pdf ইসলামী সংস্কৃতির মর্মকথা  islami songskritir mormokotha - আবুল আলা মওদূদী

pdf ইসলামী সংস্কৃতির মর্মকথা islami songskritir mormokotha - আবুল আলা মওদূদী

book cover islami dhorshon
ইসলামী সংস্কৃতির মর্মকথা সাইয়েদ আবুল আলা মওদূদী
প্রকাশনীঃ আধুনিক প্রকাশনী
বইয়ের সাইজঃ ৪-এমবি
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ২৬৮
বইয়ের ফরম্যাট পিডিএফ ই-বুক
বিভাগঃ ইসলামী জীবন ব্যবস্থা
কৃতজ্ঞতায়ঃ বাগী কুঞ্জালয় পাঠাগার

এখন অতি সুন্দরভাবে উপলব্ধি করা যেতে পারে যে, প্রকৃতপক্ষে সমস্ত মতবাদের মধ্যে ইসলামী মতবাদই হচ্ছে প্রকৃতি ও বাস্তব সত্যের সাথে সামঞ্জস্যশীল। একমাত্র এই মতবাদেই দুনিয়া এবং মানুষের মধ্যে এক নির্ভুল সম্পর্ক স্থাপন করা হয়েছে। এর ভেতরেই আমরা দেখতে পাই: দুনিয়া কোন ঘৃণ্য বা বর্জনীয় জিনিস নয়, অথবা মানুষ এর প্রতি আসক্ত হবে এবং এর আনন্দ উপকরণের মধ্যে বিলীন হয়ে যাবে, এ এমন কোন জিনিসও নয়। এখানে না পুরোপুরি গঠন ক্রিয়া চলছে, আর না চলছে এক তরফা বিপর্যয়। একে পরিহার করা যেমন সংগত নয়, তেমনি এর ভেতরে পুরোপুরি ডুবে থাকাও সমীচীন নয়। না সে পুরোপুরি পংকিল ও অপবিত্র, আর না তার সবটাই পবিত্র ও পংকিলতা মুক্ত। এই দুনিয়ার সাথে মানুষের সম্পর্ক আপন রাজত্বের সাথে কোন বাদশাহর সম্পর্কের মতোও নয়। কিংবা জেলখানার সাথে কয়েদীর যে সম্পর্ক সেরূপ সম্পর্কও নয়।

ইসলামী সংস্কৃতির মর্মকথা

দুনিয়ার যে কোন শক্তিই তার সেজদার উপযোগী হবে অথবা সে এতখানি শক্তিধর ও ক্ষমতাবানও নয় যে দুনিয়ার প্রতিটি জিনিসের কাছ থেকেই সে সেজদা লাভ করবে। না সে এতটা অক্ষম ও অসহায় যে, তার ব্যক্তিগত ইচ্ছা-অভিপ্রায়ের কোন মূল্যই নেই, আর না সে এতখানি শক্তিমান যে, তার ইচ্ছা প্রবৃত্তিই সবকিছুর উর্ধে। সে যেমন বিশ্বপ্রকৃতির একচ্ছত্র সম্রাট নয়, তেমনি কোটি কোটি মনিবের অসহায় গোলামও নয়। এই চরম প্রান্তগুলোরই মধ্যবর্তী এক অবস্থায় তার প্রকৃত স্থান।

ইসলামী জীবন ব্যবস্থার আকর্ষিক শক্তি-পূর্বে যেমন বলা হয়েছে যে, দ্বীন ইসলামের গোটা ব্যবস্থাপনার কেন্দ্র ও ভিত্তি হচ্ছে আল্লাহর সত্তা। এর গোটা ব্যবস্থাপনাই ঐ কেন্দ্রের চারদিকে আবর্তন করছে। এই ব্যবস্থাপনায় যাকিছু রয়েছে-তা মনন ও প্রত্যয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট হোক আর পূজা-উপাসনা ও ইবাদাত-বন্দেগীর সাথে সম্পৃক্ত হোক অথবা তা দুনিয়াবী জীবনের কোন কারবারই হোক- তার প্রতিটি জিনিসেরই গতি ঐ কেন্দ্রীয় সত্তার দিকেই নিবদ্ধ এবং প্রতিটি জিনিসই তার আকর্ষণ শক্তির প্রচণ্ড তারের সাথে সংযুক্ত হয়ে আছে। খোদ দ্বীন (আনুগত্য) ও ইসলাম (আত্মসমর্পণ) শব্দ দু'টি-যার থেকে এই ধর্মীয় ব্যবস্থাপনাটি উদ্ভাবিত হয়েছে-তার এই প্রকৃতি ও নিগূঢ় তত্ত্বকে অত্যন্ত চমৎকারভাবে প্রতিপন্ন করে। দ্বীন ও ইসলাম শব্দের মানেই হচ্ছে এই যে, বান্দাহ তার আল্লাহর সন্তুষ্টির সামনে মাথা নত করে দিবে এবং তাঁরই ইচ্ছার অনুগত হবে।
وَمَنْ أَحْسَنُ دِينًا مِّمَّنْ أَسْلَمَ وَجْهَهُ لِلَّهِ وَهُوَ مُحْسِنٌ (النساء : ١٢٥)
"যে ব্যক্তি আল্লাহর সামনে মাথা নত করে দিয়েছে এবং সে সৎকর্মশীলও তার চেয়ে উত্তম দ্বীন আর কার হবে।" (সূরা আন নিসা: ১২৫)
وَمَنْ يُسْلِمُ وَجْهَةٌ إِلَى اللَّهِ وَهُوَ مُحْسِنٌ فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَى
"যে ব্যক্তি আপন মুখমণ্ডল আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে দেয় এবং সেই সঙ্গে সে সৎকর্মশীলও হয়, সে তো অত্যন্ত মযবুত রজ্জু আকড়ে ধরলো।"
-(সূরা লোকমান: ২২)

আরও বই ডাউনলোড করুন
দুই সুলতান - জামান সাদী পিডিএফ ই-বুক ডাউনলোড ডাউনলোড
কুরআন মহাবিশ্ব মহাধ্বংস - মুহাম্মদ আনওয়ার হুসাইন পিডিএফ ডাউনলোড ডাউনলোড
কুরআন কোয়াসার শিঙ্গায় ফুৎকার ডাউনলোড

মৌলিক আকীদা ও চিন্তাধারা

ঈমানের বাৎপর্য ও গুরুত্ব

জীবন দর্শন ও জীবন লক্ষ্যের পর এবার আমাদের সামনে তৃতীয় প্রশ্নটি উত্থাপিত হয়। তা হচ্ছে এই যে, ইসলাম কোন্ ভিত্তির ওপর মানব চরিত্রের পুনর্গঠন করে?
মানুষের সকল কাজ-কর্ম ও ক্রিয়া-কাণ্ডের উৎস হচ্ছে তার মন। কর্ম-কাণ্ডের উৎস হিসেবে মনের দু'টি অবস্থা রয়েছে। একটি অবস্থা হচ্ছে এই যে, তাতে কোন বিশেষ ধরনের চিন্তাধারা বদ্ধমূল হবে না, নানারূপ বিচ্ছিন্ন ও বিক্ষিপ্ত চিন্তাধারা প্রবিষ্ট হতে থাকবে এবং তার মধ্যে যে চিন্তাটি বেশী শক্তিশালী, সেটিই হবে কাজের প্রেরণাদানকারী। আর দ্বিতীয় অবস্থাটি হচ্ছে এই যে, তা বিক্ষিপ্ত চিন্তাধারার বিচরণক্ষেত্র থাকবে না, বরং তার ভেতরে কতিপয় বিশিষ্ট চিন্তাধারা এমনভাবে দৃঢ়মূল হবে যে, তার গোটা বাস্তব জীবন স্থায়ীভাবে তারই প্রভাবাধীন হবে এবং তার দ্বারা বিক্ষিপ্ত ক্রিয়া-কাণ্ড অনুষ্ঠিত হবার পরিবর্তে সুবিন্যস্ত ও সুসংহত কর্ম-কাণ্ড সম্পাদিত হতে থাকবে।

প্রথম অবস্থাটিকে একটি রাজপথের সাথে তুলনা করা যেতে পারে; প্রত্যেক যাতায়াতকারীর জন্যেই সে পথটি অবাধ, উন্মুক্ত। তাতে কারো কোন বিশিষ্টতা নেই। দ্বিতীয় অবস্থাটি হচ্ছে একটি ছাঁচের মতো; এর ভেতর থেকে হামেশাই একটি নির্দিষ্ট রূপ ও আকৃতির জিনিস ঢালাই হয়ে বেরোয়। মানুষের মন যখন প্রথম অবস্থায় থাকে, তখন আমরা বলি যে, তার কোন চরিত্র নেই। সে শয়তানও হতে পারে, আবার ফেরেশতাও হতে পারে। তার প্রকৃতিতে রয়েছে বহুরূপী স্বভাব। তার দ্বারা কখন কী ধরনের কর্ম-কাণ্ড অনুষ্ঠিত হয়, কোন নিশ্চয়তা নেই। পক্ষান্তরে সে যদি দ্বিতীয় অবস্থায় আসে তো আমরা বলে থাকি যে, তার একটি নিজস্ব চরিত্র আছে। তার বাস্তব জীবনে একটি নিয়ম-শৃংখলা, একটি ধারাবাহিকতা আছে। পরন্তু সে কোন্ অবস্থায় কি কাজ করবে তা নিশ্চিতভাবে বলা যেতে পারে।

মজবুত ঈমানের বিষয়

কুরআন মজিদে ঈমানের বিষয় সম্বন্ধে এতো বিস্তৃতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে যে, তার ভেতর কোন মতভেদের অবকাশ নেই। কিন্তু যারা কুরআনের বাকরীতি অনুধাবন করতে পারেনি, অথবা তার বক্তব্য বিষয় অনুসরণ করতে সক্ষম হয়নি, তাদের মধ্যে কিছুটা ভ্রান্ত ধারণার সৃষ্টি হয়েছে। কুরআনের বাকরীতি হচ্ছে এই যে, কোথাও সে গোটা প্রত্যয়কে একই সঙ্গে বিবৃত করেছে, আবার কোথাও সময় ও সুযোগ অনুযায়ী তার কোন কোন অংশ বিবৃত করে তারই ওপর গুরুত্ব প্রদান করেছে। এর থেকে কোন কোন লোক এ ধারণা করে বসেছে যে, ইসলামের প্রত্যয়কে বিশিষ্ট ও বিভক্ত করা যেতে পারে। অর্থাৎ তার ভেতর থেকে কোন একটি কিংবা কোন কোনটির প্রতি ঈমান পোষণই যথেষ্ট আর কোন কোনটি অস্বীকার করেও মানুষ কল্যাণ লাভ করতে পারে। অথচ কুরআনের চূড়ান্ত ফায়সালা এই যে, প্রত্যয় হিসেবে যতগুলো বিষয়কে সে পেশ করেছে, তার সবকিছুই স্বীকার করা আবশ্যক। তার একটি থেকে অপরটিকে কিছুতেই পৃথক করা চলে না। তার সবগুলো মিলে একটি অখণ্ড ও অবিভক্ত সত্তায় পরিণত হয় এবং তাকে সামগ্রিকভাবে মেনে নেয়াই কর্তব্য। তার কোন একটিকেও যদি অস্বীকার করা হয় তাহলে সে অস্বীকৃতি বাকী সবগুলোর স্বীকৃতিকে নাকচ করে দেবে।

pdf ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা islami rastro babostha totto o proyog

pdf ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা islami rastro babostha totto o proyog

ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা তত্ত্ব ও প্রয়োগ
ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা তত্ত্ব ও প্রয়োগ ইউসুফ আল কারযাভী
প্রকাশনীঃ ইসলামিক থ্যাট
বইয়ের সাইজঃ ৫-এমবি
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৩০০
বইয়ের ফরম্যাট পিডিএফ ই-বুক
বিভাগঃ ইসলামী জীবন ব্যবস্থা
কৃতজ্ঞতায়ঃ বাগী কুঞ্জালয় পাঠাগার

অসহায় ও দুর্বলের আশ্রয়স্থল ইসলামি রাষ্ট্র

সবলের স্বার্থ নয়; বরং দুর্বলের অধিকার সংরক্ষণই ইসলামি রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। তাই ইসলামি রাষ্ট্র সম্পদশালীদের থেকে যাকাত সংগ্রহ করে গরিব দুস্থদের মাঝে তা বিতরণ করে থাকে। এমনিভাবে রাষ্ট্রের অন্যান্য রাজস্ব থেকেও এতিম, অনাথ ও সম্বলহারা মুসাফিরের জন্য ইসলামি রাষ্ট্রে সহযোগিতার অংশ নির্ধারিত থাকে, 'যাতে ধন-সম্পদ মুষ্টিমেয় কয়েকটি হাতে সীমাবদ্ধ না হয়ে পড়ে'
(সূরা হাশর, ৫৯: ৭)।

ইসলামের প্রথম খলিফা তার ভাষণে বলেন: 'জেনে রেখো! তোমাদের মধ্যে সবল ব্যক্তি আমার কাছে দুর্বল যতক্ষণ না তার থেকে অপরের অধিকার আদায় করতে পারি, এবং তোমাদের মধ্যে দুর্বল ব্যক্তি আমার কাছে সবল যতক্ষণ না তার প্রাপ্ত অধিকার ফিরিয়ে দিতে পারি'। ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থা: তত্ত্ব ও প্রয়োগ

ইসলামি রাষ্ট্র অসহায় মজলুমদের রাষ্ট্র। শক্তিশালী ও বলবানদের বিষাক্ত থাবায় যারা আক্রান্ত ও জালেমদের পায়ের তলায় যারা পিষ্ঠ এবং তাদের ধন-সম্পদ ও ক্ষমতার দাপটের সামনে যারা অসহায়ভাবে জীবনাপাত করছে, এ সকল মজলুমকে জুলুম-অত্যাচার থেকে পরিত্রাণ দেয়ার জন্যই ইসলামি রাষ্ট্র এদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে লিপ্ত।

'তোমাদের কি হয়েছে' কেন তোমরা আল্লাহর রাস্তায় সংগ্রাম করছ না; অথচ মজলুম অসহায় নারী পুরুষেরা চিৎকার দিয়ে বলছে: হে প্রভু! আমাদেরকে এ অত্যাচারী জনপদ থেকে বের করে নাও, আমাদের জন্য তোমাদের পক্ষ থেকে একজন বন্ধু ও একজন সাহায্যকারী তৈরি করে দাও” (সুরা নিসা, ৪: ৭৫)।

চারিত্রিক ও আদর্শিক রাষ্ট্র

ইসলামি রাষ্ট্র হচ্ছে নৈতিক ও আদর্শিক রাষ্ট্র যা সঠিক নিয়ম-নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। রাষ্ট্রীয় নিয়ম-নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে এটি আপোষহীন। অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক, শত্রু ও মিত্র এবং যুদ্ধাবস্থা ও স্বাভাবিক অবস্থা ইত্যাদি যে কোনো পরিস্থিতিতে এই রাষ্ট্র তার মূলনীতি হারিয়ে ফেলে না। ইসলামি রাষ্ট্র কখনো দু'মুখো নীতি পোষণ করে না এবং দু'ধরনের ভাষায় কথা বলে না। ইসলামি রাষ্ট্রে অন্যায়ের পথ ধরে ন্যায় খুঁজে বেড়ানো এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশ সৃষ্টি করে কাঙ্ক্ষিত স্বার্থ হাসিল করা গ্রহণযোগ্য নয়। এও রাষ্ট্র ন্যায় ও মহৎ লক্ষ্য অর্জনের বিশ্বাসী, পাশাপাশি সৎ ও সঠিক উপায় অবলম্বনেও আপোষহীন।

ইসলামের মহান নবি সা. তাঁর উম্মতকে শিক্ষা দিয়েছেন: "নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা মহান ও পবিত্র। তিনি অপবিত্র বস্তু গ্রহণ করেন না"। এখানে অপবিত্র বলতে বুঝানো হয়েছে: সুদ-ঘুষ ইত্যাদি হারাম ও অবৈধ উপায়ে আহরিত সম্পদ যা ভালো ও কল্যাণকর কাজে ব্যয় করা হয়। ইসলামি রাষ্ট্র হচ্ছে সৎ ও উত্তম চরিত্রের সাক্ষাত প্রতিবিম্ব যা ঘোলকলায় পূর্ণ করার মিশন নিয়ে মহানবি সা. প্রেরিত হয়েছিলেন। এটি পুরো মানবতার জন্য উপহার স্বরূপ। আল্লাহর এ জমিনে তাঁর আদল-ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে যার একমাত্র মিশন যা সাদা-কালো, আত্মীয়-অনাত্মীয় সবার জন্য সমান।

ইসলামি রাষ্ট্রের প্রকৃতি

ইতঃপূর্বে আমরা 'ইসলামি রাষ্ট্রের অবকাঠামো' শিরোনামে উল্লেখ করেছি যে ইসলামি রাষ্ট্র হচ্ছে ইসলামি মূলনীতিতে প্রতিষ্ঠিত একটি বেসামরিক (সিভিল) রাষ্ট্র। এটি পাশ্চাত্য ইতিহাসের অতি পরিচালিত সেই ধর্মীয় পুরোহিত রাষ্ট্রতুল্য নয়, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্র ও গীর্জার মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘর্ষ চলে আসছিল, অবশেষে বিপ্লবের মাধ্যমে তার পরিসমাপ্তি ঘটে এবং চতুর্দিক থেকে আওয়াজ উঠতে থাকে: সর্বশেষ পাদ্রির নাড়িভূড়ির সাথে তাদের সর্বশেষ রাজত্বকেও দাফন করে দাও"।

কিন্তু সেক্যুলারিজমের তল্পিবাহক আরব ও মুসলিম রাষ্ট্রগুলোতে ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থার বিরুদ্ধে রীতিমতো অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে যে, ইসলামি রাষ্ট্র হচ্ছে ঐ ধর্মীয় পুরোহিত রাষ্ট্র যেখানে খোদায়ী শাসনের নামে এক বিরাট জগদ্দল পাথর জনগণের ওপর চেপে বসবে। সেক্যুলারিজমের জয়গান গেয়ে ড. ফারাজ ফাউদাহ "ধ্বংস পূর্ব পরিস্থিতি )قبل السقوط(" নামে একটি বই প্রকাশ করেছেন, যেখানে ইসলামি জীবন ব্যবস্থা এবং ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে রীতিমতো আক্রমণ চালানো হয়েছে। এর প্রতিউত্তর হিসেবে সাহিত্যিক বন্ধুবর অধ্যাপক আবদুর মজীদ সুবহ্ (আল্লাহ তার হেফাজত করুন) যা লিখেছেন তাই যথেষ্ট মনে করি। কিন্তু আমি এখানে সেক্যুলারিজমের সমর্থনে লিখিত লেখকের কিছু কথা উল্লেখ করার প্রয়াস পাচ্ছি

ইসলামী অনুষ্ঠানের তাৎপর্য  islami onusthan er tatporjo - মওদূদী  pdf

ইসলামী অনুষ্ঠানের তাৎপর্য islami onusthan er tatporjo - মওদূদী pdf

ইসলামী অনুষ্ঠানের তাৎপর্য
ইসলামী অনুষ্ঠানের তাৎপর্য সাইয়েদ আবুল আলা মওদূদী
প্রকাশনীঃ আধুনিক প্রকাশনী
বইয়ের সাইজঃ ২-এমবি
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৯৬
বইয়ের ফরম্যাট পিডিএফ ই-বুক
বিভাগঃ ইসলামী জীবন ব্যবস্থা
কৃতজ্ঞতায়ঃ বাগী কুঞ্জালয় পাঠাগার

আমরা মুসলমানগণ হযরত মুহাম্মাদ (স)-কে 'সরওয়ারে আলম' বলে থাকি, সাদামাটা কথায় এর অর্থ হলো 'বিশ্বনেতা'। হিন্দি ভাষায় এর তরজমা হলো 'জগত গুরু'। ইংরেজীতে বলে (Leader of the world)। দৃশ্যত এটা একটা বড় খেতাব। কিন্তু যে মহাসম্মানিত ব্যক্তিকে এ খেতাব দেয়া হয়েছে তাঁর জীবনের কার্যাবলী বাস্তবিকই এমন যে, তাঁকে বিশ্বনেতা বলা অতিশয় উক্তি নয় বরং এটাই তাঁর ন্যায্য পাওনা।

দেখুন, কোনো ব্যক্তিকে বিশ্বনেতা বলার জন্য প্রথম শর্ত হওয়া উচিত, তিনি কোনো বিশেষ জাতি কিংবা বংশ অথবা শ্রেণীর কল্যাণের জন্য নয় বরং বিশ্বমানবতার কল্যাণের জন্য কাজ করবেন। আপনি একজন দেশপ্রেমিক অথবা জাতীয়তাবাদী নেতার এ কারণে যত ইচ্ছা প্রশংসা করুন যে, তিনি তাঁর জনগণের যথেষ্ট সেবা করেছেন। কিন্তু আপনি যদি তাঁর স্বদেশবাসী বা স্বজাতির লোক না হন, তাহলে তিনি কোনো অবস্থাতেই আপনার নেতা হতে পারেন না। যে ব্যক্তির শুভেচ্ছা, ভালবাসা ও কল্যাণকামিতা এবং যাবতীয় কর্মকাণ্ড চীন বা স্পেনের জন্য সীমাবদ্ধ, একজন ভারতবাসী কি কারণে তাঁকে তাদের নেতা বলে মানবে? বরং তিনি যদি নিজের জাতিকে অপর জাতি হতে শ্রেষ্ঠ মনে করেন এবং সে জাতিকে পদানত করে নিজের জাতিকে উপরে উঠাতে চান, তাহলে তো অন্য জাতি তাকে নেতা মানা দূরের কথা, উল্টো তাকে ঘৃণা করতে বাধ্য হবে। বিশ্বের সকল জাতির মানুষ কোনো এক ব্যক্তিকে তাদের নেতা শুধু তখনই স্বীকার করে নিতে পারে, যখন সে নেতার দৃষ্টিতে সকল জাতি ও সকল মানুষ হবে সমান। তিনি সমভাবে সকলের শুভাকাঙ্ক্ষী কল্যাণ কামনার দিক থেকে কোনো অবস্থাতেই একজনকে আরেকজনের উপর অগ্রাধিকার দিবেন না। ইসলামী অনুষ্ঠানের তাৎপর্য

বিশ্বনেতার প্রকৃত অবদান

বিশ্ববাসী জানেন, বিশ্বনবী মুহাম্মাদ (স) মানবতার সেই মহান ব্যক্তিগণের অন্তর্ভুক্ত, যারা প্রাচীনকাল হতে মানবজাতিকে আল্লাহর ইবাদাত ও নৈতিক চরিত্রের শিক্ষা দেবার জন্য দুনিয়ায় আবির্ভূত হয়েছেন। এক আল্লাহর বন্দেগী এবং পবিত্র নৈতিক জীবনের শিক্ষা, যা সবসময় দুনিয়ার নবী-রাসূল কৃষি ও মুনিগণ দিচ্ছিলেন, সেই শিক্ষা নবী মুহাম্মাদ (স) দিয়েছেন। তিনি কোনো নতুন রবের ধারণা পেশ করেননি এবং অন্য কোনো দুর্লভ চরিত্রেরও সবক দেননি, যা তাঁর পূর্বেকার মানবতার পথ প্রদর্শকদের শিক্ষা হতে ভিন্ন ছিলো, যার কারণে আমরা তাঁকে মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিত্ব বলে থাকি।

এ প্রশ্নের উত্তর হলো, নিশ্চয় মহানবী (স)-এর আগের লোকেরা আল্লাহর সত্তা ও তাঁর একত্ব সম্পর্কে অবহিত ছিলো। কিন্তু একথা পরিপূর্ণভাবে অবহিত ছিলো না যে, এ দার্শনিক সত্যের মানুষের নৈতিকতার সাথে কি সম্পর্ক রয়েছে। নিসন্দেহে মানুষ নৈতিকতার উত্তম নীতিমালা সম্পর্কে অবহিত ছিলো। কিন্তু সুস্পষ্টভাবে তাদের জানা ছিলো না যে, জীবনের বিভিন্ন দিক ও বিভাগে এই নৈতিক নীতিমালার বাস্তব অনুশীলন কিভাবে হওয়া উচিত। আল্লাহর উপর ঈমান, নৈতিক নীতিমালা ও কর্মময় জীবন এ তিনটি ছিলো পৃথক পৃথক জিনিস যেগুলোর মধ্যে যৌক্তিক সম্পর্ক এবং কোনো গভীর ও গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র বিদ্যমান ছিলো না। কেবল মুহাম্মাদ (স) সর্বপ্রথম এ তিনটিকে একত্রে যুক্ত করে একটি ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং এগুলোর এই মিশ্রণের মাধ্যমে একটি পরিপূর্ণ সভ্যতা ও সংস্কৃতির রূপ শুধু কল্পনার জগতে নয়, বরং কর্মের জগতেও কায়েম করে দেখিয়ে দেন।

মে'রাজের পয়গাম

ইসলামের ইতিহাসে দুটি রাত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমটি হলো, যে রাতে বিশ্বনবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (স)-এর উপর কুরআন মজীদ নাযিল করা শুরু হয়েছিলো। আর দ্বিতীয়টি হলো, যে রাতে মহানবী (স)-এর মে'রাজের সৌভাগ্য হয়েছিলো। প্রথম রাতের গুরুত্বতো সকলেরই জানা যে, মানবজাতির পথপ্রদর্শনের জন্য ঐ রাতে হেদায়াতের সেই আলোকরশ্মি পাঠানো হয়েছিলো, যা বাতিলের অন্ধকারের মধ্যে শত শত বছর পর্যন্ত সত্যের আলো ছড়িয়ে আসছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত ছড়াতে থাকবে। কিন্তু দ্বিতীয় রাতের গুরুত্ব কিছু ধর্মীয় আলোচনার মধ্যে হারিয়ে গেছে। খুব অল্পসংখ্যক লোকই জানেন যে, ঐ রাতে মানব সমাজ গঠনের কত বড় কাজ আঞ্জাম দেয়া হয়েছে। আজ এ পবিত্র রাতটির স্মৃতি তাজা করতে গিয়ে আমাদের দেখতে হবে, এ রাত আমাদের জন্য কি পয়গাম বহন করে এনেছে।

শবে বরাত

সাধারণত শবে বরাতকে মুসলমানদের একটি পর্ব বা খুশির দিন বলে মনে করা হয়। এর জন্য কিছু রসম রেওয়াজও গড়ে তোলা হয়েছে। এগুলো বেশ কড়াকড়ির সাথে পালন করা হয়। ধুমধাম ও জাকজমকের বিচারেতো যেন মোহররমের পরপরই এর স্থান। কিন্তু সত্য কথা হলো, এটা অযথা একটি মনগড়া পর্ব। না কুরআন মজীদে এর কোনো ভিত্তি আছে না হাদীস শরীফে। না সাহাবায়ে কেরামের যুগের ইতিহাসে এর কোনো নাম নিশানা পাওয়া যায়। আর না প্রাথমিক কালের বুযর্গানে দ্বীনের কেউ এটাকে ইসলামের পর্ব বলেছেন।

* প্রকৃতপক্ষে ইসলাম রসম রেওয়াজ ও পালা পার্বণের দীন নয়। ইসলামতো একটি সাদাসিদা ও যুক্তিসঙ্গত দীন। এ দীন মানুষকে রসম রেওয়াজের বেড়াজাল থেকে, খেল তামাশার অর্থহীন কাজকর্মে মশগুল হওয়া থেকে বাজে কাজে সময়, শ্রম ও সম্পদ অপচয় থেকে রক্ষা করে জীবনকে বাস্তব সত্যের দিকে আকৃষ্ট করে এবং দুনিয়া ও আখেরাতের সফলতা ও কল্যাণের কাজে মানুষকে ব্যস্ত রাখে। এমন একটা দীনে প্রকৃতির সাথে এরূপ কাজের কোনো সামঞ্জস্য নেই যে, সে বছরে একদিন হালুয়া রুটি পাকানো ও আঁতশবাজী করার জন্য নির্দিষ্ট করে দেবে আর মানুষকে বলবে যে, তুমি বিশেষভাবে প্রতি বছর নিজের জীবনের কিছু মূল্যবান সময় ও নিজের কষ্টার্জিত ধনের বেশকিছু অংশ বরবাদ করতে থাকো। এর চেয়েও দূরতম কথা হলো এই যে, ইসলাম এমন কোনো রসম রেওয়াজ পালন করতে অভ্যস্ত করবে, যা শুধু সময় ও টাকা পয়সাই বরবাদ করে না, বরং কোনো কোনো সময় জীবননাশের ঘটনাও ঘটে এবং ঘরবাড়ী পর্যন্ত এই শিখা গিয়ে পৌঁছে। এ ধরনের বাজে কাজের নির্দেশ দেয়াতো দূরের কথা, যদি এমন ধরনের কোনো রেওয়াজ নবী করীম (স)-এর যামানায় বিদ্যমান থাকতো, তাহলে নিশ্চয়ই আইন প্রয়োগ করে তা বন্ধ করে দেয়া হতো। আর এ ধরনের যেসব রেওয়াজ সে সময় প্রচলিত ছিলো তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

আরও বই ডাউনলোড করুন
ইসলামে সামাজিক সুবিচার - islame shamajik subicher pdf ডাউনলোড
মুক্তির পয়গাম Islami Book Free Download ডাউনলোড
আল কুরআনের অভিধান - মুহাম্মদ খলিলুর রহমান মুমিন : al quraner ovidhan পিডিএফ ডাউনলোড ডাউনলোড

ইসলামে সামাজিক সুবিচার - islame shamajik subicher pdf

ইসলামে সামাজিক সুবিচার - islame shamajik subicher pdf

ইসলামে সামাজিক সুবিচার - সাইয়্যেদ কুতুব শহীদ pdf book
book cover islame shamajilk subiicher pdf
ইসলামে সামাজিক সুবিচার সাইয়্যেদ কুতুব শহীদ
প্রকাশনীঃ এএইচপি প্রকাশনী
বইয়ের সাইজঃ ৮-এমবি
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৫১৬
বইয়ের ফরম্যাট পিডিএফ ই-বুক
বিভাগঃ ইসলামী আদর্শ
কৃতজ্ঞতায়ঃ বাগী কুঞ্জালয় পাঠাগার

ইসলামে সামাজিক সুবিচারের গতি প্রকৃতি ইসলামের সামাজিক সুবিচার সম্পর্কে আমরা সঠিক জ্ঞান ও পরিচয় তখনই লাভ করেেত পারবো যখন তাওহীদ সৃষ্টি জগত, জীবন ও মানুষ সম্পর্কে ইসলামী ধ্যান-ধারণা ও চিন্তাধারার মোটামুটি জ্ঞান ও বুঝ আমাদের লাভ হবে। কারণ সামাজিক সুবিচারের ইসলামী দর্শন সেই মৌলিক নীতি ও বুনিয়াদী চিন্তাধারারই একটি শাখা মাত্র; যা হলো ইসলামের সমুদয় শিক্ষা ও তালিমের মূল কেন্দ্রস্থল।

যেহেতু পূর্ণমানব জীবনটাকে একটি নবরূপে নবছাঁচে ঢালাই করে সংগঠন করার কাজই হলো ইসলামের মূল কর্মসূচী। এ জন্যই তার সমুদয় সংস্কার মূলক কর্মসূচী যেমন আলমারীর তাকের উপর রেখে দেয়া হয়নি, তেমনি সে প্রত্যেকটি উদ্ভাবিত সমস্যার জন্য স্বতন্ত্র রূপে আলাদা কোন নীতিমালা ও সমাধানও দেয়নি। তার নিকট রয়েছে তাওহীদ সৃষ্টি জগত জীবন ও মানুষ সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ দর্শন ও ধ্যান-ধারণা। তার সমগ্র শাখা-প্রশাখা ও আনুষঙ্গিক নীতিমালা তার দর্শন ও ধ্যান-ধারণা থেকেই জন্ম লাভ করেছে। তার দর্শন আইন-কানুন বিধান, তার নির্ধারিত সীমারেখা এবং ইবাদাত-উপসনা এবং পারস্পরিক লেন-দেন আদান-প্রদান সম্পর্কীয় নীতিমালার সবই এ মূলনীতির সাথে গভীর সম্পর্কে বিজড়িত। আর এহেন পূর্ণাঙ্গ চিন্তাধারার আলোকেই তার বাস্তব কর্মসূচী প্রণীত হয়। প্রত্যেকটি উদ্ভাবিত নতুন অবস্থার জন্য এমন একটি নতুন ও স্বাধীন কর্মসূচী প্রণয়ন করা হয় যা অন্যান্য ব্যাপারে গৃহীত কর্মসূচীর সাথে কোন সম্পর্ক রাখে না। অথবা প্রত্যেক সমস্যার জন্য স্বতন্ত্র সমাধান অনুসন্ধান করার ও নীতি ইসলামী গতি প্রকৃতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

ইসলামে সামাজিক সুবিচারের মূলভিত্তি

ইসলামের সামাজিক ইন্সাফের প্রকৃতি ও স্বরূপ সম্পর্কে বিগত অধ্যায় ইতিপূর্বে আলোকপাত করা হয়েছে। তা একটি লৌহ কঠিন সুদৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করে। তাকে সংক্ষিপ্ত দাওয়াত ও অস্পৃষ্ট বস্তু রূপে না রেখে তার পরিবর্তে সে তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যাবলী অর্জনের নিমিত্ত নির্দিষ্টতম উপাদান ও উপকরণের সংস্থান করে দেয়। ইস্লাম হলো একটি বাস্তবধর্মী জীবন বিধান। তা এমন ধর্ম নয় যে, ধ্যানের জগতে ওয়াজ নছীহত ও তালীম তালকীনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।

আমরা মোটামুটিভাবে এ কথাগুলো পাঠকবর্গের সামনে উপস্থি করেছি যে, সৃষ্টি জগত জীবন ও মানুষ সম্পর্কে ইস্লামের একটি মৌলিক চিন্তাধারা ও বুনিয়াদী দর্শন বিদ্যমান আছে। আর সামাজিক ইন্সাফের ধ্যান-ধারণা ও রূপরেখা হলো সেই মৌলিক চিন্তাধারা ও বুনিয়াদী দর্শনেরই একটি বাস্তব আলোকরশ্মি ও প্রতিবিম্ব। এ দর্শন ইস্লামী ইন্সাফকে এমন একটি উদারময় ও সার্বজনীন মানবিক ইন্সাফের রূপ দিয়ে পেশ করে, যা বস্তুজগতের বিষয়াবলী ও অর্থনৈতিক সমস্যা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ নয়। তার কাছে জীবনের মৌলিক মূল্যবোধ একই সময় বস্তুজগত আধ্যাত্মিক জগত উভয়ের ভিতর নিহিত। এর ভিতর পার্থক্যের রেখা অঙ্কিত করা ঠিক নয়। মানবতা এমন একটি পূর্ণাঙ্গ একাত্ব রূপ, যার বিভিন্ন উপাদান পরস্পর বিজড়িত ও সম্বন্ধযুক্ত এবং দায়িত্বশীলতার পরিচয় দানে একে অপরের অংশীদার। এটা পরস্পর সম্প্রদায়ের প্রতি ঘৃণা বিদ্বেষ ও শত্রুতা পোষণকারী বিভিন্ন দল ও সম্প্রদায়ের সমষ্টি নয়। মাঝে মাঝে অবস্থা দৃষ্টে মনে হয় যে, আসল ব্যাপারটি ইস্লামের এ মৌলিক চিন্তাধারার পরিপন্থী।

আত্মার মুক্তি

সামাজিক ধ্যান-ধারণার কোনরূপ ব্যাখ্যা এবং তার প্রতিষ্ঠা ও স্থায়ীত্বের চিন্তা করা ঐ সময় পর্যন্ত সম্ভব নয়, যতক্ষণ না তার পিছনে এ ইন্সাফের সামাজিক প্রয়োজন প্রকটভাবে অনুভূত এবং ব্যক্তির অধিকারের গভীর জ্ঞান অনুভূতি বর্তমান না থাকবে। অতঃপর এমনি রূপেই যে একটি মানবিক উচ্চ আশা-আকাঙ্খার ও মহান উদ্দেশ্যের দ্বারদেশে উপনীতি হওয়া সম্ভব হতে পারে, সে বিশ্বাস ও প্রত্যয় থাকাও একান্ত অপরিহার্য। সাথে সাথে জাগতিক পরিবেশ ও অবস্থা এমনতর হতে হবে যেন, ব্যক্তি এ ইনসাফের ব্যবস্থাপনার সাথে সম্পর্ক যুক্ত হতে এবং তার রক্ষণাবেক্ষণ ও তার জন্য সর্বপ্রকার দুঃখ-কষ্ট বরণ করে নেয়ার জন্য সামনে এগিয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ হয়ে উঠে। ব্যক্তির মধ্যে যদি তার প্রয়োজনের বাস্তব অনুভূতি না থাকে এবং যদি সে এ অনুভূতিকে সতেজ সাবলীল রাখার জন্য বাস্তব কর্মপন্থা গ্রহণ না করে, তবে শুধু কেবল আইনের আবেষ্টনী দ্বারা এহেন ইন্‌স্সাফ ও সুবিচার কায়েম করা খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার। এ আইন-কানুন যদি বাস্তবে রূপায়িতও হয়, তবে সমাজ তাকে প্রচলিত ও প্রতিষ্ঠিত রাখতে সক্ষম হয় না। ব্যক্তির মনোজগতে এমন বিশ্বাস ও প্রত্যয় বর্তমান থাকা প্রয়োজন, যা সামাজিক ইন্সাফ প্রতিষ্ঠায় সাহায্যকারীর ভূমিকা নিতে পারে। অনুরূপ তার বর্হিজগতের পারিপার্শ্বিক অবস্থা এমনতর হতে হবে, যেন তাকে বাস্তব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভবপর হয়।

আরও বই ডাউনলোড করুন
আধুনিক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ ও ইসলাম - মুহাম্মাদ কামারুজ্জামান pdf ডাউনলোড
মুক্তির পয়গাম Islami Book Free Download ডাউনলোড
আল কুরআনে অর্থনীতি pdf download ডাউনলোড

ইসলামে মানবিক সাম্য

ইতিপূর্বের আলোচনা দ্বারা আমরা সত্যিকারের সাম্যের মৌলিক উপাদানাবলী এক এক করে গুণে একত্র করেছি। এখন মানুষের আত্ম চেতনাবোধ ও দাসত্ব মনোবৃত্তির মিশ্র দ্রব্যের কবল থেকে মুক্ত হয়ে পূর্ণ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। মানুষ দারিদ্রতার অভিশাপ দুঃখ-কষ্ট অপমান এবং মৃত্যুর সংশয় থেকে এ ধারণা-জ্ঞান নিয়ে নিশ্চিত হয়েছে যে কোন কাজই আল্লাহর নির্দেশ ছাড়া হয় না। সে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রের শক্তি সমূহের নির্যাতনের যাতাকলের নিষ্পেষণ থেকে যেমন বেড়িয়ে এসেছে, তেমনি মানুষের দুয়ারে ভিক্ষার হাত সম্প্রসারিত করার অপমানজনক কাজ থেকে ও নিষ্কৃতি লাভকরেছে। সে স্বীয় মানবিক বৃত্তিনিচয়ের বেড়াজাল ছিন্ন করে সেই মহান একত্ববাদের দাবিদার এক মাত্র স্রষ্টার পানে মনোনিবেশ করেছে- যার পানে দাস মনিব সবই মাথাবনত করে। এ সব বিষয়ের ক্রমানুমিক পর্যায় প্রতিটি দিকের এবং জীবনের আবশ্যকীয় উপকরণ প্রত্যেক ব্যক্তির আয়ত্তাধীনে এসেছে এবং সত্যিকার সাম্যবাদের মৌলিক উপাদানাবলী সংগ্রহ হয়ে সাম্যবাদ যখন মানুষের দেহের প্রতিটি শিরা উপশিরার ও ধমনির সাথে মিশ্রিত হয়ে গিয়েছে, তখন আর মানব আত্মার সাম্যবাদের আওয়াজ বুলন্দ করার প্রয়োজন করে না ৷

ইসলামে সমাজবিজ্ঞান - ডাঃ এমএ মোসলেহ উদ্দিন free -pdf

ইসলামে সমাজবিজ্ঞান - ডাঃ এমএ মোসলেহ উদ্দিন free -pdf

ইসলামে সমাজবিজ্ঞান
book cover islame somajbiggan pdf download
ইসলামে সমাজবিজ্ঞান ডাঃ এমএ মোসলেহ উদ্দিন
প্রকাশনীঃ ইসলামিক থ্যাট
বইয়ের সাইজঃ ৪-এমবি
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ২১২
বইয়ের ফরম্যাট পিডিএফ ই-বুক
বিভাগঃ ইসলামী আদর্শ
কৃতজ্ঞতায়ঃ বাগী কুঞ্জালয় পাঠাগার

ইতিবাচকবাদ (Positivism) ইতিবাচকবাদ হচ্ছে Comte এর প্রবর্তিত একটি দার্শনিক ধারা। এখানে শুধুমাত্র ইতিবাচক বাস্তবতা ও পর্যালোচনাযোগ্য প্রপঞ্চসমূহের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ফলে উদ্দেশ্য হচ্ছে এগুলোর সূত্র ও সম্পর্কগুলো বিশ্লেষণ করা। এই ক্ষেত্রে আদি উৎস ও কারণসমূহ কোনো বিবেচ্য বিষয় নয়'। ইতিবাচকবাদ দ্বারা Comte মূলত সামাজিক যথার্থতাকে বুঝাতে চেয়েছেন। তিনি চেয়েছিলেন বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতির আলোকেই সমাজের সংস্কার হবে। ইতিবাচকবাদী আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল নিরীক্ষার ভিত্তিতে শুধুমাত্র বাহ্যিক বিশ্বের বিশ্লেষণ করা।

Parsons এর মতে একটি মতবাদ হিসেবে ইতিবাচকবাদের বিশ্বাস হচ্ছে এটাই যে সকল মানবিক কর্মকাণ্ডের দিকনির্দেশনা ও বিশ্লেষণের জন্য বিজ্ঞানই যথেষ্ট ও চূড়ান্ত'। ইতিবাচকবাদের প্রয়োগের মাধ্যমে Comte চেয়েছিলেন সমাজবিজ্ঞান তার প্রয়োগ করে বিজ্ঞানের উপর ভিত্তি করে একে পুনর্গঠিত করতে। এই উদ্দেশ্যে তিনি পুরাতন ধারার সংগঠনবাদকে তাঁর নিজের ইতিবাচকবাদের সাথে সংযুক্ত করতে চেয়েছিলেন। তাই Readon এর মতে Comte এর এই প্রকল্প ছিল আভিধানিক। তাছাড়া তার ইতিবাচকবাদও ছিল অনেকটা ত্রুটিপূর্ণ। Comte মূলত দর্শনের সাথে বিজ্ঞানের অযৌক্তিক সংশ্লেষণের অপচেষ্টায় অভিযুক্ত। তার মহান উদ্দেশ্য ছিল প্রকৃতি, মানবজাতি ও সমাজের একটি সমন্বিত ও সার্বজনীন বিজ্ঞানের প্রবর্তন। তবে মানব মানসিকতার বিষয়ে সম্পৃক্ত না হওয়ার কারণে তাঁর ইতিবাচকবাদ অনেকটাই ভিত্তিহীন ও আভিধানিক হয়ে ওঠে। তাছাড়া প্রকৃতিবাদের মোড়কে যে মতবাদের প্রচলন ঘটান তার সাথেও সাংঘর্ষিক।

সমাজবিজ্ঞানের অন্যান্য ধারা

আগেই বলা হয়েছে ইতিবাচক অঙ্গবাদ ছিল প্রাচীন গ্রিক দর্শনের রক্ষণশীলতার সাথে ঊনবিংশ শতাব্দীর উদারতাবাদের সমন্বয় সাধনের প্রচেষ্টা। কিন্তু চিন্তাধারায় উভয় মতবাদ ছিল বিপরীতমুখী। সমাজ সম্পর্কিত ধারণার ক্ষেত্রে অঙ্গবাদের মূল ভিত্তি ছিল কৃষ্টি ও প্রথা; আর এগুলোকে ইতিবাচকবাদ মনে করত অন্ধ অনুকরণ ও অযৌক্তিক খোলশ ও প্রাচীন ভ্রান্তির প্রতিফলন। তাই সাংঘর্ষিক এই দুই মতবাদের মধ্যে কখনো সমন্বয় সাধন করা সম্ভব নয়।

তাছাড়া আন্ত-মানবিক সংঘর্ষ পর্যালোচনার ক্ষেত্রে ইতিবাচক অঙ্গবাদ ছিল বেজায় দুর্বল। Comte সামাজিক সংঘর্ষকে বেশি ভয় করতেন। তিনি এমন একটি কর্তৃত্ববাদী সমাজের স্বপ্ন দেখতেন যেখানে বিরাজ করবে বর্ণ ব্যবস্থা।
প্রতিটি সমাজই মূলত সংঘাতপূর্ণ। Heraclitus সূফীবাদের (Sophists) মত প্রাচীন গ্রিক দার্শনিকগণ মনে করতেন সামাজিক সংঘর্ষই হচ্ছে সামাজিক বাস্তবাদের প্রাথমিক অবস্থা। মধ্য যুগের আরব বিশ্বে ইবনে খালদুন এর মত দার্শনিকও সামাজিক সংঘর্ষের উপর একটি মতবাদ দিয়ে যান। তাঁর মতে সভ্যতার বিবর্তনে বিদুঈন ও শহরবাসীদের মধ্যে সংঘর্ষ অনিবার্য। একই সংঘর্ষ ও সংগ্রামের ভিত্তিতে Marchiavelli রাষ্ট্রের উৎপত্তির ব্যাপারে তাঁর মতামত ব্যক্ত করেন। পরবর্তী যুগে সেগুলোর উৎকর্ষ সাধন করেন Jean Bodin, Hobbes ও অন্যান্যরা।

ইতিবাচক অঙ্গবাদ যখন সংঘর্ষজনিত সামাজিক বাস্তবতার ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়। তখন সামাজিক চিন্তার জগতে নতুন এক মোড় দেখা দেয়। আর এই বিদ্যার পুনর্গঠনে প্রচেষ্টার নতুন একটি উদ্যোগ দেখা দেয় সংঘর্ষ কেন্দ্রিক মতবাদের চর্চাকে কেন্দ্র করে।

সামাজিক আচরণবাদ

আকৃতিবাদী সংজ্ঞার আলোকে যখন বিষয়বস্তুও সমাজ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা অপূর্ণতার শিকার হয় তখন আবির্ভাব হয় সামাজিক আচরণবাদের সমাজ বৈজ্ঞানিক অধ্যয়নের জন্য নতুন প্রায়োগিক পদ্ধতি প্রবর্তন করতে চায়। এজন্য প্রাচীন ধারাগুলোর পদ্ধতিগত দুর্বলতা ও আকৃতিবাদের প্রয়োগ বিরোধটির প্রবণতা পরিহার করার উদ্যোগ নেয়। খোঁজ শুরু হয় নতুন ইতিবাচকবাদী পদ্ধতির।

নব্য আদর্শবাদ ও তার শাখা প্রশাখাসমূহের সুবাদে ইউরোপে এই নতুন ধারার বিস্তার দেখা যায়। যেমন, বহুত্ববাদী আচরণবাদ, প্রতীকী মিথস্ক্রিয়াবাদ ও সামাজিক কর্ম ইত্যাদি। মনোবিজ্ঞানের জগতে ঢুকে সমাজ বৈজ্ঞানিক বিষয়বস্তুসমূহের সূক্ষতর সংজ্ঞা খুঁজতে থাকে।
যেহেতু বিভিন্ন প্রপঞ্চের সাথে জড়িত সেহেতু Giddings এর নাম দেয় বহুত্ববাদী আচরণবাদ। এই মতবাদ অনুযায়ী স্বতন্ত্র ব্যক্তি ও স্বাধীন দলের বৈচিত্রের সমাহার হিসেবে দেখলেই সামাজিক ব্যবস্থার বিশ্লেষণ করা সম্ভব।

Gabriel Trade (১৮৪৩-১৯০৪) তাঁর প্রবন্ধসমূহের মাধ্যমে এই ধারার উৎপত্তি ঘটান। তাঁর মতে সমাজের মৌলিক একক হচ্ছে বিশ্বাস ও চাহিদা। আর মৌলিক গতি হচ্ছে পুনরাবৃত্তি, বিরোধিতা ও খাপ খাওয়ানোর প্রক্রিয়া যা অনেকটা Hegel-এর সংশ্লেষণ ও বিভাজনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। ইসলামে সমাজবিজ্ঞান

Trade এর মতে পুনরাবৃত্তি হচ্ছে এক ধরনের সীমাবদ্ধতা যা প্রচারের সহায়ক এবং খাপ খাওয়ানোর প্রক্রিয়া হচ্ছে আবিষ্কার যা কিনা সকল প্রকৃতির উৎস। অনুকরণ হচ্ছে আবিষ্কার অথবা নতুন ব্যক্তিগত মতবাদের সামাজিক প্রচার ও গ্রহণযোগ্যতার প্রক্রিয়া। বিরোধিতা প্রতিভাত হয় যুদ্ধ, প্রতিযোগিতা ও আলোচনার মাঝে, যার শেষ হচ্ছে খাপ খাওয়ানো কিংবা নতুন আদর্শের উৎপত্তি। অনুকরণের মধ্যে দেখা গেছে অনেক সমস্যাই লুকিয়ে রয়েছে। অনুকরণ যখন অস্তিত্ব লাভ করে তখন তা এক জটিল কর্মকাণ্ডে পরিণত হয়। তখন আর তাকে মৌলিক সামাজিক বাস্তবতা মনে হয় না। এটা কল্পনা করা সহজ যে বানর অনেক কিছুই দেখে দেখে করে। কিন্তু তাকে দিয়ে কোনো কিছু করানো দুরূহ ব্যাপার। তাই প্রকৃত অনুকরণ হচ্ছে শিক্ষা ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা থেকে উৎসারিত'। এই মতবাদের যে ঘাটতিটি লক্ষ্য করা গেছে তা হচ্ছে ভাষা সম্পর্কিত আন্ত-মানবিক মিথস্ক্রিয়াকে এখানে পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে।

সমাজ বৈজ্ঞানিক মতবাদের বিভিন্ন পরিবর্তন

জীবনধারার বিবেচনায় সমাজবিজ্ঞান অবিরত বিভিন্ন পরিবর্তনের শিকার। এর কারণ যদি কেউ বিশ্লেষণ করে তাহলে সহজেই বোঝে আসবে তা হয়েছে এই জন্য যে খোদ সমাজকে কখনো কোনো নির্দিষ্ট সংজ্ঞার আওতায় আনা সম্ভব নয়। অতএব আমরা কিভাবে আশা করতে পারি এর উৎপত্তি, ইতিহাস ও সংবিধান সহজে অধ্যয়ন করা যায় যা কিনা আবার সমাজবিজ্ঞানের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য?

আরও বই ডাউনলোড করুন
ফরীদ উদ্দীন মাসউদ এর বই - ইসলামে শ্রমিকের অধিকার pdf ডাউনলোড
ইসলামী দর্শন pdf free download - শিবলী নুমানী ডাউনলোড
তাফহীমুল কুরআন ১-১৯ খন্ড পিডিএফ ডাউনলোড! ডাউনলোড

পৃথিবীতে অনেক বিচিত্র ধরনের সমাজ রয়েছে। এগুলোও আবার সময়ের আবর্তে পরিবর্তনশীল। তদুপরি প্রতিটি সমাজবিজ্ঞানীর রয়েছে নিজস্ব স্বাদ ও রুচি যার প্রভাবে সে সমাজের ব্যাখ্যা তৈরি করে। তাছাড়া সমাজবিজ্ঞানের সাথে অন্যান্য বিজ্ঞানের সাথে নিবিড় সম্পর্ক। তাই একজন সমাজবিজ্ঞানী যখন আন্ত-মানবিক সম্পর্কের জটিল সমস্যার সমাধান করতে চায়। তখন সমাজবিজ্ঞানের পাশাপাশি ইতিহাস ও দর্শনেরও দ্বারস্থ হয়।

ফরীদ উদ্দীন মাসউদ এর  বই -  ইসলামে শ্রমিকের অধিকার pdf

ফরীদ উদ্দীন মাসউদ এর বই - ইসলামে শ্রমিকের অধিকার pdf

ইসলামে শ্রমিকের অধিকার - ফরীদ উদ্দীন মাসউদ
book cover islame sromiker odhikar pdf
ইসলামে শ্রমিকের অধিকার ফরীদ উদ্দীন মাসউদ
প্রকাশনীঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
বইয়ের সাইজঃ ২-এমবি
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১৪৮
বইয়ের ফরম্যাট পিডিএফ ই-বুক
বিভাগঃ ইসলামী আদর্শ
কৃতজ্ঞতায়ঃ বাগী কুঞ্জালয় পাঠাগার

পুঁজিবাদ ও আধুনিক শ্রমিক শ্রেণীর উদ্ভব

ত্রয়োদশ ও চতুর্দশ শতাব্দীতে ইউরোপে যে চেতনা জাগে, ক্রুসেড যুদ্ধের মাধ্যমে উন্নততর সভ্যতার অধিকারী মুসলমানদের সঙ্গে মেলা-মেশার কারণে যে আত্মসম্প্রমবোধ জাগে তা সেখানকার সমস্ত পুরনো মূল্যবোধকে লন্ডভণ্ড করে দেয়। তারা অকস্মাৎ যেন এক নূতন দিগন্তের সন্ধান পায়। ধর্মীয় পোপকদের যাঁতাকলে এতদিন তাদের যে অভ্যন্তরীণ সম্ভাবনা সমূহ গুমরে মরছিল তা' সহসাই যেন বিকশিত হয়ে ওঠে। সমস্ত বাঁধ তাদের ভেঙ্গে যায়-নব নব আবিষ্কারে তারা মেতে ওঠে।

এরই ফলশ্রুতিতে অষ্টাদশ শতকের শিল্প বিপ্লবের মাধ্যমে সেখানে এক অভূতপূর্ব সামাজিক রূপান্তর সংঘটিত হয়। নূতন নূতন শিল্প ও কলকারখানা আবিষ্কারের ফলে শিল্প উৎপাদনের উপকরণগুলির মধ্যে দ্রুত পরিবর্তন হতে থাকে। গোষ্ঠী ও সংঘভিত্তিক সব রকমের শিল্পা-শ্রমগুলি রুমে ভেঙ্গে পড়তে থাকে। গৃহ ও কুটীরশিল্পগুলি মিল ও কারখানার উৎপাদন ক্ষমতার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে না পেরে বিলীন হয়ে যেতে থাকে। আর বড় বড় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলি এসবের জায়গা দখল করে নিতে শুরু করে। দরিদ্র কুটীর শিল্পীদের হাতে বড় ধরনের ব্যবসা করার প্রয়োজনীয় পাঁজি না থাকায় তারা অসহায় হয়ে পড়ে। আর অন্যদিকে বড় বড় ব্যাসায়ীদের সমন্বয়ে বুর্জোয়া পাঁজিপতি গোষ্ঠীর জন্ম হয়।

শ্রমিকদের দুর্দশা লাঘবে মনীষিগণের প্রচেষ্টা

শ্রমিকদের প্রতি শিল্পপতিদের অন্যায়-আচরণ অতি সুস্পষ্ট। ইউরোপীয় শিল্প জীবনে এই অন্যায় পাঁজিবাদী ব্যবস্থা এক দুষ্ট বিষ-ক্ষতের মত বিরাজ করতে থাকে এবং তা একটি প্রধানতম সামাজিক সমস্যারূপে দেখা দেয়।
শ্রমিকদিগকে এহেন দুরবস্থা থেকে মুক্তি দানের জন্য, তাদের অবস্থা উন্নয়নের ব্রত নিয়ে এই সময় নানা মনীষী স্ব স্ব ধ্যান-ধারণা অনুযায়ী প্রচেষ্টায় তৎপর হয়ে উঠলেন।

আরও বই ডাউনলোড করুন
ধারাবাহিক পূর্ণাঙ্গ নামাজ শিক্ষা (প্রয়োজনীয় মাসাইল সহ) pdf islamic book ডাউনলোড
আমার বিয়ের বয়স পার হয়ে গেল বিয়ের জন্য কেউ কখনো চেষ্টা করেনি পড়ুন
আজাদী আন্দোলনে আলেম সমাজের সংগ্রামী ভুমিকা - পিডিএফ ডাউনলোড ডাউনলোড

সোশ্যালিজম বা সমাজতন্ত্র কথাটির যিনি প্রথম প্রয়োগ করেন তিনি হলেন ম্যানচেষ্টারের সুতা কলের মালিক রবটি ওয়েন (১৭৭১-১৮৫৮)। তিনি নিজে যথেষ্ট মুনাফা অর্জ'ন করতেন, কিন্তু কারখানার অভ্যন্তরে শ্রমিকদের অবস্থা দর্শনে তিনি অত্যন্ত হতাশ হয়ে পড়েন। নিউলানাক' নামক স্থানে এক আদর্শ কারখানা স্থাপন করেন এবং সেখানে সমবায় বিপণী কায়েম করে, অসুস্থ ও বৃদ্ধ হয়ে পড়লে ভাতা দেওয়ার রীতি প্রবর্তন করে তাঁর নিজের কারখানার শ্রমিকদের অবস্থা কিছুটা উন্নত করতে সক্ষম হলেন। কিন্তু যেহেতু এ এক বেসরকারী একক প্রচেষ্ট। ছিল, তাই সমাজে তা কোন সার্বিক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করতে পারে নি।

সেন্ট সাইমন (১৭৬০-১৮২৪) ও চালর্স' ফুরিয়ে' (১৭৭২-১৮৩৭) সমস্ত পণ্য সরকারী নিয়ন্ত্রণে এনে উৎপাদিত সামগ্রী সকল মানুষকে ন্যায়-নীতির ভিত্তিতে ভাগ করে দেওয়ার প্রস্তাব করে মেহনতি জনদের অবস্থা উন্নয়নের চেষ্টা করলেন।
এরপর প্রচেষ্টা চালালেন লুইব্রাঙ্ক, নৈরাজ্যবাদী জোসেফ প্রধো। (১৮০৯-১৮৬৫) মিখাইল বাকুনীন (১৮১৪-১৮৭৬) প্রমুখ মনীষী। এত করার পরও শ্রমিকদের তেমন উন্নতি পরিলক্ষিত হল না। পূর্বের মত পাঁজিপতিদের পকেট অতিরিক্ত সম্পদ দ্বারা ফুলে ফেপে উঠছিল, আর শ্রমিকদের দিন দিন অন্ধকারের দুর্গম অতলে তলিয়ে যাচ্ছিল।

সমাজতন্ত্র ও শ্রমিক

হাজারো লহর বন্যা বহায়ে, অনেক আশার পিদিম জালিয়ে, শ্রমিক শ্রেণীর রাজত্ব কায়েম করার আবেগময় বাণী শুনিয়ে, লাখো মানুষের কবরের উপর শ্রমিকদের তথাকথিত যে স্বপ্ন রাজ্যগুলি প্রতিষ্ঠিত হয়; তা সত্যই কি মেহনতিদের তথ্য সর্বহারাদের সকল সমস্যার সুষ্ঠ, সমাধান করতে পেরেছে? অন্যকথায়-সমাজতন্ত্র, দাবির বেড়াজালে নয়; বাস্তবিক ভাবেই কি পুজিবাদী স্বৈরাচারের ফলে যে আধুনিক শ্রমিক শ্রেণীর উদ্ভব হয়, এদের সমস্যার কোন ন্যায়ানুগ ও কার্যোপযোগী সমাধান বের করতে পেরেছে?

গভীর দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করি যে, আজ পর্যন্ত বক্তৃতান্ত্রিক যত আন্দোলন হয়েছে; যতগুলি বিপ্লব সংঘটিত হয়েছে, সবগুলিতেই কতিপয় মুষ্টিমেয় লোক নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির নিমিত্ত সাধারণ সর্বহারাদেরকে স্বাচ্ছন্দের আশা দিয়ে, তাদেরকে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করেছে। পাঁজিবাদীরা রাজতান্ত্রিক ও সামন্ততান্ত্রিক অবস্থায় নিজেদের স্বার্থ সংরক্ষিত করতে না পেরে গণতন্ত্রের নামে; আর গণতন্ত্র এলে বঞ্চিতদের সার্বিক সুবিধা হবে-এর প্রলোভন দিয়ে সাধারণ মানুষকে সামন্তদের বিরদ্ধে লেলিয়ে দেয়। পরিণামে গণতন্ত্র এলে এর সমস্ত সুবিধার সিংহভাগটাই তারা হাতড়িয়ে নেয়; জনসাধারণ কেবল তাদের উচ্ছিষ্টই চাটবার সুযোগ পায়। ফলে মানুষের অবস্থ! কেমন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল, তা আমরা পূর্বের আলোচনা দ্বারা উপলব্ধি করতে পারি।

ইসলামের দৃষ্টিতে শ্রম

শ্রমিকের আলোচনা করতে যেয়ে শ্রমিকের কথা আপনা-আপনি এসে পড়ে। শ্রমিকদের হাতে পাঁজি বিনিয়োগের কোন উপায় না থাকায় এবং নিজেদেরকে গতর খেটে পেট চালাতে হয় ভেবে তাদের মানসিক কাঠামো স্বভাবতই দুর্বল থাকে। এক লজ্জাজনক অনুভূতির শিকার হয়ে পড়ে তারা।

ইসলাম শ্রমিকদেরকে এই হীনমন্যতা থেকে মুক্তি দিয়েছে। সোচ্চার হয়ে ঘোষণা করেছে-ওরে! তুই ছোট নস্। কাছে শ্রমের যোগ্যতা নামক সর্বশ্রেষ্ঠ পংজি তাতে নেই কোন অসমতা। গতর খেটে পূজি না থাকলেও তোর মওজুদ রয়েছে। আর উপার্জন করা ইসলামের দৃষ্টিতে কোন লজ্জাজনক কাজ নয়। হালাল রঙ্গী তালাশ করা তাষে ভাবেই হোক অত্যন্ত প্রশংসনীয় কাজ-দ্বিতীয় স্তরের ফরয।

নবী-এ-করীম ইরশাদ ফরমান-শ্রমজীবীর উপার্জনই উৎকৃষ্টতর যদি সে সৎ উপার্জনশীল হয়। একবার রসুল করীম সাল্লাল্লাহ আলায়হি ওয়া সাল্লামের কাছে জিজ্ঞেস করা হল-ইয়া রসুল! কোন ধরনের উপার্জন শ্রেষ্ঠতর? তিনি উত্তর করলেন-নিজের শ্রমলব্ধ উপার্জ'ন। রসূলে পাক আরো ফরমান যে ব্যক্তি নিজের শ্রমের উপর জীবিকা নির্বাহ করে তার চেয়ে উত্তম আহার আর কেউ করে না। জেনে রাখ, আল্লাহ'র নবী দাউদ (আঃ) নিজের শ্রমলব্ধ উপার্জনে জীবিকা চালাতেন।

ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ Bangla Islamic Book free

ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ Bangla Islamic Book free

ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ - ডাঃ মারওয়ান ইবরাহীম আল কায়সি
book cover islame noitikota o achoron
ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ ডাঃ মারওয়ান ইবরাহীম আল কায়সি
প্রকাশনীঃ ইসলামিক থ্যাট
বইয়ের সাইজঃ ৩-এমবি
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১৭৯
বইয়ের ফরম্যাট পিডিএফ ই-বুক
বিভাগঃ ইসলামী আদর্শ
কৃতজ্ঞতায়ঃ বাগী কুঞ্জালয় পাঠাগার

সামাজিক সম্পর্ক রক্ষায় ইসলামি আদবের ভূমিকা

ইসলামি আদবের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে: সুস্থ সামাজিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা ও বজায় রাখা। আদর্শ মুসলিম ব্যক্তিত্বের অন্যতম প্রয়োজনীয় গুণাবলী হচ্ছে সততা, অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা, ওয়াদা রক্ষা করা, ক্রোধ সংবরণ করা, ধৈর্য, ভদ্রতা, মমত্ববোধ ইত্যাদি। এসব গুণ মানুষের মধ্যে অনাস্থার ভাব দূর করে আস্থা সৃষ্টি করে- যা সুষ্ঠু সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় ভিত্তি যুগিয়ে থাকে।

ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গিতে অন্যের ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকা উচিত অথবা নিজের জন্য যতখানি ভাবা হয় অন্যের জন্যেও তা ভাবা আবশ্যক। মুসলমানদেরকে পারস্পরিক দায়িত্বশীল হতে হবে এবং একজনকে অপরের বাস্তব সাহায্যে এগিয়ে আসতে হবে।

ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ

ইসলামি আদব লেহাজে আনুষ্ঠানিকতার স্থান সামান্যই। এর ফলে অবাধ সামাজিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়, সমাজ প্রশাসন আরো গতিশীল হয়, বৈঠকাদি ও যাতায়াতের পথ সুগম হয়। কারণ ইসলামে বিচ্ছিন্নতা নেই। মুসলমানদের পারস্পরিক দেখা সাক্ষাতের জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে এজন্যে যে, এর ফলে সামাজিক সম্পর্ক জোরদার হয় এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতার মনস্তাত্ত্বিক কুফল থেকে ব্যক্তি রক্ষা পায়। তদুপরি মুসলমানদেরকে অবাধে দেখা সাক্ষাতের জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে। মেহমানদারির ব্যাপারে কর্তব্য হচ্ছে মেহমানের প্রতি অতিথিপরায়ণ ও উদার হওয়া। খাবারের দাওয়াত গ্রহণ করাকে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে এবং বিয়ের ওয়ালিমায় যাওয়াকে অবশ্য কর্তব্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসলামে যৌনাচরণ বিধি

আল্লাহর সৃষ্ট প্রকৃতির অংশ হিসেবে ইসলাম যৌনতার স্বীকৃতি দেয়। তার সৃষ্ট সব কিছুই তার বিধান মোতাবেক আচরণ করলে খারাপ বা ভুল হতে পারে না। সন্দেহ নেই, ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের বিকাশ এবং সার্বিকভাবে সমাজের এক অপরিহার্য বিষয় যৌনজীবন। ব্যক্তিগত স্বার্থ-চেতনা এবং ভালবাসার আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে যৌনতার বিকাশ নিবিড়ভাবে গড়ে উঠে। যৌনজীবনে বঞ্চনার ফলে অপরিচ্ছন্ন থাকলে মানসিক স্বাস্থ্য বিপন্ন হয়, সুসম্পর্ক ব্যাহত হয় এবং সমাজে দক্ষতার অভাব ঘটে। বিবাহের মাধ্যমে যৌন জীবনকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত না করলে যৌনপ্রবৃত্তি ধ্বংসাত্মক হতে পারে। এটা তখন ব্যক্তি, বিয়ে ও পারিবারিক প্রথা এবং সার্বিকভাবে সমাজের বিরুদ্ধ শক্তি হিসেবে কাজ করবে। মূলতঃ যৌনতা ব্যক্তিকে তার বেপরোয়া পরিণতি থেকে রক্ষা করতে পারে; অপরদিকে এর বেপরোয়া গতি সমাজ জীবন যে সহযোগিতামূলক সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল তা বিপন্ন করতে পারে।"

সুতরাং যৌনাচারকে অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এটা অবশ্য কঠিন বলে প্রতীয়মান হয়; সমাজে যে সব উপায়-উপকরণের সাহায্যে ব্যক্তির যৌন আকাঙ্ক্ষাকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব তাদের সহযোগিতা ছাড়া এটা অসম্ভব মনে হতে পারে। নিম্নোক্ত আচরণবিধি অনুসরণের মাধ্যমে ইসলাম এই সমস্যার সমাধান পেশ করেছেঃ

মুসলমানদের ঐক্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয় সংরক্ষণে ইসলামি আদব

ইসলামি আদবের অন্যতম সাফল্য হচ্ছে: বিভিন্ন জাতির অন্তর্ভুক্ত, ভিন্ন ভাষাভাষী এবং বিশ্বের বিভিন্নাঞ্চলে বসবাসকারী মুসলিম জনগণের ঐক্য প্রতিষ্ঠা। পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহ থেকে গৃহীত ইসলামি আদব লেহাজের ধর্মীয় প্রকৃতি এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এজন্য পাকিস্তান সফরকারী একজন মরোক্কোবাসী সেখানকার জনগণের আচরণ বুঝতে অসুবিধায় পড়েনা, অথবা বিদেশ বিভূই বলেও মনে হয়না। মিশরের মুসলিম মহিলারা ইসলামি পোশাক পরিহিতা তুর্কি মহিলাদের দেখে বিস্মিত হয় না। ইসলামি সমাজের সদস্যরা প্রতিদিন বিভিন্ন উপলক্ষে তাদের সংহতি প্রকাশ করে জানিয়ে দেয় যে, তারা যেসব পন্থায় কাজ করে, তা তাদের ঐতিহ্যের অংশ। ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ

আরও বই ডাউনলোড করুন
Pdf Book নেক আমল বিধ্বংসী বদ আমল সমূহ - মাসুদা সুলতানা রুমী ডাউনলোড
দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী - মহিলা সমাবেশে প্রশ্নের জবাবে - সকল খন্ড পিডিএফ ডাউনলোড
রিয়াদুস সালেহীন সকল খন্ড PDF Download ডাউনলোড

ইসলামি আদব মুসলমানদের মধ্যে অভিন্ন সমঝোতা গড়ে তোলে; গঠন করে একটি সার্বজনীন সংস্কৃতি। স্থানীয় সংস্কৃতি এক ইসলামি সম্প্রদায় থেকে অপর সম্প্রদায়ে ভিন্ন হতে পারে। নামাজ পড়া ও শুভেচ্ছা জানানো, প্রধান প্রধান উৎসব, পানাহারে বিধি নিষেধ (যেমন মদ্য পান), হালাল ও হারাম মেনে চলা- প্রভৃতি সার্বজনীন ইসলামি ঐক্যের উপকরণ। প্রতিটি অঞ্চলে মুসলিম শালীন পোশাক পরিধান করে এবং বেশির ভাগ মুসলিম দেশে যথাযথ ইসলামি পোশাক পরে। স্থানীয় বৈচিত্র্যধর্মী সংস্কৃতি (যেমন খাবারের ক্ষেত্রে পাক-ভারত উপমহাদেশে জনপ্রিয় বিরিয়ানী অথবা পোশাকের ক্ষেত্রে ভারতে মুসলিম নারীদের মধ্যে চালু শাড়ী) গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কারণ: এর ফলে এক অঞ্চলের মুসলমানদের সঙ্গে অন্য অঞ্চলের মুসলমানদের পার্থক্য বুঝা যায়। কুরআনের ভাষায় আমাদের বিভিন্ন জাতিকে সৃষ্টি করা হয়েছে, যাতে আমরা একে অপরকে চিনতে পারি। এসব বিষয় বিশেষ কোন এলাকার মুসলমানদের চরিত্র ও পরিচয় মুছে দেয়না। ইসলামি আদবের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান হচ্ছে: অমুসলমানদের আচার আচরণের অনুকরণে নিষেধাজ্ঞা পালন। এর সাথে অবশ্য হস্তশিল্প, প্রযুক্তি ৷

বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে জ্ঞানান্বেষণ নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা যাবে না। ইসলাম জ্ঞানান্বেষণকে সবসময় উৎসাহিত করে এসেছে। সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখার ব্যাপারে আচার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটা সুস্পষ্ট যে, মুসলিম জীবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আচার আচরণ তাদের নিজস্ব ইসলামি দ্বারাই পার্থক্য করা যেতে পারে।