ইসলামিক ফাউন্ডেশন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ইসলামিক ফাউন্ডেশন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ফরীদ উদ্দীন মাসউদ এর  বই -  ইসলামে শ্রমিকের অধিকার pdf

ফরীদ উদ্দীন মাসউদ এর বই - ইসলামে শ্রমিকের অধিকার pdf

ইসলামে শ্রমিকের অধিকার - ফরীদ উদ্দীন মাসউদ
book cover islame sromiker odhikar pdf
ইসলামে শ্রমিকের অধিকার ফরীদ উদ্দীন মাসউদ
প্রকাশনীঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
বইয়ের সাইজঃ ২-এমবি
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১৪৮
বইয়ের ফরম্যাট পিডিএফ ই-বুক
বিভাগঃ ইসলামী আদর্শ
কৃতজ্ঞতায়ঃ বাগী কুঞ্জালয় পাঠাগার

পুঁজিবাদ ও আধুনিক শ্রমিক শ্রেণীর উদ্ভব

ত্রয়োদশ ও চতুর্দশ শতাব্দীতে ইউরোপে যে চেতনা জাগে, ক্রুসেড যুদ্ধের মাধ্যমে উন্নততর সভ্যতার অধিকারী মুসলমানদের সঙ্গে মেলা-মেশার কারণে যে আত্মসম্প্রমবোধ জাগে তা সেখানকার সমস্ত পুরনো মূল্যবোধকে লন্ডভণ্ড করে দেয়। তারা অকস্মাৎ যেন এক নূতন দিগন্তের সন্ধান পায়। ধর্মীয় পোপকদের যাঁতাকলে এতদিন তাদের যে অভ্যন্তরীণ সম্ভাবনা সমূহ গুমরে মরছিল তা' সহসাই যেন বিকশিত হয়ে ওঠে। সমস্ত বাঁধ তাদের ভেঙ্গে যায়-নব নব আবিষ্কারে তারা মেতে ওঠে।

এরই ফলশ্রুতিতে অষ্টাদশ শতকের শিল্প বিপ্লবের মাধ্যমে সেখানে এক অভূতপূর্ব সামাজিক রূপান্তর সংঘটিত হয়। নূতন নূতন শিল্প ও কলকারখানা আবিষ্কারের ফলে শিল্প উৎপাদনের উপকরণগুলির মধ্যে দ্রুত পরিবর্তন হতে থাকে। গোষ্ঠী ও সংঘভিত্তিক সব রকমের শিল্পা-শ্রমগুলি রুমে ভেঙ্গে পড়তে থাকে। গৃহ ও কুটীরশিল্পগুলি মিল ও কারখানার উৎপাদন ক্ষমতার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে না পেরে বিলীন হয়ে যেতে থাকে। আর বড় বড় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলি এসবের জায়গা দখল করে নিতে শুরু করে। দরিদ্র কুটীর শিল্পীদের হাতে বড় ধরনের ব্যবসা করার প্রয়োজনীয় পাঁজি না থাকায় তারা অসহায় হয়ে পড়ে। আর অন্যদিকে বড় বড় ব্যাসায়ীদের সমন্বয়ে বুর্জোয়া পাঁজিপতি গোষ্ঠীর জন্ম হয়।

শ্রমিকদের দুর্দশা লাঘবে মনীষিগণের প্রচেষ্টা

শ্রমিকদের প্রতি শিল্পপতিদের অন্যায়-আচরণ অতি সুস্পষ্ট। ইউরোপীয় শিল্প জীবনে এই অন্যায় পাঁজিবাদী ব্যবস্থা এক দুষ্ট বিষ-ক্ষতের মত বিরাজ করতে থাকে এবং তা একটি প্রধানতম সামাজিক সমস্যারূপে দেখা দেয়।
শ্রমিকদিগকে এহেন দুরবস্থা থেকে মুক্তি দানের জন্য, তাদের অবস্থা উন্নয়নের ব্রত নিয়ে এই সময় নানা মনীষী স্ব স্ব ধ্যান-ধারণা অনুযায়ী প্রচেষ্টায় তৎপর হয়ে উঠলেন।

আরও বই ডাউনলোড করুন
ধারাবাহিক পূর্ণাঙ্গ নামাজ শিক্ষা (প্রয়োজনীয় মাসাইল সহ) pdf islamic book ডাউনলোড
আমার বিয়ের বয়স পার হয়ে গেল বিয়ের জন্য কেউ কখনো চেষ্টা করেনি পড়ুন
আজাদী আন্দোলনে আলেম সমাজের সংগ্রামী ভুমিকা - পিডিএফ ডাউনলোড ডাউনলোড

সোশ্যালিজম বা সমাজতন্ত্র কথাটির যিনি প্রথম প্রয়োগ করেন তিনি হলেন ম্যানচেষ্টারের সুতা কলের মালিক রবটি ওয়েন (১৭৭১-১৮৫৮)। তিনি নিজে যথেষ্ট মুনাফা অর্জ'ন করতেন, কিন্তু কারখানার অভ্যন্তরে শ্রমিকদের অবস্থা দর্শনে তিনি অত্যন্ত হতাশ হয়ে পড়েন। নিউলানাক' নামক স্থানে এক আদর্শ কারখানা স্থাপন করেন এবং সেখানে সমবায় বিপণী কায়েম করে, অসুস্থ ও বৃদ্ধ হয়ে পড়লে ভাতা দেওয়ার রীতি প্রবর্তন করে তাঁর নিজের কারখানার শ্রমিকদের অবস্থা কিছুটা উন্নত করতে সক্ষম হলেন। কিন্তু যেহেতু এ এক বেসরকারী একক প্রচেষ্ট। ছিল, তাই সমাজে তা কোন সার্বিক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করতে পারে নি।

সেন্ট সাইমন (১৭৬০-১৮২৪) ও চালর্স' ফুরিয়ে' (১৭৭২-১৮৩৭) সমস্ত পণ্য সরকারী নিয়ন্ত্রণে এনে উৎপাদিত সামগ্রী সকল মানুষকে ন্যায়-নীতির ভিত্তিতে ভাগ করে দেওয়ার প্রস্তাব করে মেহনতি জনদের অবস্থা উন্নয়নের চেষ্টা করলেন।
এরপর প্রচেষ্টা চালালেন লুইব্রাঙ্ক, নৈরাজ্যবাদী জোসেফ প্রধো। (১৮০৯-১৮৬৫) মিখাইল বাকুনীন (১৮১৪-১৮৭৬) প্রমুখ মনীষী। এত করার পরও শ্রমিকদের তেমন উন্নতি পরিলক্ষিত হল না। পূর্বের মত পাঁজিপতিদের পকেট অতিরিক্ত সম্পদ দ্বারা ফুলে ফেপে উঠছিল, আর শ্রমিকদের দিন দিন অন্ধকারের দুর্গম অতলে তলিয়ে যাচ্ছিল।

সমাজতন্ত্র ও শ্রমিক

হাজারো লহর বন্যা বহায়ে, অনেক আশার পিদিম জালিয়ে, শ্রমিক শ্রেণীর রাজত্ব কায়েম করার আবেগময় বাণী শুনিয়ে, লাখো মানুষের কবরের উপর শ্রমিকদের তথাকথিত যে স্বপ্ন রাজ্যগুলি প্রতিষ্ঠিত হয়; তা সত্যই কি মেহনতিদের তথ্য সর্বহারাদের সকল সমস্যার সুষ্ঠ, সমাধান করতে পেরেছে? অন্যকথায়-সমাজতন্ত্র, দাবির বেড়াজালে নয়; বাস্তবিক ভাবেই কি পুজিবাদী স্বৈরাচারের ফলে যে আধুনিক শ্রমিক শ্রেণীর উদ্ভব হয়, এদের সমস্যার কোন ন্যায়ানুগ ও কার্যোপযোগী সমাধান বের করতে পেরেছে?

গভীর দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করি যে, আজ পর্যন্ত বক্তৃতান্ত্রিক যত আন্দোলন হয়েছে; যতগুলি বিপ্লব সংঘটিত হয়েছে, সবগুলিতেই কতিপয় মুষ্টিমেয় লোক নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির নিমিত্ত সাধারণ সর্বহারাদেরকে স্বাচ্ছন্দের আশা দিয়ে, তাদেরকে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করেছে। পাঁজিবাদীরা রাজতান্ত্রিক ও সামন্ততান্ত্রিক অবস্থায় নিজেদের স্বার্থ সংরক্ষিত করতে না পেরে গণতন্ত্রের নামে; আর গণতন্ত্র এলে বঞ্চিতদের সার্বিক সুবিধা হবে-এর প্রলোভন দিয়ে সাধারণ মানুষকে সামন্তদের বিরদ্ধে লেলিয়ে দেয়। পরিণামে গণতন্ত্র এলে এর সমস্ত সুবিধার সিংহভাগটাই তারা হাতড়িয়ে নেয়; জনসাধারণ কেবল তাদের উচ্ছিষ্টই চাটবার সুযোগ পায়। ফলে মানুষের অবস্থ! কেমন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল, তা আমরা পূর্বের আলোচনা দ্বারা উপলব্ধি করতে পারি।

ইসলামের দৃষ্টিতে শ্রম

শ্রমিকের আলোচনা করতে যেয়ে শ্রমিকের কথা আপনা-আপনি এসে পড়ে। শ্রমিকদের হাতে পাঁজি বিনিয়োগের কোন উপায় না থাকায় এবং নিজেদেরকে গতর খেটে পেট চালাতে হয় ভেবে তাদের মানসিক কাঠামো স্বভাবতই দুর্বল থাকে। এক লজ্জাজনক অনুভূতির শিকার হয়ে পড়ে তারা।

ইসলাম শ্রমিকদেরকে এই হীনমন্যতা থেকে মুক্তি দিয়েছে। সোচ্চার হয়ে ঘোষণা করেছে-ওরে! তুই ছোট নস্। কাছে শ্রমের যোগ্যতা নামক সর্বশ্রেষ্ঠ পংজি তাতে নেই কোন অসমতা। গতর খেটে পূজি না থাকলেও তোর মওজুদ রয়েছে। আর উপার্জন করা ইসলামের দৃষ্টিতে কোন লজ্জাজনক কাজ নয়। হালাল রঙ্গী তালাশ করা তাষে ভাবেই হোক অত্যন্ত প্রশংসনীয় কাজ-দ্বিতীয় স্তরের ফরয।

নবী-এ-করীম ইরশাদ ফরমান-শ্রমজীবীর উপার্জনই উৎকৃষ্টতর যদি সে সৎ উপার্জনশীল হয়। একবার রসুল করীম সাল্লাল্লাহ আলায়হি ওয়া সাল্লামের কাছে জিজ্ঞেস করা হল-ইয়া রসুল! কোন ধরনের উপার্জন শ্রেষ্ঠতর? তিনি উত্তর করলেন-নিজের শ্রমলব্ধ উপার্জ'ন। রসূলে পাক আরো ফরমান যে ব্যক্তি নিজের শ্রমের উপর জীবিকা নির্বাহ করে তার চেয়ে উত্তম আহার আর কেউ করে না। জেনে রাখ, আল্লাহ'র নবী দাউদ (আঃ) নিজের শ্রমলব্ধ উপার্জনে জীবিকা চালাতেন।

ইসলামী দর্শন pdf free download - শিবলী নুমানী

ইসলামী দর্শন pdf free download - শিবলী নুমানী

book cover islami dhorshon
ইসলামী দর্শন শিবলী নুমানী
প্রকাশনীঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
বইয়ের সাইজঃ ৬-এমবি
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৪২৯
বইয়ের ফরম্যাট PDF E-BOOK
বিভাগঃ ইসলামী দর্শন
কৃতজ্ঞতায়ঃ বাগী কুঞ্জালয় পাঠাগার

ইলমে কালাম এর উপকারিতা

সক্রেটিস, প্লেটো ও অ্যারিস্টটঞ্জের যঙ্গকে দর্শনের 'স্বর্ণযুগ' বল্লা হয়। এঁরা মৌলিক চিন্তাধারার প্রাচুর্যে তহযিব-তমদ্দুনের কায়ার নবপ্রাণ সঞ্চার করেন; বিশ্ব, আত্মা এবং স্রষ্টার অস্তিত্ব সম্পর্কে নতুন মতবাদ প্রবর্তন করেন। এসব মতবাদ ক্রমশ বিপ্লবের আকার ধারণ করে। ফলে, এমন একটি চিন্তাধারা গড়ে উঠে, যার বহুল প্রচার ও প্রভাব দীর্ঘকাল যাবত আকায়েদ অর্থাৎ ধর্মীয় বিশ্বাস-দেহে আঘাত হানতে থাকে। এর অশুভ পরিণতির কথা ভেবে কেবল রাজনীতিবিদরাই নয়, শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত সেরা লোকেরাও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এর আরো একটি প্রতিক্রিয়া এই দাঁড়ালো যে, পরবর্তী বংশধরেরা জীবন দর্শনের প্রত্যেকটি দিক নিয়ে অতিরিক্ত মাথা ঘামাতে আরম্ভ করে।

দর্শন জন্ম নেয় সন্দেহের গর্ভে এবং তা জীবনীশক্তি লাভ করে ধর্ম এবং আকায়েদের সংস্পর্শ ছাড়াই। সুতরাং, দর্শনের বহুল চর্চা ইসলামী দর্শন এবং সুক্ষ্ম আলোচনা মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিকে জড়সড় করে তোলে। দার্শনিকগণ আল্লাহ্ এবং বিশ্ব নিয়ে ভাবতে শুরু করেন। তাঁরা যুক্তি ও জ্ঞানের আলোকে আল্লাহর অস্তিত্ব বা অনস্তিত্ব প্রামান্সে উঠে পড়ে লাগলেন।

ধর্মীয় বিশ্বাসে মতভেদ সৃষ্টির প্রথম কারণ

ইসলামের গণ্ডি যখন আরব ছেড়ে অনেকদূর প্রসারিত হলো, ইরানী, গ্রীক, কির্তী এবং আরো অন্যান্য জাতি যখন মুসলিম দেশের সীমারেখায় প্রবেশ করলো, তখন থেকেই আকাইদ নিয়ে সূক্ষ্ম আলোচনা ও পর্যালোচনা শুরু হয়। কারণ টীকা-টিপ্‌পনী কাটা এবং তিলকে তাল করাই ছিল অনারবদের স্বভাব।

দ্বিতীয় কারণ:

দ্বিতীয় কারণ ছিল এই যে, যে সব জাতি ইসলামে দীক্ষিত হয়, তারা পূর্ববর্তী ধর্মে আল্লাহর গুণাবলী, বিধি-বিধান, প্রতিদান ও শাস্তি ইত্যাদি বিষয়ে ভিন্ন ধারণা পোষণ করতো। একাধিক আল্লাহ্ত্র অস্তিত্ব, আল্লাহ্ অংশীদারত্ব, স্মৃতিপূজা এরূপ তাদের অনেক ধ্যান-ধারণা ছিল, যা স্পষ্টত ইসলাম বিরোধী। তারা যখন ইসলাম গ্রহণ করলো, তখন তাদের এসব ভাবধারা মন থেকে সম্পূর্ণ ধুয়ে মুছে যায়। কিন্তু ইসলামের যে সব আকাইদে বিভিন্ন দিক রয়েছে, অর্থাৎ যাদের বিভিন্ন ব্যাখ্যা করা যায় এবং তন্মধ্যে যেগুলোর সাথে তাদের পূর্ববর্তী ধর্মীয় বিশ্বাসের কিছুটা সাদৃশ্যও রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে পুরনো ধ্যান-ধারণার দিকে ধাবিত হওয়াটা ছিল তাদের পক্ষে স্বাভাবিক ব্যাপার। বিভিন্ন ধর্মের লোক ইসলামে দীক্ষিত হয়। তাদের সাবেক ধর্মীয় বিশ্বাস ছিল পরস্পর বিরোধী। তাই ইসলামের উপর তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া না হয়ে পারেনি। ধরুন, ইহুদী ধর্মে আল্লাহকে 'শরীরী মানুষ' রাপে জ্ঞান করা হয়। আল্লাহর চোখে উঠে, চোখে যন্ত্রণাও হয়, ফেরেশতা তার সেবা করে। সে কখনো কখনো পয়গম্বরের সাথে মল্লযুদ্ধে লিপ্ত হয় এবং দৈবক্রমে আঘাতও প্রাপ্ত হয় ইত্যাদি ইত্যাদি।

আরও বই ডাউনলোড করুন
আজাদী আন্দোলনে আলেম সমাজের সংগ্রামী ভুমিকা ডাউনলোড
আপনাদের প্রশ্নের জবাব ১-৩ খন্ড পিডিএফ বই ডাউনলোড
তাফসীর আয়াতুল কুরসী - ডাঃ ফযলে ইলাহ ডাউনলোড

এরূপ ভাবধারার ধারক ও বাহক ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হলো। তাদের নজর কুরআনের সেসব আয়াতের উপর না পড়ে পারেনি, যাতে আল্লাহ্ হাত, মুখ এবং অন্যান্য কায়াবোধক বিভিন্ন শব্দ বিদ্যমান রয়েছে। এসব শব্দ দিয়ে তারা স্বভাবতই এ অর্থ করেছে যে, বস্তুত আল্লাহ্ হাত, পা ইত্যাদি রয়েছে।

বিভিন্ন সম্প্রদায়ের উৎপত্তি

অঙ্কুরে প্রশাসনিক প্রয়োজনেই 'জবর ও কদর' (মানুষের অক্ষমতা ও সক্ষমতা)-এর প্রশ্নটি সৃষ্টি করা হয়। কিন্তু যখন একবার কোন কারণে চিন্তাধারায় প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়, তা আপনা আপনিই বেড়ে চলে। বনু উমাইয়াদের যুগ অতিক্রান্ত হওয়ার পূর্বেই 'খালক-ই কুরআন' অর্থাৎ কুরআনকে চিরন্তন না বলে অভিনব এবং নম্বর বলা, 'তানযীহ' অর্থাৎ আল্লাহকে মানবিক ররূপের উর্ধ্বে মনে করা, 'তাশবীহ' অর্থাৎ আল্লাহকে মানবিক রূপের সাথে তুলনা করা, আল্লাহর গুণাবলীকে তাঁর সত্তার অন্তর্ভুক্তি বা বহির্ভূত মনে করা ইত্যাদি বিতর্কমূলক বিষয়াদি মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। যার মুখ থেকে যে কথা বের হতো, সেটাই একটা মতবাদে পরিণত হতো। এভাবে অল্প সময়ের মধ্যেই বহু সম্প্রদায়ের উৎপত্তি হয়। 'মিলাল ও নিহাল' এবং আকাইদের অন্যান্য গ্রন্থে প্রত্যেক সম্প্রদায়ের পৃথক পৃথক বিবরণ এবং ধর্মীয় বিশ্বাস লিখিত রয়েছে। এখানে তার বিস্তারিত বিবরণ দেয়া সম্ভব নয়।

ইবনে খালদুনের ভ্রম

আল্লামা ইবনে খালদুন তাঁর ইতিহাসের ভূমিকায় ইলমে কালামের বর্ণনায় লিখেছেন, "ইমাম গাযালীর পূর্বে ইলমে কালামে দর্শনের কোন আমেজ ছিল না । তিনিই সর্বপ্রথম দার্শনিক পদ্ধতি অবলম্বন করে ইলমে কালাম পুনর্গঠন করেন।" এটা ঐতিহাসিক ইবনে খালদুনের মারাত্মক ভ্রম। পরবর্তী অনেক আলোচনায় তাঁর এ ভ্রম প্রতিপন্ন হবে। ইয়াহইয়া ইবনে খালেদ কর্তৃক আহত ইলমে কালামের সভায় যেসব বিষয় আলোচিত হয়েছে বলে মাস্ট্রদী উল্লেখ করেছেন, সেগুলোর চাইতে অধিকতর দার্শনিক বিষয় আর কি হতে পারে?

খলিফা মাহদীর পর হিজরী ১৬১ সালে হাদী শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন এবং মার এক বছর তিন মাস শাসনকার্য পরিচালনা করেন। এরপর মহামতি খলিফা হারুনুর রশিদ সিংহাসনে আরোহণ করেন। তাঁর যুগকে সমৃদ্ধি ও উন্নতির যুগ বলে পরিগণিত করা হয়। যে দরবারে জা'ফর বারমাকী, কাথী আবু ইউসুফ, ইমাম মুহম্মদ, আবু নওয়াস, ইসহাক মুসিলী এবং কাসাইর ন্যায় মহৎ লোক আসীন থাকতেন, তার অধিনায়ক কতবড় মর্যাদার অধিকারী ছিলেন, তা সহজেই অনুমেয়। কিন্তু তাঁর যুগে ইলমে কালামের কোন উন্নতি হয়নি ৷

সে সময় কালামপন্থী আলিমদের কয়েদখানায় বন্দী করা হয় এবং আদেশ জারি করা হয় যে, কেউ যেন ইলমে কালাম সম্পর্কে কিছু লিখতে না পায়। কিন্তু তখন এমন কতগুলো কারণ দাঁড়ায়, যাতে বাধ্য হয়ে হারুনুর রশিদকে ইলমে কালামের কদর করতেই হয়। লোকদের ইলমে কালাম থেকে যখন প্রতিহত করা হলো এবং এ খবর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়লো, তখন সিন্ধুর রাজা সুযোগ বুঝে হারুনুর রশিদেয় নিকট এ মর্মে এক পত্র দিলেন, "মুসলমানেরা তলোয়ারের বলেই ইসলাম প্রচার করেছে। যদি যুক্তিবনে ইসলামকে সত্য বলে প্রমাণিত করা চলে, তবে আপনি কোন একজন আলিমকে আমার কাছে পাঠিয়ে দিন। তিনি আমাকে বুঝিয়ে দিতে পারলে আমি ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হবো।”

পঞ্চম শতকে ইলমে কালাম

পঞ্চম শতকে বিভিন্ন কারণ বশতঃ ইলমে কালামের পতন শুরু হয়। তা সত্ত্বেও এ সময় কতক উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন মুতাকাল্লিমের আবির্ভাব ঘটে। তন্মধ্যে আবুল হোসাইন মোহাম্মদ ইবনে আলী আল-বসরী, আবু ইসহাক ইসফারাইনী, কাষী আবদুল জাব্বার মুতাযিলী ছিলেন বিশেষ প্রখ্যাত। ইবনে খাল্লিকান বলেন, ইমাম রাখীর 'আল মাহসূল' নামক গ্রন্থটি আবুল হোসাইন বসরী রচিত 'মু'তামাদ' নামক গ্রন্থেরই সারমর্ম। এতে সহজেই অনুমিত হয় যে, তিনি কত বড় মর্যাদার লোক ছিলেন। ইবনে খাল্লিকান তাঁর সম্পর্কে বলেনঃ "তাঁর মুক্তি খুবই সুন্দর। তিনি ছিলেন সে সময়ের ইমাম।

লোকের। তাঁর রচনায় খুবই উপকৃত হয়।" তাঁর আরো গ্রন্থ আছে। তন্মধ্যে 'তাসাফ্লুহুল আদিল্লাহ' দূখণ্ড বিশিষ্ট। 'গুরুরুল আদিল্লাহ্' একটি বৃহদাকার গ্রন্থ। আবুল হোসাইন হিজরী ৪২৬ সালে পরলোক-গমন করেন। হানাফী মতাবলম্বী প্রখ্যাত ফকিহ কাষী যমিরী তাঁর জানাযার নামায পড়ান।

আল কুরআনে অর্থনীতি pdf download

আল কুরআনে অর্থনীতি pdf download

আল কুরআনে অর্থনীতি pdf download - ইফাবা গবেষণা বিভাগ
al korane arthoniti
আল কুরআনে অর্থনীতি ইফাবা গবেষণা বিভাগ
প্রকাশনীঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
বইয়ের সাইজঃ ৮-এমবি
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৫৮৬
বইয়ের ফরম্যাট PDF E-BOOK
বিভাগঃ ইসলামী অর্থনীতি
কৃতজ্ঞতায়ঃ বাগী কুঞ্জালয় পাঠাগার

উপরোক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্টই বোঝা যায় যে, ইসলামী জীবন বিধান ও সমাজ বিধান একটি একাঙ্গীভূত সমন্বিত ও বাস্তবায়ন-পরীক্ষিত সার্বিক আদর্শবাদ এবং সেজন্যই তার সংশ্লিষ্ট আল-কুরআন ও সুন্নাহ্ প্রসূত জ্ঞান-বিজ্ঞান সার্বিক নৈতিকতা কাঠামো থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। বিচ্ছিন্ন করা হলেই সত্য থেকে বিচ্যুতির আশংকা থাকে। আর সত্য থেকে বিত্যুতিই আনে মানসিক, চারিত্রিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়। আপাতদৃষ্টিতে (জড়) সমৃদ্ধির সাফল্য ও বিজ্ঞান প্রযুক্তির অপূর্ব

কৃতিত্বের নিদর্শন সত্ত্বেও বিপর্যয়। সমন্বিত সর্বাঙ্গীণ মানসিক কল্যাণের দিক থেকে বিপর্যয়। এ সর্বাঙ্গীণ কল্যাণমুখী জ্ঞান-বিজ্ঞান প্রযুক্তি এবং সে সকল ক্ষেত্রের গবেষণা ও ব্যবহারিক প্রয়োগ বিশ্ব মানবতারই লক্ষ্য। এ লক্ষ্য সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহরই নির্ধারিত। সমন্বয় কাজে মানুষ ব্যর্থ হয়, যদি তার ব্যক্তিত্ব ও চরিত্র গঠনে, পরিবার সংগঠন প্রক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণে এবং সমাজ, অর্থনীতি ও রাজনীতি সংগঠনে যদি উক্ত সর্বাঙ্গীন কাঠামোর যুক্তিবাদকে সংরক্ষণ ও ব্যবহার করতে ব্যর্থ হয়। এ ব্যর্থতাই আনে অসমন্বিত চিন্তার প্রয়াস, আনে ভারসাম্যহীন দৃষ্টিকোণের প্রাধান্য। আর সেখান থেকেই ক্রমে ক্রমে আসে নৈতিকতাহীন অনুশীলন, অনুসন্ধান এবং তারই ফলশ্রুতিতে আসে ধর্মনিরপেক্ষতার যুক্তিহীন প্রীতি। অর্থাৎ সর্বাঙ্গীণ অকল্যাণের দৃষ্টিহারা স্বার্থসিদ্ধির সঙ্কীর্ণ পথ সন্ধান। ইসলামী সমন্বিত সর্বাঙ্গীণ দৃষ্টিকোণ তা হতে দেয় না। কারণ, এ দৃষ্টিকোণে ঈমান প্রতিষ্ঠিত আকারে ভিত্তি ধরে আল্লাহর সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দিয়ে ব্যক্তি

সামগ্রিক ব্যবস্থার অন্তর্গত অর্থনীতি ব্যবস্থা

প্রথম দিক-নির্দেশনাটি হলো ইসলামী জীবন ব্যবস্থা ও সমাজ ব্যবস্থার মধ্যে মৌল সম্পর্ক নিয়ে। ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকেই প্রথমে মানুষের ব্যক্তি জীবন ও সমাজ জীবনের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে আল-কুরআন ও সুন্নাহ্র আদর্শকে ভিত্তি করে। এ আদর্শ মানুষকে মু'মিন হিসেবে সুসমন্বিতভাবে সংগঠিত ও বিবর্তিত ব্যক্তিত্বে রূপান্তরিত করে। তার ব্যক্তি জীবন পাশ্চাত্য অর্থনীতিবিদের দৃষ্টিকোণের অর্থনৈতিক মানুষ (Economic man) থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির। ইসলামী জীবনের অধীনে ব্যক্তি-মানুষ আদর্শবাদের নৈতিকতা ও বিধি-বিধানের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পূর্ণ মানুষ, আংশিক সংকীর্ণ মানুষ নয়। এ সকল পূর্ণ মানুষই আবার সংগঠন করে সুসমন্বিত সমাজ সত্তা ও সামাজিক আচরণ। সামাজিক ইসলামী নৈতিকতা ও বিধি থেকেই আসে প্রশিক্ষণ। সংগঠিত হয় শিক্ষা-প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা। সংগঠিত হয় উম্মাহ্র রাষ্ট্ররূপ ও সরকার। প্রতিষ্ঠিত সরকার প্রতিনিধিত্ব করে ব্যক্তি চরিত্রের গুণমর্যাদা। যাঁরা রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ও দায়িত্বে আসীন হবেন পারস্পরিক আলোচনা, পরামর্শ নীতি ('শুরা বাইনাহুম') অনুসরণে তাঁরা প্রতিনিধিত্ব করবেন সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালনের সংকল্পকে-যার নির্দেশ আল-কুরআন ও সুন্নাহ্ থেকে উদ্ভূত। (যেমন-সূরা আন্-নিসাঃ

৫৯-এ* উল্লেখ আছে)। সে সংকল্প প্রশিক্ষণ ও পূর্ণ জ্ঞান থেকেই উদ্বুদ্ধ হবে। রাজনীতিবিদ ও সরকারী কর্মকর্তাগণ দায়িত্বে নিযুক্ত হবেন দায়িত্ব পালনের জন্য। ক্ষমতা ভোগ বা ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য নয়। দায়িত্বে আসীন অবস্থায় যে ক্ষমতা তাঁরা ব্যবহার করবেন, তা হলো আল-কুরআন ও সুন্নাহ্ থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা-প্রশিক্ষণ-প্রসূত বিধি প্রয়োগের যোগ্যতার ক্ষমতা। অর্থনীতি ব্যবস্থার বিধি প্রয়োগের যোগ্যতার ক্ষমতাও তার অন্তর্গত।

আরও বই ডাউনলোড করুন
কুরআন হাদিসের আলোকে শহীদ কারা pdf ডাউনলোড
পবিত্র বাইবেল পরিচিতি ও পর্যালোচনা আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর ডাউনলোড
ইসলামের দৃষ্টিতে কাঙ্খিত পরিবার Bangla PDF ডাউনলোড

অর্থনীতি ব্যবস্থার পরিচালনা শক্তি

উপরোক্ত প্রধান দিক নির্দেশনার সামগ্রিক ইসলামী জীবন ও সমাজ ব্যবস্থার পরিকল্পনা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, তার অন্তর্গত অর্থনীতিকে ইসলামী জীবন ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্নভাবে পর্যবেক্ষণ করা অথবা অনুশীলন, বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয়। কখনো আধুনিক অর্থনৈতিক পদ্ধতিতে অনুশীলন বিশ্লেষণ ও গবেষণা পরিচালনা করা হলেও সামগ্রিক ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কের যুক্তিবাদের কাঠামোর শাসন অনুশাসন স্বীকার করেই তা করতে হয়। সে জন্যই ইসলামী অর্থনীতি পাশ্চাত্য ধরনের অর্থনীতি নয়।

এ কাঠামোর শাসন-অনুশাসনকে স্বীকৃতিদানে প্রথম পদক্ষেপ হলো মানুষের ভিন্নধর্মী ভূমিকাকে বাস্তব বলে গ্রহণ করা। ইসলামী অর্থনীতিতে মানুষের ভূমিকা পূর্ণ-মানুষ হিসেবে। মানুষ শুধু শ্রম নয়। শ্রমের পরিমাণ বা শ্রমশক্তিই মূল্য বা মর্যাদার উৎস নয়। মানুষের ভূমিকা কেন্দ্রীয় শক্তি-যে শক্তি মানুষকেও গড়ে, সমাজকেও গড়ে, আবার অর্থনীতিকেও গড়ে।

মনোবল, বুদ্ধিবল, জ্ঞানবল, উদ্যোগবল এবং শ্রমবল মিলিয়ে মানুষ এসব গড়ে। আর তার ফলেই গড়া হয়ে যায় সভ্যতা আর অ ইতিহাস আর তারই উপযোগী হয় মানুষের কাজকর্ম ও আচরণ। সে কা আচরণ কাঠামোভুক্ত থেকেই হয় সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং কাজকর্ম ও আচরণ। তারই মধ্যে প্রতিফলিত হয় এবং প্রবাহিত হয় প্রক্রি প্রগতির স্রোতধারা। মানুষ ও স্রোতধারার নির্মাণকর্তা আবার নির্মিত প্রতিনিধি; বিশ্ব স্রষ্টা আল্লাহর প্রতিনিধি। বিশ্ব স্রষ্টার প্রতিনিধিত্ব করতে হয় বিশ্ব স্রষ্টার বিধানের প্রয়োগ সাহায্যে আর প্রকৃতির শক্তি, প্রাকৃতিক সম্পদ ও মানব সম্পদকে বিশ্ব স্রষ্টার

আর্থ-সামাজিক তাৎপর্য

বর্তমান পরিস্থিতিতে মুসলিম উম্মাহ্র জন্য আয়াতটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান বিশ্বের অমুসলিম বৃহৎ শক্তিগুলো বাহ্যতঃ আলাদা আলাদা শক্তি। কিন্তু মুসলমানদের বিরুদ্ধে "তারা নিজেরা একে অপরের বন্ধু।” অপরদিকে মুসলিম উম্মাহর অবস্থা অত্যন্ত করুন। কোন মুসলিম দেশ খৃষ্টানদেরকে বন্ধু বানিয়েছে, কেউ ইহুদীদেরকে বন্ধু করে নিয়েছে। আবার কেউ খোদা-দ্রোহী নাস্তিক বিশ্বের বন্ধুত্বের আশ্রয় নিয়েছে। শুধু তাই নয়, বরং এক মুসলিম দেশ অন্য মুসলিম দেশের স্বার্থের হানি করে অমুসলিমদের প্রতি বন্ধুত্বের হাত প্রসারিত করে আছে। এ ভাবে এক একটি মুসলিম দেশ কোন না কোন অমুসলিম শক্তির সংগে তথাকথিত বন্ধুত্বের চুক্তিতে আবদ্ধ হয়ে তাদের লেজুড় হয়ে ঝুলছে।

এরূপ বন্ধুত্বের অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক পরিণতি ভয়াবহ। আমরা শুধু অর্থনৈতিক ব্যাপারেই এখানে আলোচনা করব।
কোন কোন মুসলিম রাষ্ট্রের সরকার নিজ ক্ষমতা ও ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য অমুসলিম শক্তির সংগে অসম ক্ষতিকর অর্থনৈতিক চুক্তি ও বন্ধুত্বে আবদ্ধ হতে দেখা যায়। এতে করে সংশ্লিষ্ট সরকারের ক্ষমতা হয়তো কিছুটা দীর্ঘায়িত হয়, কিন্তু দেশের মুসলিম জনতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ভাবে অমুসলিম দেশের সংগে গোপন আঁতাত ও বন্ধুত্ব করার জন্য দেশের মুসলিম জনতা অর্থনৈতিক শোষণের শিকার হয়। অর্থনৈতিক দিক দিয়ে যে সব দেশের সংগে সীমান্ত-বাণিজ্য চুক্তি ও মুসলিম দেশে উৎপন্ন রপ্তানী-যোগ্য দ্রব্যের রপ্তানীর চাবিকাঠি অন্যের হাতে তুলে দেয়া, মুসলিম উম্মাহ্র স্বার্থের হানি করে অমুসলিম শক্তির সংগে অর্থনৈতিক চুক্তি করা ইত্যাদির বেলায় আলোচ্য আয়াতের নির্দেশ প্রযোজ্য।