের নামায ছুটে গেল, তার আমল নষ্ট হয়ে গেল।" মহান আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা পবিত্র কুরআনে যতোবার নামাজ বা সালাতের নির্দেশ দিয়েছেন তা অন্যকোন ইবাদাতের জন্য দেন নি।
ওবাদা ইবনে সামেত (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আল্লাহ তাঁর বান্দাদের উপর পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি উত্তমরূপে অযু করে সময় মতো সালাত আদায় করে এবং রুকু সিজদায় খেয়াল রেখে মনোনিবেশের সাথে সালাত আদায় করে অবশ্যই আল্লাহ তাকে মাফ করে দেবেন। আর যে তা করবে না তার অপরাধ মাফ করে দেওয়া সম্পর্কে আল্লাহর কোনো দায়িত্ব নেই। (আবু দাউদ)

যাকাত না দেওয়া

আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা সালাতের (নামাজ) সাথে যাকাত ফরজ করেছেন। "আক্কিমুস সালাতা ওয়া আতুস যাকাতা।" সালাত (নামাজ) কায়েম কর এবং যাকাত আদায় করো।" আল কুরআনে আল্লাহ বার বার এই আদেশ দিয়েছেন। মহান আল্লাহ যা করার আদেশ করেছেন তা পালন করা ফরজ, না করা কবীরা গুনাহ আর অস্বীকার করা হলো কুফরি করা।
অর্থাৎ যাকাত দেওয়া ফরজ। যাকাত না দেওয়া কবীরা গুনাহ। তারা যাকাত দিতে অস্বীকার করলে হবে কুফরী করা। কিন্তু আমাদের সমাজের অনেকেই যাকাত দেয় না। সরকার নির্ধারিত কর যেভাবে ফাঁকি দেয়, যাকাতও সেইভাবে ফাঁকি দিতে চায়।

আরও বই ডাউনলোড করুন
দৌড়াও আল্লাহর দিকে - অধ্যাপক মুজিবুর রহমান bangla Islami Book ডাউনলোড
তারীখে ইসলাম -মুহাম্মাদ আমীমুল ইহসান bangla pdf book ডাউনলোড
বুখারী শরীফ বাংলা অনুবাদ ১-১০ খন্ড পিডিএফ ডাউনলোড! ডাউনলোড

সামর্থ থাকা সত্ত্বেও হজ্ব না করা

হযরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যে ব্যক্তি কামনা বাসনা ও আল্লাহর নাফরমানী হতে বিরত থেকে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হজ্ব করে সে যেন মাতৃগর্ভ হতে সন্তান যেমন নিষ্পাপ জন্মগ্রহণ করে, সেরূপ নিষ্পাপ হয়ে যায়। (বুখারী, মুসলিম) মহান আল্লাহ সুবহানাহুতায়ালা বলেন, "যে ব্যক্তি সেখানে পৌছার সামর্থ্য রাখে তারা যেন এ গৃহের হজ্ব সম্পন্ন করে। এটি তাদের ওপর আল্লাহর অধিকার।
(সূরা আলে ইমরান)

রাসূল (সা.) আরও বলেন: আল্লাহর ঘর বায়তুল্লাহ পর্যন্ত পৌছে হজ্ব করার জন্য প্রয়োজনীয় বাহন ও পাথেয় যার আছে সে যদি হজ্ব না করে তবে ইহুদী, খ্রিষ্টান হয়ে মরুক তাতে আল্লাহর কিছু যায় আসে না। (মুসলিম)
হযরত হাসান (রা.) থেকে বর্ণিত আছে- উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেছেন: "আমার ইচ্ছা হয় এসব শহরে লোক পাঠিয়ে খবর নেই যারা সামর্থ থাকা সত্ত্বেও হজ্ব সমাপন করছে না তাদের উপর জিযিয়া ধার্য করি। ওরা মুসলিম নয়, ওরা মুসলিম নয়। (মুনতাকী)
মুসলিম শব্দের অর্থ হলো আল্লাহর উপর আত্মসমর্পণ করা। যদি কেউ প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর উপর আত্মসমর্পণ করেই থাকে, তাহলে হজ্বের ন্যায় মহান ইবাদত থেকে সে বিনা কারণে কি করে বিরত থাকতে পারে?

কুরআন হাদীসের আলোকে মরণ ব্যাধি দূর্নীতি pdf

কুরআন হাদীসের আলোকে মরণ ব্যাধি দূর্নীতি pdf

quran o hadiser aloke moron byadhi durniti pdf
কুরআন হাদীসের আলোকে মরণ ব্যাধি দূর্নীতি মাসুদা সুলতানা রুমীী
প্রকাশনী রিমঝিম প্রকাশনী
ভার্চুয়াল সাইজ ১ এমবি
পৃষ্ঠা সংখ্যা ৩৪ পৃষ্ঠা
বইয়ের ফরমেট পিডিএফ ই-বুক
বিভাগ ইসলাম শিক্ষা
কৃতজ্ঞতা বাগী কুঞ্জালয় পাঠাগার

দুর্নীতির উপসর্গ ও তার সৃষ্টিকর্তা দূর্নীতির উপসর্গসমূহ-আত্মিক। মানুষের অন্তঃকরণে সৃষ্ট লোভ, হিংসা, প্রতিহিংসা, গর্ব, অহংকার, অহমিকা প্রদর্শনেচ্ছা ইত্যাদি বদ স্বভাবসমূহই দুর্নীতিসহ যাবতীয় অসৎকর্ম করতে ইন্ধন জোগায়। মানবজাতি যাতে আল্লাহর মহাকল্যাণ লাভের জন্যে তাঁর সাধারণ বিধি-বিধান ও নিয়ম-নীতির জ্ঞান অনুযায়ী চলতে না পারে এবং সর্বদাই যাতে মানব জাতি নিজেরা নিজেরা মহাধ্বংসে পতিত হয়ে শাস্তি ভোগ করে, সেই উদ্দেশ্য সাধনের জন্যে মানুষের জন্য মানুষের দেহাভ্যান্তরে হৃৎপিণ্ড নামক স্থানে উপরে বর্ণিত উপসর্গসমূহ সৃষ্টি হয়। আর সেই উপসর্গসমূহই মানুষকে দুর্নীতি করতে ক্রিয়াশীল করে তোলে। আর সেই মহাধ্বংসকারী উপসর্গসমূহের সৃষ্টিকর্তা হচ্ছে, আল্লাহর শত্রু, নবী ও রাসূলগণের শত্রু, ফিরিশতাগণের শত্রু সর্বোপরি মানব জাতির মহা ও চিরশত্রু অভিশপ্ত শয়তান ইবলিস। ঐ ইবলিস এবং তার কিছু অনুসারী সহজ-সরল মানব জাতির অন্তঃকরণে বিভিন্ন প্রকার পন্থায় লোভ হিংসা প্রদর্শনেচ্ছা, পরশ্রীকাতরতা ইত্যাদি কুস্বভাব সৃষ্টি করে। ফলে মানুষে মানুষে মারামারি, খুনাখুনি, হানাহানি, ধর্ষণ, ছিনতাই, প্রতারণা, আমানত আত্মসাৎ এবং দুর্নীতিসহ যাবতীয় মানব ধ্বংসকারী, সমাজ ধ্বংসকারী তথা দেশ ও বিশ্ব ধ্বংস ও বিপর্যয় সৃষ্টিকারী কর্মকাণ্ডসমূহ সংঘটিত হয়। ফলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। মানব জাতির সাথে শয়তান ইবলীসের শত্রুতা

ইবলীস সৃষ্টির কারণ

মানব জাতির সাথে অভিশপ্ত শয়তান ইবলীসের শত্রুতা সৃষ্টির কারণ ও ঘটনাটি কমবেশী আমরা সকলেই জানি। তবে সেই ঘটনাটি আমরা অধিকাংশ বাংলাভাষী মানুষ পরস্পর পরস্পরের মুখে মুখে শুনেছি। পবিত্র আল-কুরআনে সেই ঘটনাটির বিস্তারিতভাবে বর্ণনা থাকা সত্ত্বেও আমাদের অনেকেরই আল-কুরআনের সাথে সম্পর্ক নাই তাই আমরা বিস্তারিত জানি না। আমি এ পর্যায়ে সেই ঘটনাটি পবিত্র কুরআন থেকেই তুলে ধরার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ ।

আরও বই ডাউনলোড করুন
ইসলামের দৃষ্টিতে কাঙ্খিত পরিবার Bangla PDF ডাউনলোড
তাফসীরে তাবারী শরীফ সকল খন্ড পিডিএফ ডাউনলোড! ডাউনলোড
আল কুরআন বাংলা অনুবাদ - মাওলানা মুহাম্মদ মূসা ডাউনলোড

মরণব্যাধি দুর্নীতি থেকে বাঁচার উপায়

আমরা এতক্ষণ পর্যন্ত যে আলোচনাগুলো করে আসলাম তাতে যুক্তির মাধ্যমে দুর্নীতির সৃষ্টিকারী ও কুমন্ত্রণাদাতা সম্পর্কে বাস্তব তথ্য উপাথ্যসমূহ তুলে ধরার চেষ্টা করেছি এবং দুর্নীতিতে প্রভাব বিস্তারকারী বিষয়সমূহ সম্পর্কেও সংক্ষিপ্ত বর্ণনা তুলে ধরার চেষ্টাও করেছি। তাই বলছি আমরা মানব জাতি অত্যন্ত সহজ-সরল হৃৎপিণ্ড নিয়ে এ দুনিয়াতে আগমন করেছি। দুনিয়াতে এসে শয়তান ইবলিস আমাদেরকে ধ্বংস করার জন্যে আমাদের পিছু নিয়েছে। আমরা একমাত্র আল্লাহর সাহায্য ছাড়া তার হাত থেকে রক্ষা পেতে পারি না। আর সে কথা দয়াময় প্রতিপালকও বলছেন এবং সেই শয়তানের কবলে পড়লে আমাদের কি করতে হবে সে কথাও তিনি বলেছেন: وَإِمَّا يَنْزَغَنَّكَ مِنَ الشَّيْطَنِ نَزْغٌ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ - إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ . 'যদি শয়তানের কুমন্ত্রণা তোমাকে প্ররোচিত করে তবে (তখন) আল্লাহর স্মরণ নিবে। তিনি সর্বোশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।' (হা-মীম আস্ সাজদাহঃ ৩৬) আর শয়তানরা কোন ব্যক্তিকে প্ররোচনা দিয়ে দুর্নীতবাজ তৈরী করে

উপসংহার

পরিশেষে এ কথাই বলতে চাই যে, একটি চলন্ত রেলগাড়ীর ইঞ্জিন ও তার সাথের সংযুক্ত বগিগুলো ততক্ষণ পর্যন্ত তার নিদিষ্ট লাইন বা সিপারের উপর দিয়ে চালিত হয়ে তার নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছতে সক্ষম হবে, যতক্ষণ পর্যন্ত সেই রেলগাড়ীর ইঞ্জিন ও তার বগিসমূহের চাকাগুলো তার নির্দিষ্ট লাইন বা সিপারের উপর স্থির থেকে পরিচালিত হতে পারবে। তদ্রূপ মানবজাতিও একে অপর থেকে ব্যক্তিগত কল্যাণ, পারিবারিক কল্যাণ, সামাজিক কল্যাণ, রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক কল্যাণ তথা দুনিয়া এবং আখেরাতের মহাকল্যাণ লাভ করতে পারবে তখনি, যখন সমস্ত মানবমণ্ডলী আল্লাহর সৃষ্টির প্রকৃতির উপর বা নিয়ম-নীতির উপর অটল বা স্থির থেকে তাঁরই বিধানে নিজকে, পরিবারকে, সমাজকে তথা দেশ জাতি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলকে পরিচালিত করতে সক্ষম হবে। আর তাই দয়াময় প্রতিপালক সকল মানব মন্ডলীকে নির্দেশ দিয়ে বলেছেন: فَأَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّينِ حَنِيفًا - فِطْرَتَ اللَّهِ الَّتِي فَطَرَ النَّا سَ عَلَيْهَا - لَا تَبْدِيلَ لِخَلْقِ اللهِ - ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ - وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ . "তুমি একনিষ্ট হয়ে নিজেকে দ্বীনে (আল্লাহর বিধানের উপর প্রতিষ্ঠিত কর, আল্লাহর প্রকৃতির অনুসরণ কর; যে প্রকৃতি অনুযায়ী তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন; আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে কোন পরিবর্তন নাই; এটা সরল দ্বীন, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না।" (রুম: ৩০)